ভারত চিন যুদ্ধ বাধলে কতটা তৈরি ভারত, এক নজরে ভারতের অস্ত্র সম্ভার

করোনা আবহে বিপর্যস্ত দেশ ইতিমধ্যেই পুরোনো স্মৃতি উসকে দিয়ে লাদাখ সীমান্তে যুদ্ধের আস্ফালন চিনের। দেশের এই নাজেহাল অবস্থায় ‘হিন্দি চিনি ভাই ভাই’ স্লোগানের যে কোনো বাস্তবতা নেই তা প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে চিন। ভারতের সাথে চিনের এই ধুন্দুমার সম্পর্ক নতুন নয়। ২০১৭ সালেও ডোকলাম নিয়ে ভারত চিনের বিবাদ যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরী করেছিল। সেই সময় অবশ্য কূটনৈতিক স্তরে দু পক্ষের সমঝোতায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গিয়েছিল।

কিন্তু তিন বছর কেটে গেলেও পুরানি দুশমনি ভোলেনি চিন। চিনা প্রেসিডেন্টের নির্দেশে সীমান্তে যুদ্ধের জন্য তৈরী হচ্ছে চিনা সৈনিকেরা। আর তাতেই ঘোরালো হচ্ছে যুদ্ধের বাতাবরণ। তবে ক্ষমতা চিনিয়ে দিতে প্রস্তুত ভারতও। চিনকে টক্কর দিতে ভারতের কাছে কি কি অস্ত্র রয়েছে দেখে নেওয়া যাক।

যুদ্ধে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থল বাহিনী। ভারতের কাছে ১২ লক্ষ ৩৭ হাজারেরও বেশি সেনা রয়েছে। ৯ লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি সংরক্ষিত বাহিনীও রয়েছে। ভারতের হাতে রয়েছে অটোম্যাটিক কালাশনিকভক সিরিজের রাইফেল। রয়েছে ৯১ টি অ্যাসল্ট রাইফেল, কার ৮১৬, টিএরজি এম ১০, এম ২৪৯। এছাড়াও রয়েছে একাধিক মডেলের মেশিনগান সহ বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র।

 

যুদ্ধের অস্ত্রের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্যাঙ্ক। ভারতের কাছে অর্জুন, ভীষ্ম, অজেয় এর মতো শক্তিশালী ট্যাঙ্ক। এছাড়াও বৈজয়ন্ত ট্যাঙ্ক। সব মিলিয়ে ভারতের কাছে মোট ৫ হাজার ৯৭৮ টি ট্যাঙ্ক রয়েছে। ভারতের কাছে রয়েছে মেশিনগানবাহী গাড়ি। রয়েছে সাঁজোয়া গাড়ি। মাইনের মতো বিস্ফোরক বসানোর ও সাফ করার মতো যন্ত্রও রয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কেও আহত হলে তাঁদের উদ্ধারের জন্য আর্মার্ড অ্যাম্বুলেন্সও রয়েছে।

ভারতের কাছে ডিআরডি এর তৈরী দুটি অ্যাডভান্সড টাওড আর্টিলারি সিস্টেমও রয়েছে। ভারতের কাছে এম ৭৭৭ হাউইৎজার কামান রয়েছে ১৪৫ টি। এই কামানগুলি ২৪ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যেও গোলাবর্ষন করতে সক্ষম। এছাড়াও হুবিটস হাউইৎজার কামান, এম ৪৬ হাউইৎজার কামান, ও ডি ৩০ হাউইৎজার কামান ও ধনুষ গোত্রের হাউইৎজার কামানও রয়েছে। সব মিলিয়ে ভারতের কাছে কামানের সংখ্যা ১৮৬০ টি।

ভারতের কাছে ১৭০০ টি এমকে সিরিজের ফিল্ড গান ও ৭০০ টিরও বেশি হালকা ফিল্ড গান রয়েছে। পিনাকা ও বিএম ২১ গোত্রের রকেট সিস্টেম লঞ্চার রয়েছে ২০০ টির বেশি। ভারতের কাছে অমোঘ, নাগ, মিলান ও কোমেলের মতো একাধিক অ্যান্টি ট্যাঙ্ক মিসাইল রয়েছে।

 

ভারতের কাছে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপনাস্ত্রও রয়েছে। এর মধ্যে সব থেকে শক্তিশালী অগ্নি যা পাঁচ থেকে আট হাজার দূরেও আঘাত করতে পারে। এছাড়া ব্রহ্মস সিরিজের ও কে সিরিজের বিভিন্ন মিসাইলও রয়েছে। সাগরিকা ক্ষেপনাস্ত্র ছোড়ার জন্য অরিহন্ত গোত্রের সাবমেরিনও রয়েছে। এছাড়াও পৃথ্বী, প্রহার, নির্ভয়ের মতো ক্ষেপনাস্ত্রও রয়েছে। ভূমি থেকে আকাশে ছোড়ার জন্য বিভিন্ন ক্ষেপনাস্ত্র রয়েছে ভারতের কাছে। অ্যান্টি এয়ারক্র্যাফট আর্টিলারিও রয়েছে।

আকাশপথেও যুদ্ধের জন্যও তৈরী ভারত। ভারতের কাছে অ্যাপাশে, হ্যাল রুদ্র, হ্যাল ধ্রুব, হ্যাল লাইটের মতো অ্যাটাক হেলিকপ্টারও রয়েছে। এছাড়াও একাধিক কপ্টার রয়েছে বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্যে। হ্যাল, চিতা, ল্যান্সার, চেতক, ও চেতনের মতো কপ্টারও রয়েছে। এরিয়াল ভেহিক্যালও রয়েছে একাধিক।

ইজরায়েল থেকে আনা ফ্যালকন রাডারও রয়েছে ভারতের কাছে। এছাড়াও ইন্দ্র, রাজেন্দ্র, স্বাতী, ও রোহিনীর মতো অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেমও রয়েছে। ভারতের কাছে বিমানও রয়েছে বহু। এর মধ্যে রয়েছে মিগ সিরিজের বিমান, সুখোই বিমান, মিরাজ বিমান, জাগুয়ার বিমান ও হ্যাল তেজস বিমান। সব ,ইলিয়ে সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৪৮ টি। তবে এছাড়াও এয়ারলিফটের জন্যও বেশ কিছু বিমান রয়েছে। ফ্রান্স থেকে তিনটি রাফাল যুদ্ধবিমানও ভারতের কাছে এসে পৌঁছেছে।

বিভিন্ন রকম যুদ্ধ সামগ্রী ও মালপত্র বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ও নজরদারির জন্যও বিমান রয়েছে। এছাড়া ১১ টি সুপার হারকিউলিস ও ১১ টি গ্লোবমাস্টার বিমানও রয়েছে।

জলপথের জন্য ভারতের কাছে রাশিয়ার থেকে লিজে নেওয়া আইএনএস চক্র রয়েছে। এছাড়াও অত্যাধুনিক স্করপেন গোত্রের অ্যাটাক সাবমেরিনও রয়েছে। ডিজেল-ইলেকট্রিক চালিত  ১৪টি সাধারণ সাবমেরিন রয়েছে। তার মধ্যে অবশ্য সিন্ধুঘোষ ও শিশুমারের মতো অ্যাটাক সাবমেরিনও রয়েছে। রয়েছে আইএনএস বিক্রমাদিত্য।

নৌবহরে ১০ টি ডেস্ট্রয়ার মিসাইলও রয়েছে। ভারতীয় নৌসেনার কাছে এছাড়াও নজরদারি ও পাহাড়ার জন্য একাধিক ছোটো-বড়ো আকারের জাহাজ রয়েছে। যুদ্ধজাহাজও রয়েছে।

এছাড়াও  ভারতীয় সেনা স্থলে, জলে ও আকাশে বোমা নিক্ষেপ করতে সক্ষম। তবে ভারত নীতিতে বিশ্বাসী। ভারত প্রথমেই পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার করে না। প্রতিপক্ষ পরমাণু ব্যবহার করলে তবেই ভারত জবাব দেয়। ভারতের কাছে ডিআরডি এর তৈরী অগ্নি সিরিজের ক্ষেপনাস্ত্রগুলি সবরকম নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড বা পরমাণু বহনে সক্ষম।

ভারতের কাছে অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইলও রয়েছে। বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে ভারতের কাছে এই বিশেষ প্রযুক্তি রয়েছে।  এই শক্তিশালী ক্ষেপনাস্ত্র মহাকাশের কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। ২০১৯ সালে ভারত অ্যাস্যাট ক্ষেপনাস্ত্রের পরীক্ষায় সফল হয়।