স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে অজানা ৭ তথ্য, পড়লে গায়ে কাঁটা দেবে

নিজের মৃত্যুর তারিখ জানতেন! রইল স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে ৭ অজানা তথ্য

আজ ১২ ই জানুয়ারি, স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) ১৬২ তম জন্মদিন। দিনটা গোটা দেশ জুড়ে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালন হয়। সকাল থেকেই স্বামীজীর নামে নানা কর্মসূচি চলছে তাকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার জন্য। তার জীবন দর্শন, বাণী ও উক্তি (Quotes) আজও সমৃদ্ধ করে মানুষকে। সেই সঙ্গে তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জানা-অজানা বহু রহস্যময় ঘটনা। আজকের এই প্রতিবেদনে রইল স্বামীজির সম্পর্কে অজানা কিছু কথা।

পড়াশোনায় কেমন ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ?

নরেন্দ্রনাথ দত্ত ওরফে স্বামী বিবেকানন্দ এন্ট্রান্স, এফএ এবং বিএ পরীক্ষায় পাশ করেছিলেন। এফএ এবং বিএ পরীক্ষাতে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। এন্ট্রান্সে ইংরেজিতে ৪৭, এফএতে ৪৬ এবং বিএতে ৫৬ নম্বর পেয়েছিলেন। ইংরেজি কথনে তার ছিল অপার দক্ষতা।

Swami Vivekananda

খাদ্য রসিক ও রন্ধনে সিদ্ধহস্ত ছিলেন

স্বামীজি নিজে যেমন খেতে ভালোবাসতেন তেমন খাওয়াতেও খুব ভালোবাসতেন। রান্না করে খাইয়েছিলেন ভগিনী নিবেদিতা সহ নিজের শিষ্যদের। সন্ন্যাসী হলেও আমিষ-নিরামিষের বাছবিচার ছিল না তার। মাছের মধ্যে ইলিশ আর গলদা চিংড়ি ছিল তার প্রিয়। খাবার-পাতে কাঁচালঙ্কা না হলে চলত না। তিনি ধূমপান করতেন। তার কথায়, “আমি প্রচুর খেতে পারি আবার একেবারে না খেয়েও থাকতে পারি। অবিরাম ধূমপান করি আবার তাতে সম্পূর্ণ বিরত থাকতেও পারি।”

বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এক বিদেশিনী

স্বামীজীর আদর্শে মুগ্ধ হয়ে এক বিদেশী মহিলা স্বামীজিকে বিয়ে করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। তিনি স্বামীজির কাছে গিয়ে বলেন, “আমি তোমাকে দেখে মুগ্ধ। তুমি খুব জ্ঞানী এবং প্রতিভাবান। আমি চাই আমার ছেলে ঠিক তোমার মত হোক। তাই তোমাকে বিয়ে করতে চাই।” এর উত্তরে স্বামীজি তাকে বলেন, “আমি আপনাকে বিয়ে না করতে পারলেও আপনার ইচ্ছে পূরণ করতে পারব। আপনি আমাকে নিজের ছেলে মনে করবেন আর আমি আপনাকে মা। এতে আপনি আমার মত ছেলে পাবেন”।

Swami Vivekananda

মেয়েদের জন্য স্বামীজীর বাণী

১. ওঠো জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।
২. মেয়েরা কখনও নিজেদের দুর্বল ভাববেন না। সবচেয়ে বড় পাপ হল নিজেকে দুর্বল মনে করা।
৩. কখনও সংগ্রাম থেকে দূরে সরে যাওয়া উচিত নয়। সংগ্রামে জয় হবে মহান। বিজয় হবে সমান গৌরবময়।
৪. নারীরা সমাজের একটি অংশ। একটি সুন্দর সমাজের জন্য নারীদের শিক্ষিত হওয়া খুবই জরুরী।
৫. নারীদের এমন শিক্ষা দেওয়া উচিত যাতে তারা নির্ভয়ে দেশের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে।
৬. সর্বদা নিজেকে বিশ্বাস করা উচিত। আপনি নিজেকে বিশ্বাস না করলে ঈশ্বরও আপনাকে সাহায্য করতে পারবেন না।

যুব সমাজের জন্য বিবেকানন্দের ৭ বাণী

১. “এক দিনে বা এক বছরে সফলতার আশা করো না। কিন্তু সব সময় শ্রেষ্ঠ আদর্শকে ধরে থাকো।”
২. “সত্যকে হাজার আলাদা আলাদা উপায়ে বলা যেতে পারে, তারপরেও সব কিছু সত্যই থাকে। সত্যের জন্য সব কিছুকে ত্যাগ করা চলে, কিন্তু কোনো কিছুর জন্য সত্যকে ত্যাগ করা চলে না।”
৩. “নিজেদের বিপদ থেকে টেনে তোলো! তোমার উদ্ধার-সাধন তোমাকেই করতে হবে। ভীত হয়ো না। বারবার বিফল হয়েছো বলে নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। কাল সীমাহীন, অগ্রসর হতে থাকো, বারবার তোমার শক্তি প্রকাশ করতে থাকো, আলোক আসবেই।”
৪. “কখনও বলো না, আমি করতে পারব না। তুমি অনন্ত এবং সব শক্তি তোমার ভিতর আছে, তুমি সব কিছুই করতে পারো। সব শক্তিই তোমার মধ্যে আছে সেটার উপর বিশ্বাস রাখো, এটা বিশ্বাস করবে না যে তুমি দুর্বল। দাঁড়াও এবং আপনার মধ্যেকার দৈবত্বকে চিনতে শেখ।”
৫. “কোন জীবনই ব্যর্থ হইবে না, জগতে ব্যর্থতা বলিয়া কিছু নাই। শতবার মানুষ নিজেকে আঘাত করিবে, সহস্রবার হোঁচট খাইবে, কিন্তু পরিণামে অনুভব করিবে, সে ঈশ্বর।”
৬. “যেই রকম আপনি ভাববেন ঠিক সেইরকমই আপনি হয়ে যাবেন। যদি আপনি নিজেকে দুর্বল হিসাবে বিবেচনা করেন, তাহলে আপনি দুর্বল হয়ে যাবেন। আর আপনি যদি নিজেকে শক্তিশালী মনে করেন, তাহলে আপনি শক্তিশালী হয়ে উঠবেন।”
৭. “মনের মতো কাজ পেলে অতি মূর্খও করতে পারে। যে সকল কাজকেই মনের মতো করে নিতে পারে, সেই বুদ্ধিমান। কোনও কাজই ছোট নয়।”
৮. “যে রকম বীজ আমরা বুনি, সে রকমই ফসল আমরা পাই। আমরাই আমাদের ভাগ্য তৈরী করি, তার জন্য কাউকে দোষারোপ করার কিছু নেই, কাউকে প্রশংসা করারও কিছু নেই।”

আরও পড়ুন : ন়গ্ন মহিলাদের সঙ্গে স্নান থেকে শোওয়া, গান্ধীজি আর কী কী করতেন ব্রহ্মচর্যের সময়?

নিজের মৃত্যুর দিন টের পেয়েছিলেন স্বামীজি

১৯০২ সালের ৪ঠা জুলাই স্বামীজীর মৃত্যু হয়। নিজের মৃত্যুর দিন নাকি তিনি আগে থেকেই জানতেন। মৃত্যুর এক বছর আগে তিনি নিজের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন শিষ্যদের। বলেছিলেন তিনি আর এক বছর বাঁচবেন। মৃত্যুর ২ মাস আগে তিনি বলেন, “আমার মৃত্যু শিয়রে। কাজকর্ম ও খেলা ঢের করা গিয়েছে।” মৃত্যুর ৩ দিন আগে তিনি সেবকদের আঙুল দেখিয়ে বলে দেন কোথায় তার দেহ সৎকার করতে হবে।

আরও পড়ুন : জীবনে সুখে ও আনন্দে থাকতে হলে মেনে চলুন শ্রীরামকৃষ্ণের ৬টি উপদেশ

মৃত্যুর দিন অর্থাৎ ৪ ঠা জুলাই সন্ধ্যা ৭ টা নাগাদ স্বামীজি নিজের ঘরে গিয়ে মালা জপ করতে শুরু করেন। ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ তিনি সেবককে বলেন পা টিপে দিতে। একসময় শিশুর মত কাঁদতে শুরু করেন তিনি। এরপর ৯ টা ০২ থেকে ৯ টা ১০ মিনিটের মধ্যে তার প্রয়াণ ঘটে।