প্রেম করে বিয়ে, ২৫ বছরের দাম্পত্যের পর বিচ্ছেদ, কেন আলাদা হয়েছিলেন তরুণ মজুমদার ও সন্ধ্যা রায়

মুখখানা কতদিন ভালো করে দেখিনি, স্বামীকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন সন্ধ্যা রায়

Tarun Majumdar and Sandhya Roy Unnown Love Story

৯১ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন টলিউডের কিংবদন্তি পরিচালক তরুণ মজুমদার। তার মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ গোটা বাংলা সিনে ইন্ডাস্ট্রি। পিতৃসম মানুষটিকে হারিয়ে দারুণ মন খারাপ মৌসুমী চ্যাটার্জি, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, দেবশ্রী রায়দের। তিনি নিজের হাতে গড়েছিলেন বাংলা সিনে ইন্ডাস্ট্রির একাধিক নায়ক-নায়িকাকে। এমনকি তার প্রেমিকা তথা প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধ্যা রায়কেও নায়িকা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে তুলতে তার ভূমিকা ছিল।

একাধারে সন্ধ্যা রায়ের প্রেমিক, স্বামী এবং গুরু ছিলেন তরুণ মজুমদার। সাল যখন ১৯৬৫, তখন সন্ধ্যাকে নায়িকা করে ‘একটুকু বাসা’ এবং ‘আলোর পিপাসা’ নামের দুটি ছবি বানিয়েছিলেন তরুণ মজুমদার। দুটি ছবিতে নায়ক ছিলেন যথাক্রমে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং বসন্ত চৌধুরী। এরপর সন্ধ্যাকে নিয়ে তিনি পরপর আরও বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ছবি বানান।

তরুণ মজুমদার এবং সন্ধ্যা রায়ের জুটিতে ঠগিনী, ফুলেশ্বরী, পলাতক, নিমন্ত্রণ, কুহেলি, সংসার সীমান্তের মত ছবির জন্ম হয়েছিল। এছাড়া ‘বালিকা বধূ’, ‘দাদার কীর্তি’, ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’ এর মত তরুণ মজুমদারের একাধিক ছবিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সন্ধ্যা।

ষাট-সত্তরের দশকে তরুণ মজুমদার এবং সন্ধ্যা রায়ের জুটি একদিকে যেমন টলিউডে সুপারহিট ছবির জন্ম দিচ্ছিল, অন্যদিকে তেমনই তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে। যার পরিণতি হয়েছিল বিয়ে। ২৫ বছর সুখী দাম্পত্য কাটিয়েছিলেন তারা। তবে তারপর শেষ জীবনে এসে তারা আলাদা হয়ে যান।

তবে এই বিচ্ছেদ কার্যত মনের দূরত্ব বাড়াতে পারেনি। তাইতো তরুণ মজুমদারের অসুস্থতার খবর পেয়েই নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত ঠাকুরঘরে ঠায় বসে থেকেছেন সন্ধ্যা। তবুও শেষ রক্ষা হল না। কাছের মানুষটার মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন টলিউডের এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।

প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন,‘‘কী অসম্ভব প্রাণপ্রাচুর্য ছিল। কী অসম্ভব কাজপাগল ছিলেন। অনেক দিন সে ভাবে যোগাযোগ নেই। কিন্তু তাঁর সব খবরাখবরই পেতাম। বড্ড শখ ছিল, শচীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জনপদবধূ’ উপন্যাস নিয়ে ছবি বানাবেন। নায়িকা হিসেবে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ওঁর প্রথম পছন্দ ছিলেন। পাশাপাশি, ছবিতে নাচের ভূমিকাও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ছবিটা আর করা হয়ে উঠল না।’’ ‘‘কতদিন ওর মুখটা দেখতে পাইনি!’’, আক্ষেপ ঝরে পড়ছে সন্ধ্যার কন্ঠে।