বর্তমানে সবচেয়ে বড় রহস্যে অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু। তিনি কি সুইসাইড করেছিলেন নাকি রয়েছে অন্য কোনও কারণ? গোটা দেশ থেকে আওয়াজ উঠছে সুশান্ত-মৃত্যুর দায়িত্ব সিবিআই’য়ের হাতে তুলে দেওয়ার। অবশ্য মুম্বই পুলিশের তরফে আবেদন করা হয়েছে, তাঁদের উপর যেন ভরসা করা হয়।

মুম্বই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিনেতার মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে এখনও পর্যন্ত ২৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছেন পরিচালক শেখর কাপুর। তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। সুশান্তের শেষ সিনেমা ‘দিল বেচারা’র অভিনেতার সহকর্মী সঞ্জনা সঙ্ঘীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তদন্তের শুরুর দিকেই মুম্বই পুলিশ জানিয়েছিল, ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন অভিনেতা। জেরা করা হয়েছে তাঁর চিকিৎসক ও প্রেমিকাকেও। পুলিশ জানিয়েছেন, পরিচালক শেখর কাপুরের বয়ানও রেকর্ড করা হবে বলিউড ইন্ডাস্ট্রির হালহাকিকত বোঝার জন্যে।

এই পরিস্থিতিতে বারবার অবশ্য মুম্বই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তদন্তে গড়িমসি, তথ্য গোপনের অভিযোগও উঠছে। বাধ্য হয়ে দিন কয়েক আগেই মুম্বইয়ের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অভিষেক ত্রিমুখী বলেন, ‘দয়া করে আপনারা আমাদের উপর ভরসা রাখুন। আমরা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে এই তদন্তের দায়ভার সামলাচ্ছি। সময় মতো আপনাদের সব তথ্য দেবে আমরা। সুশান্তের মৃত্যু রহস্যের যাবতীয় সত্যতা আপনাদের সামনে তুলে ধরা হবে।’

তরুণ অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার পর থেকেই উঠে আসছে বিভিন্ন প্রশ্ন। মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে সত্যিই কি আত্মহত্যাই করেছিলেন তিনি নাকি পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে তাকে? যে বিষয়গুলি নিয়ে ধন্ধ তৈরি হয়েছে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো।

সুশান্ত সিং রাজপুত মৃত্যুর পরই তার মৃতদেহের ফোটো ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই ফটোর ভিত্তিতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ উঠছে যে, কোনও ব্যাক্তি যদি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন সেক্ষেত্রে তার গলায় যেরকম দাগ থাকার কথা।

কিন্তু সেইরকম দাগ সুশান্তের গলায় দেখা যায়নি বরং সুশান্তের গলায় গোল দাগ দেখা গেছে যা সাধারণত যদি কেউ জোর করে পেছন দিক থেকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করে সেক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। শুধু তাই নয় তার গলায় যে দাগটি ছিল তা থায়রয়েড কর্টিলেজের নীচে ছিল কিন্তু কেউ যদি নিজেই ঝুলে আত্মহত্যা করেন সেক্ষেত্রে সেই দাগটি অনেকটা ওপরের দিকে থাকে।

যখন কেউ নিজেই নিজেকে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন সেক্ষেত্রে তার চোখ অনেক বড় বড় হয়ে বাইরের দিকে বেরিয়ে আসে কিন্তু সুশান্তের চোখ বন্ধ ছিল!

সুশান্ত কোনোভাবেই বা হাতি ছিলেন না কিন্তু যে বস্তুটির দ্বারা তিনি ফাঁস লাগিয়েছিলেন সেই বস্তুটিতে তার বাঁ হাতের তিনটি আঙ্গুলের ছাপ পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে একটাই সম্ভাবনা তৈরি হয় যে যখন সেই ব্যাক্তি তাকে পেছন দিক দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করার চেষ্টা করছিল তখন তিনি বা হাত দিয়ে সেটিকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। এক্ষেত্রে সম্ভব সেই ব্যাক্তি তার ডান হাত চেপে রেখেছিলেন।কারণ যিনি বা হাতি নন তার পক্ষে কোনোভাবেই বা হাত ব্যবহার করে ফাঁসি দেওয়া সম্ভব নয়।

একজন তারকার বাড়ির ডুপ্লিকেট চাবি হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও এক্ষেত্রে উঠে আসছে। কারণ একজন তারকা যখন বাড়ি থাকেননা কাজের সুত্রে, তখন পরিচারক পরিচারিকারা নিশ্চই সেই চাবি ব্যবহার করেই তার ঘর গুছিয়ে দিতেন! এক্ষেত্রে উঠে আসছে আরেকটা প্রশ্ন, তালা ভাঙার জন্য লোক ডেকে আনা শুধুমাত্র সেইজন্যই ছিলনা তো যাতে এটা প্রমাণ হতে পারে যে বাইরে থেকে আসা সেই ব্যাক্তিই প্রথম তাকে দেখেছিলেন! এবং আগের থেকেই জানা ছিল যে তিনি মৃত?

যেদিন তার মৃত্যু হয়েছিল সেইদিন সব চ্যানেলে সুশান্তের মৃত্যুর সাথে তার ম্যানেজারের মৃত্যুর বিষয়টি যুক্ত করে দেখা হচ্ছিল কিন্তু হঠাৎ করে সব চ্যানেল সেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বন্ধ করে দেয় এবং সম্পূর্ণ বিষয়টি নেপটিসম এর দিকে ঘুরে যায়! তাহলে কি সংবাদমাধ্যম গুলোকে কোনো চাপ দিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া হলো?

কিছু সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট অনুযায়ী তিনি এবং তার সেক্রেটারি কয়েক মাস আগে কিছু টাকা ইনভেস্ট করে একটি ওয়েব সিরিজের কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন যে বলিউডে অনেক ছবি তার হাত থেকে ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে। সেই জন্যই তিনি ওয়েব সিরিজে টাকা ইনভেস্ট করেন। এরকম আশাবাদী মানসিকতার মানুষ কি সত্যিই আত্মহত্যা করতে পারেন? সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠছে প্রশ্ন।

ভাইসেরা রিপোর্ট নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তার মৃত্যুর পর বলা হয় তার দেহ পোস্ট মর্টাম এবং ভায়সেরা টেস্ট দুটির জন্যই দেওয়া পাঠানো হবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুধু পোস্ট মরটাম রিপোর্টই সামনে এসে এবং সেখানে মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাস রোধের কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু কেউ যদি জোর করে তার শ্বাস রোধ করেন সেক্ষেত্রেও কিন্তু সেটা সম্ভব, মৃত্যুর সময় এখনও অজানা। কিছু কি লুকোনোর চেষ্টা চলছে?

তার মৃত্যুর আগেরদিন রাতে তার কমপ্লেক্সের সব সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যায়। পরিচারিকা বলেন যে তিনি একটি জুসের গ্লাস নিয়ে সুশান্তের ঘরে যান, গ্লাসটি কোথায়?

আরও পড়ুন :- এই ৭টি ছবির অফার সুশান্তের কাছে এলেও চলে যায় অন্য নায়কের কাছে

সুশান্তের বাবা জানান যে, তার ছেলে কোনরকম ডিপ্রেশনের ওষুধ খাচ্ছে বলে তিনি জানতেন না এবং অন্যদিকে সুশান্তের ম্যানেজার বলেন আত্মহত্যার বেশ অনেক সপ্তাহ আগে থেকেই তিনি ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে চোখের সামনেই ওষুধ পায় পুলিশ। অনেকদিন আগে খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া ওষুধ কি চোখের সামনে রাখা থাকা স্বাভাবিক?

সুশান্ত যেটা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়েছিলেন সেটায় বাম হাতের তিন আঙ্গুলের ছাপ আছে কিন্তু তিনি বাম হাতি ছিলেন না, তাহলে তিনি কিভাবে বাম হাত ব্যবহার করে গিঁট বাঁধবেন? এটা তখনই সম্ভব যদি কেউ পিছন থেকে ঘাড়ে কিছু বেঁধে আটকে রাখার চেষ্টা করেন।