নিজের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান নিজেই করলেন তান্ত্রিক, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটলো অস্বাভাবিক ঘটনা

শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান ব্যাক্তির মৃত্যুর পরেই হবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোনোদিন শুনেছেন কোনো জীবিত ব্যাক্তি নিজেই নিজের শ্রাদ্ধশান্তি করছেন? হ্যা এরকমটাই করেছিলেন উত্তর দিনাজপুরের (North Dinajpur) হেমতাবাদের এক তান্ত্রিক। এই ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটলো এক অস্বাভাবিক ঘটনা।

রহস্যময় ভাবে মৃত্যু ঘটলো সেই তান্ত্রিকের, নাম অবিনাশ বর্মন। উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের বারুইবাড়ির জালিপাড়ার বাড়ি থেকে গত শনিবার সকালে এই বছর পচিশের যুবকের দেহ উদ্ধার হয়।

এই ঘটনার জেরে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ এবং মৃতদেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।তবে প্রাথমিকভাবে জানা যায় শরীরে কোনও আঘাতের দাগ পাওয়া যায়নি তার।

অন্যদিকে শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল হাসপাতাল থেকে দেওয়া ময়নতদন্তের রিপোর্টেও বিশেষ কিছু মেলেনি বলেই জানানো হয়েছে।মৃত্যুর সম্ভাব্য কারন মনে করা হচ্ছে হৃদরোগ।তবে সঠিক তদন্তের খাতিরে মৃতদেহ ভিসেরা পরীক্ষার জন্য কলকাতার ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হতে পারে বলেই জানা যাচ্ছে।

মৃত অবিনাশ বর্মন পেশায় তান্ত্রিক ছিলেন। তাঁর অন্তত সাড়ে চার হাজার ভক্ত ছড়িয়ে রয়েছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে। শনিবার তাঁর এই অস্বাভাবিক মৃত্যুতে বিস্মিত তাঁরাও। যুবকের মা গিতারানী জানিয়েছেন যে, গত সপ্তাহের বৃহষ্পতিবার অবিনাশ নিজেই বাড়ির উঠোনে পুরোহিত ডেকে তার নিজের শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান করেছিলেন।

শুধু তাই নয়, প্রতিবেশীদের কিছুজনকে ডেকে দই-চিঁড়ে আর ভাত-ডাল খাওয়ায় সে। এরপরেই সন্ধ্যেবেলা নিজের ঘরে গিয়ে দরজা দেয় সে, রাতেও খায়নি কিছুই।তারপর সকালে গিতারানী দেবী দেখেন ঘরেন দরজা খোলা কিন্তু ডাকাডাকি করেও যুবকের কোনো উত্তর না পেয়ে প্রতিবেশীদের খবর দেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যাচ্ছে তিনিই প্রথম নন। বছর ছাব্বিশ আগে অবিনাশের ঠাকুমা আশুবালাদেবীও একইভাবে নিজের শ্রাদ্ধ ক্রিয়া সম্পন্ন করেন এবং তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। প্রশ্ন উঠছে, মৃত্যুর আগেই কি কোনও সংকেত পেয়েছিলেন তারা?

অবিনাশের বাবা মণিকৃষ্ণ বর্মন পেশায় রাজমিস্ত্রি। চার ছেলের মধ্যে সবথেকে ছোট ছিলেন অবিনাশ। শনিবার সকালে ছেলেকে ঘরে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। তিনি জানান,কিছুদিন আগে তার ছেলে তাকে জানায় স্বেচ্ছায় মারা যেতে চান তিনি। কিন্তু সত্যিই যে এমনটা হবে তা ভাবতে পারেননি মণিকৃষ্ণ বাবু। একইভাবে মণিকৃষ্ণ বাবুর মায়ের মৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করেন তিনিও।