ফাঁস হয়ে গেল পিঙ্কিকে পাঠানো শ্রীময়ীর অডিও নোট, রইলো সমস্ত কথোপকথন

শ্রীময়ী, কাঞ্চন এবং পিঙ্কির ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে উত্তাল টলিউড। গত শনিবারেই কাঞ্চন মল্লিক (Kanchan Mallick) এবং শ্রীময়ী চট্টরাজের (Shreemoyee Chattaraj) বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন কাঞ্চনের স্ত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায় (Pinky Bandyopadhyay)। কাঞ্চন এবং শ্রীময়ীর বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন এবং প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন তিনি। তার ঠিক একদিনের মাথাতেই স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন কাঞ্চন মল্লিক।

কাঞ্চন ব্যক্তিগতভাবে চেয়েছিলেন পিঙ্কি সকলের সামনে তার এবং শ্রীময়ী সঙ্গে যে রকম ব্যবহার করেছেন, তার প্রতিবাদে শ্রীময়ী যেন পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। সেইমতো এবার শ্রীময়ীও পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কাঞ্চন মল্লিকের সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ঘরে -বাইরে প্রতিনিয়ত বিতর্কের সম্মুখীন হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রীময়ী। এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “সময় সব কথা বলবে। আদালতে উকিলের মাধ্যমে যা বলার বলব”।

প্রসঙ্গত সংবাদমাধ্যমের কাছে পিঙ্কি জানিয়েছেন, শনিবার রাস্তায় তার গাড়ি দাঁড় করিয়ে যখন কাঞ্চন তাকে হুমকি দিচ্ছিলেন, তখন শ্রীময়ী নাকি পাশ থেকে “ববিদা”র নাম নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে “দেখে নেওয়ার” হুমকি দিয়েছেন! পিঙ্কির এই অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রীময়ীর জবাব, “আমি কোনও নেতা বা কারও নাম নিই নি। পিঙ্কিদিকে বলুন, প্রমাণ দিতে। পুলিস তদন্ত শুরু করুক, সত্যিটা বেরিয়ে আসবে”।

ফেসবুকে লাইভে এসে শ্রীময়ী দাবি করেন, কাঞ্চন মল্লিকের পরিবারের সঙ্গে তার “হৃদ্যতার সম্পর্ক” রয়েছে। সেই কথা পুরোপুরি অস্বীকার করে পিঙ্কি দাবি করেন, শ্রীময়ীর সঙ্গে তার শুধু সৌজন্যের সম্পর্ক ছিল। এদিকে সম্প্রতি পিঙ্কিকে পাঠানো শ্রীময়ীর একটি অডিও নোট ভাইরাল হয়েছে। সেখানে শ্রীময়ী দাবি করেছেন, “তুমি নাকি বলেছ, লকডাউনে আমি ‘অসু’র খোঁজ করিনি। ওর জন্মদিনে আমি কেক পাঠালাম, ও আমার কাছে একটা সাইকেলের আবদার করেছিল, সেটা পাঠালাম। একটা ছোট ফুলের মত বাচ্চাকে কেন এর মধ্যে টেনে আনছো পিঙ্কিদি?”

শ্রীময়ী সেই অডিও নোটে জানিয়েছেন, “পিঙ্কিদি, তোমার সঙ্গে তো আমার কখনো শত্রুতা ছিল না। তোমার সঙ্গে আমার তিনবার কথা হয়েছে ফোনে। তিনবারের মধ্যে একবার কথা হয়েছিল। তোমার জন্মদিনের দিন। আমি গাড়ি কিনছি, কাঞ্চনদাকে ফোন করেছিলাম। তখন বলল যে আজ পিংকির জন্মদিন, আমি এসেছি। কাঞ্চনদার ফোনেই তোমাকে উইশ করলাম। মনে আছে, ভিডিও কলে কথা হয়েছিল।এই একটা দিন কথা হয়েছিল। সেকেন্ড ডে, কাঞ্চন দার ড্রাইভার যখন কাঞ্চনদার গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করলো,  রাতের বেলায় অসভ্যতা করার চেষ্টা করলো আয়া আর ড্রাইভার, তখন আমি আমি পুলিশকে ফোন করেছিলাম। মনে আছে পিঙ্কিদি?

তোমার সঙ্গে যদি আমার আলাপ নাই থাকত, আমি কি তোমাকে ফোন করতে পারতাম। এরপর তোমার কোন একজন বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে  কী সমস্যা হয়েছিল, ঠিক তার পরদিন আমি সাউথ সিটি মলে যাই। কাঞ্চনদা আর ‘অসু’ এসেছিল। কাঞ্চনদা আমাকে বলল, পিঙ্কি বলেছে তোকে বাড়ি নিয়ে যেতে। আমি অসু (কাঞ্চন-পিঙ্কির ছেলে) আর কাঞ্চনদার সঙ্গে তোমাদের বাড়ি গেলাম, খাওয়াদাওয়া করলাম। আমার যদি অন্য কোনও অভিপ্রায় থাকত, আমি কি আসতে পারতাম পিঙ্কিদি?

তোমার বাড়িতে গিয়ে তোমার বাবার সঙ্গে আলাপ হল, তুমি ফোনে আমার মা-বাবার সঙ্গে কথা বললে। সেখানে আমি নিজে থেকেই তো মায়াপুর যাওয়ার প্রসঙ্গ তুললাম। তুমি তো নিজে অভিনেত্রী। কখনও কোনও সহ অভিনেতার সঙ্গে বাইরে কাজে যাওনি। আমরা তো মায়াপুর বেড়াতে যাই নি। লুকনোর ইচ্ছে থাকলে তো তুমি জানতেও পারতে

তুমি নাকি বলেছ, লকডাউনে আমি ‘অসু’র খোঁজ করিনি। ওর জন্মদিনে আমি কেক পাঠালাম, ও আমার কাছে একটা সাইকেলের আবদার করেছিল, সেটা পাঠালাম। একটা ছোট ফুলের মত বাচ্চাকে কেন এর মধ্যে টেনে আনছো পিঙ্কিদি? তোমার আর কাঞ্চনদার মধ্যে কী হয়েছে না হয়েছে, আমি কোনওদিন প্রকাশ করিনি। ঠিক যেমন সেই রাতের কথা কখনো কাউকে বলি নি, কীভাবে তোমার সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল। কোনোদিন বলবও না।

তবে তোমার কাছে আমার প্রশ্ন, ২০২১ এর ফেব্রুয়ারির পর থেকে কী এমন হল যে তুমি আমার বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করলে? বোঝার চেষ্টা করো, আমি একজন অবিবাহিত মেয়ে। আমাকে সাপোর্ট করার মত কেউ নেই। নিজের চেষ্টায় উঠে এসেছি। আমার রাজনৈতিক ব্যকগ্রাউন্ডও নেই, পরিবারের কেউ অভিনয় জগতের সঙ্গেও যুক্ত নয়। তাই আমি যথেষ্ট মুশকিলে পড়ব। এটা কি তোমার একবারও মনে হল না পিঙ্কিদি ?”