সংসারে চরম অভাব, অর্থ নয় চাইলেন কাজ, মূল্যবোধে অনড় জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী

Surekha Sikri

১৬ই জুলাই, শুক্রবার, সকাল সকাল সুদূর মুম্বাই থেকে ভেসে এল একটি দুঃসংবাদ। প্রয়াত হয়েছেন ‘বালিকা বধূ’র ‘দাদিসা’! দীর্ঘদিন শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে জীবনের কাছে হার মেনে নিলেন ছোট পর্দার সবার প্রিয় ঠাকুরমা। যদিও সুরেখা সিক্রির (Surekha Sikri) অভিনয় জীবন শুধু টেলিভিশনের পর্দাতেই সীমিত ছিল না। তার গুণের কদর করতো সমগ্র বলিউড (Bollywood)। তিন তিনবার জাতীয় পুরস্কার উঠেছে যার ঝুলিতে, শেষ বয়সে চরম অর্থাভাবে পড়তে হয়েছিল তাকে।

১৯৪৫ সালে উত্তরপ্রদেশে ভারতীয় বায়ুসেনার এক পাইলটের ঘরে জন্ম হয় সুরেখার। আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ভর্তি হন ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায়। তবে জানলে হয়তো অবাক হবেন, সুরেখা সিক্রি তার প্রথম জীবনে কখনোই অভিনেত্রী হতে চাননি। তিনি লেখালেখি করতে ভালোবাসতেন। মনে মনে সাংবাদিক হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করতেন। তবে নাসিরুদ্দিন শাহ এসে বদলে দিলেন তার জীবনের গতিপথ।

Surekha Sikri Young Age

সুরেখার সৎবোন মানারা সিক্রি ওরফে পারভিন মুরাদ নাসিরউদ্দিন শাহের প্রথম স্ত্রী। বলিউড অভিনেতার সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক হওয়ার পর থেকেই অভিনয়ের প্রতি টান অনুভব করেন সুরেখা। দিল্লির থিয়েটার মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। নাসিরুদ্দিন শাহ, ওম পুরীর সঙ্গে নাটকও করার সুযোগ পেয়েছেন। তবে অভিনেত্রী হিসেবে নিজের জায়গা করে তোলার ক্রেডিট তিনি বারবার নাসিরুদ্দিন শাহকেই দিয়েছেন।

১৯৭৮ ‘কিসসা কুর্সি কা’ ছবিতে অভিনয় করে বলিউডে পা রাখেন সুরেখা। ‘পরিণতি’, ‘নজর’, ‘সরদারী বেগম’, ‘সরফরোশ’, ‘জুবেইদা’, ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার’, ‘রেনকোট’, একের পর এক ছবিতে কাজ করে বলিউডে নিজেকে সু-অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। ‘মাম্মো’, ‘তামস’ আর ‘বাধাই হো’, তাকে শ্রেষ্ঠ সহঅভিনেত্রী হিসেবে এনে দিয়েছে তিন তিনটি জাতীয় পুরস্কার।

Surekha Sikri National Award

বলিউড ছাড়াও হিন্দি টেলিভিশন মাধ্যমেরও একাধিক ধারাবাহিকে তার কাজ প্রশংসিত হয়েছে। ‘এক থা রাজা এক থি রানী’, ‘পরদেশ মে হ্যায় মেরা দিল’, ‘মা এক্সচেঞ্জ’, ‘সাত ফেরে’, ‘বালিকা বধূ’, ‘ইন্দুমতি লালা মেহরা’, ‘মহা কুম্ভ: এক রহস্য’, ‘এক কাহানি’, ‘বনেগি অপনি বাত’, ‘কেসর’, ‘কেহনা হে কুচ মুঝকো’, ‘শহর’, ‘সময়’, ‘সিআইডি’, ‘জাস্ট মহাব্বত’ তার মধ্যে অন্যতম। জোয়া আখতার পরিচালিত নেটফ্লিক্সের অ্যান্থলজি ‘ঘোস্ট স্টোরিজ’ ছিল তার শেষ কাজ। তিনি বিয়ে করেছিলেন হেমন্ত রেগকে। তাদের পুত্র সন্তানের নাম রাহুল সিক্রি।

প্রসঙ্গত, সুরেখা বরাবর মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। শেষ জীবনে বেশ কিছু দিন অসুস্থ হয়েছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে মহাবালেশ্বরে শুটিংয়ের সময় পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান সুরেখা। সেই সময় তার প্রথম ব্রেন স্ট্রোক ধরা পড়ে। তাতে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। এরপর ২০২০ সালে আবারও ব্রেন স্ট্রোক হয় তার। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ছিল প্রচুর অর্থ। তবে সুরেখা কখনো কারোর কাছে হাত পেতে অর্থ নিতে চাননি। তিনি কাজ চেয়েছিলেন। শারীরিক অসুস্থতা তো ছিলই। বিগত কয়েক মাস ধরেই শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। গতকাল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন সুরেখা সিক্রি। তার প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গেই বলিউডের একটি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হলো।