‘এক জনকে ছেড়ে আরেক জনকে ধরলে জীবনে সুখ পাবে না’, নুসরতকে খোলা চিঠি তসলিমার

২০১৯এ সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে বিয়ে! ২০২০ তেই ছাড়াছাড়ি, আবার ২০২১এই নতুন প্রেমিককে নিয়ে গুঞ্জন এবং এই বছরেই হবু সন্তানকে নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা! অভিনেত্রী নুসরাত জাহানের (Nusrat Jahan) ব্যক্তিগত জীবন বিগত তিন বছর ধরেই সাধারণের চর্চার বিষয়বস্তু হয়ে রয়েছে। স্বামী নিখিল জৈন (Nikhil Jain) তার সন্তানের পিতৃপরিচয় অস্বীকার করেছেন! তারা নাকি বিগত ৬ মাস ধরেই আলাদা রয়েছেন। অতএব এই সন্তান তার হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

গত ৪ঠা জুন, অভিনেত্রীর (Nusrat Jahan) সন্তানসম্ভাবনার কথা প্রথম নেট মাধ্যমে তুলে ধরে আনন্দবাজার পত্রিকা। এরপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। তবে টলিপাড়া কিন্তু এই বিষয়ে একেবারেই নিশ্চুপ। এমনকি নুসরাতও আপাতত মুখে কুলুপ এঁটে বসে রয়েছেন। এত নীরবতার মাঝে এবার নেট দুনিয়ায় নুসরাতের সম্পর্কে কলম ধরলেন প্রখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)।

তার মতে, “এই যদি পরিস্থিতি হয়, তবে নিখিল আর নুসরতের ডিভোর্স হয়ে যাওয়াই কি ভালো নয়? অচল কোনও সম্পর্ক বাদুড়ের মতো ঝুলিয়ে রাখার কোনও মানে হয় না। এতে দু’পক্ষেরই অস্বস্তি”। নুসরাতের প্রতি তার পরামর্শ, নারী সচেতন এবং স্বনির্ভর হলে সন্তানের প্রতিপালন এবং অভিভাবকত্বের জন্য পিতৃপরিচয়ের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয় না। নুসরাত যেন নিজের সন্তানকে সেইভাবেই বড় করে তোলেন।

তসলিমার লেখনী মানেই বিস্ফোরণ! ধর্ম এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণের তুলনায় কিছুটা আলাদা। প্রচলিত সমাজের ভিন্ন মত পোষণ করার জন্য লেখিকাকে ছাড়তে হয়েছে তার নিজের দেশ। বারংবার খুনের হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তার যাত্রা। তাই তিনি যে নিখিল এবং নুসরাতের বিয়ের খবরে সন্তুষ্ট হবেন, এমনটাই তো স্বাভাবিক। তবে হালফিলে নুসরাতের ব্যক্তিগত জীবনে যা কিছু ঘটে চলেছে, তাতে মোটেই আশাবাদী নন লেখিকা।

তিনি তার পোস্টেটিতে লিখেছেন, “যখন নুসরত আর নিখিল বিয়ে করলেন, বেশ আনন্দ পেয়েছিলাম। ঠিক যেমন আনন্দ পেয়েছিলাম, সৃজিত আর মিথিলা যখন বিয়ে করেছিলেন। অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করি বলে দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে বিয়ে হলে খুব স্বাভাবিক কারণেই পুলকিত হই”। তবে নুসরাত এবং নিখিলের সম্পর্কের এই পরিণতিতে তিনি হতাশ। অপরপক্ষে নিখিলকে ছেড়ে যশের সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়া নিয়েও বেশ আপত্তি রয়েছে তার।

তসলিমা তার কলমে লিখেছেন, “নিখিল এবং যশের মধ্যে কী এমন আর পার্থক্য! পুরুষ তো শেষ পর্যন্ত পুরুষই। এক জনকে ত্যাগ করে আরেক জনকে বিয়ে করলে খুব যে সুখময় হয়ে ওঠে জীবন, তা তো নয়”। প্রসঙ্গত, নুসরাতের সঙ্গে তসলিমার ব্যক্তিগত কোনও আলাপ নেই। ডিকশনারি ছবিতে নুসরাতকে প্রথম দেখেন তিনি। সেই ছবিতে নুসরাতকে প্রথম দেখেই তসলিমার তাকে বেশ “আত্মনির্ভর” বলে মনে হয়েছিল। হলিউডের অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে তার মিল খুঁজে পেয়েছিলেন। এহেন অভিনেত্রীকে লেখিকার পরামর্শ, “স্বাধীনচেতা নারীর কাঙ্ক্ষিত পুরুষ কল্পনায় থাকে, বাস্তবে নয়”!