ডাকাত এল ঘরে, মুখে কাপড় বেঁধে জ্যাঠাইয়ের ক্যাশবাক্স হাতালো গুনগুন

এতদিন খড়কুটো (Khorkuto) ধারাবাহিকে ছিল উৎসবের আমেজ। প্রথমে সৌগুনের বিয়ে, তারপর জ্যাঠাই এবং বড়মার বিবাহ বার্ষিকী, মিষ্টির সাধের অনুষ্ঠানের আসর ছিল জমজমাট। সব মিলিয়ে জ্যাঠাইয়ের পকেট থেকে কাড়ি কাড়ি টাকা বেরিয়ে গিয়েছে। হাড়কেপ্পন জ্যাঠাই তো আর একটি পয়সাও পকেট থেকে বের করতে নারাজ। এদিকে ‘পিসিমা’র নাতনির অন্নপ্রাশনে গোটা পরিবারের নেমন্তন্ন রয়েছে। বাড়ির সকলের ইচ্ছে, খুদেকে সোনার হার দেওয়া হোক। কিন্তু বেঁকে বসেছেন জ্যাঠাই। জ্যাঠাইয়ের দাবি, ১০০০ টাকা দিয়ে যা হোক কিছু দিলেই হলো! অত খরচা করা কেন?

জ্যাঠাই একমাত্র গুনগুনের কাছেই জব্দ। কিন্তু সেই গুনগুনকেও পাত্তা দিচ্ছেন না জ্যাঠাই। অতএব কি আর করা যাবে? নিজের বাড়িতে নিজেই ডাকাতি করা ছাড়া নিমন্ত্রণ বাড়িতে মুখ রক্ষার আর উপায় কী? হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। মুখার্জিবাড়িতে এবার ডাকাত পড়তে চলেছে। তবে এ কিন্তু যে সে ডাকাত নয়! এই হল রীতিমতো পটকা গ্যাংয়ের ডাকাত। গুনগুন এবং পটকারাই মুখে কাপড় বেঁধে ডাকাত সেজে চড়াও হতে চলেছে জ্যাঠাইয়ের উপর। এবার টাকা দিতেই হবে। কোনও ওজর আপত্তি শুনবে না এই ডাকাত দল। খড়কুটোর নতুন প্রোমোতে এমনই চমক রয়েছে দর্শকের জন্য।

এহেন প্রোমোটি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। প্রোমো প্রকাশ হতে না হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে তা। কী এমন আছে সেই মজার ভিডিওতে? ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ডাকাত সেজে এসেছে গুনগুন, পটকা, রুপাঞ্জন, ঋজু। জ্যাঠাইকে রীতিমতো চেয়ারের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে তারা। ‘ডাকাত রানী’ গুনগুন বন্দুক দেখিয়ে জ্যাঠাইকে বলছে, “মাল ছাড়ো। ক্যাশ বাক্স কই? চাবি কই? কোথায় লুকিয়ে রেখেছো?” পাশ থেকে ভজন বলে ওঠেন, “যা আছে দিয়ে দাও”। গুনগুনের ধমকে শেষমেষ চাবির মায়া ত্যাগ করতে বাধ্য হলেন জ্যাঠাই।

ক্যাশবাক্স খুলে কাড়ি কাড়ি টাকা পেয়েই গুনগুনের উচ্ছ্বাস, “মিল গেয়া”। এই উচ্ছ্বাস শুধু গুনগুনের একার নয়। জ্যাঠাইয়ের কবল থেকে টাকা হাতাতে পেরে উচ্ছ্বসিত পটকা, ঋজু, রুপাঞ্জনরাও। এমনকি বড়মা পর্যন্ত হাড় কেপ্পন স্বামীর এই দুরবস্থা দেখে হাসি সামলাতে পারলেন না। আদতে, তিনিই চেয়েছিলেন নিমন্ত্রণ বাড়িতে একটি সোনার হার দিয়ে আশীর্বাদ করবেন। পুটুপিসিরাও দিচ্ছে সোনার বালা। এমনকি রুপাঞ্জনরাও যেখানে সোনার টিকলি দিচ্ছে, সেখানে ১০০০ টাকা দিয়ে ওয়েলক্লথ আর দুধের বোতল দিয়ে কুটুম্বিতা রক্ষা করতে হচ্ছে কিপটে জ্যাঠাইয়ের জন্য!

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Star Jalsha (@starjalsha)

তবে এবার আর কোনও বাঁধাই রইলো না। চেয়ে না হোক, অন্ততপক্ষে ডাকাতি করে হলেও জ্যাঠাইয়ের গুপ্তধন হাতাতে পেরেছে গুনগুন। গুনগুনের এই সাফল্যে বড়মা বেশ খুশি। তাই দেখে জ্যাঠাই অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন, “তুমি হাসছো?” এমনিতে ডাকাত শব্দটা শুনলেই মনের ভেতরটা কেমন যেন গুড়গুড় করে ওঠে। তবে খড়কুটো ধারাবাহিকে রীতিমতো মজার ছলেই ডাকাতি করার আইডিয়াটা ব্যবহার করেছেন চিত্রনাট্য লেখিকা। আসলে মাঝে কিছুদিন ‘গুনগুনের ন্যাকামি’র দেখতে দেখতে রীতিমতো তিতিবিরক্ত হয়ে গিয়েছিলেন দর্শক। তবে যেদিন থেকে পর্দাই সৌজন্য এবং গুনগুনের পুনর্বিবাহ পর্ব শুরু হয়েছে, ধারাবাহিকের টিআরপি আবার বাড়তে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, ধারাবাহিকের গুনগুন এখন স্বামীর সঙ্গে হানিমুনে সময় কাটাতে ব্যস্ত। না, সৌজন্য নয়, বাস্তবে স্বামী নীল ভট্টাচার্যের সঙ্গে গোয়াতে ছুটি কাটাতে গিয়েছেন তৃণা সাহা। মাত্র ৬ মাস আগেই বিয়ে হয়েছে তাদের। ব্যস্ততম শুটিং শিডিউল থেকে সময় বার করে নিয়ে দুজনে তাই বেরিয়ে পড়েছেন সমুদ্র শহর ঘুরে দেখতে।