সাড়ে তিন বছরে ডেবিউ! পাঁচ বছরেই সেরা শিশুশিল্পীর খেতাব পেল সুদীপ্তা চক্রবর্তীর মেয়ে

টলিউড (Tollywood) অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীকে (Sudipta Chakraborty) কে না চেনেন? নেটিজেনরা ইতিমধ্যেই তার মেয়েকেও চিনতে শুরু করেছেন। মেয়ের বয়স এখন মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর। কিন্তু এই বয়সের মধ্যেই সিনেমা জগতে ডেবিউ করে ফেলেছে সুদীপ্তা চক্রবর্তীর মেয়ে ছোট্ট শাহিদা নীরা (Shahida Nira)। মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সেই ছবিতে কাজের সুযোগ পায় সে। আর প্রথম ছবিতেই সেরা শিশুশিল্পী হিসেবে পুরস্কার জিতে নিয়েছে শাহিদা। এই খুদে অভিনেত্রী এবার ছবির ডাবিংও করে ফেললো।

ছবির পর এখন বিজ্ঞাপনের কাজ শুরু করেছে শাহিদা। বৌদ্ধায়ন মুখোপাধ্যায় (Boudhdhayan Mukherjee) পরিচালিত একটি বিজ্ঞাপনের কাজে এবার ছোট্ট শাহিদাকে দেখা গেল শুটিং ফ্লোরে। বিজ্ঞাপনের ডাবিং করতে মায়ের সঙ্গে সে পৌঁছে গিয়েছিল স্টুডিওতে। সেখানে পরিচালকের তত্ত্বাবধানে ডাবিং সম্পন্ন করেছে এই খুদে। স্টুডিও থেকে কিছু ছবি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করে ফেলেছেন সুদীপ্তা। পরে ফেসবুকে সেই ছবি শেয়ার করেছেন তিনি।

সুদীপ্তার পোস্ট থেকে জানা গেল তার মেয়ে শাহিদা পরিচালক বৌদ্ধায়ন মুখোপাধ্যায়কে ‘বুদ্দি মামা’ বলে ডাকে। বাবার পাশে বসে স্টুডিওতে গিয়ে সে তার বুদ্দি মামার তত্ত্বাবধানে ডাবিং সম্পন্ন করছে। আবার একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে ছোট্ট শাহিদার জন্য আড়া ঘোড়া সেজেছে তার বুদ্দি মামা। এভাবেই হাসি ঠাট্টার মধ্যে খেলার ছলেই ডাবিং সম্পন্ন হয়েছে। শাহিদাও যে এই ডাবিং এক্সপেরিয়েন্স বেশ ভালোভাবেই উপভোগ করেছে তাও ছবি থেকে স্পষ্ট।

সুমন ঘোষ (Suman Ghosh)-এর পরিচালনায় ‘সার্চিং ফর হ্যাপিনেস’ ফিল্মে অভিনয় করে অভিনয় জগতে ডেবিউ করলো সুদীপ্তাকন্যা শাহিদা। এই ছবিতে শাহিদার মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তার নিজের মা সুদীপ্তাই। ওয়াশিংটন ডি সি এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ‍্যালে স্ক্রীনিং হয় ছবিটির। ওই অনুষ্ঠানে সেরা শিশু শিল্পীর খেতাব জিতে নেয় শাহিদা। সেই খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন পরিচালক সুমন ঘোষ।

শাহিদা সেরা শিশুশিল্পী হিসেবে মনোনীত হয়েছে এই খবর জানার পর পরিচালক নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে শুটিংয়ের সময়ের একটি স্টিল শেয়ার করেছিলেন। সুমনের পোস্টকেই নিজের ওয়ালে শেয়ার করে সুদীপ্তা। মেয়ের সাফল্যে তিনি নিজে বেজায় খুশি হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, এই ছবির শুটিংয়ের সময় শাহিদার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে তিন বছর। এখন তার বয়স সাড়ে পাঁচ। তবুও পুরস্কার জয়ের আনন্দ যে কী, তা তার শিশুসুলভ মন বোঝেনা।

লকডাউনের সময় তার বয়সী শিশুরা যেমন ঘরবন্দি ছিল, শাহিদাও তেমনই ঘরের মধ্যে বন্দি ছিল। ওই সময় কালে সুদীপ্তা তার মেয়েকে নাচ, গান এবং আবৃত্তির মধ্যে ব্যস্ত রাখেন। পুরস্কার জয়ের আনন্দে চারিদিকে তাকে নিয়ে এত মাতামাতি হলেও সে তার নিজের জগতেই আছে। সুদীপ্তাও মনে করেন, এত ছোট বয়সে তার উপর স্পটলাইট পড়াটা ঠিক নয়। তাই তিনি মেয়েকে তার মতো করেই বড় করতে চান। স্পটলাইট যেন মেয়ের শৈশব না কেড়ে নেয়!