অবশেষে মুখ খুললেন কাঞ্চনের প্রেমিকা, ভিডিওতে জানলেন সেদিন ঠিক কী হয়েছিল

কাঞ্চন মল্লিকের (Kanchan Mallick) স্ত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Pinky Bandyopadhyay) বক্তব্যকে কেন্দ্র করে টলিউডের নবীন প্রজন্মের অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজের (Shreemoyee Chattaraj) জীবনে রীতিমত ঝড় উঠেছে। ঘরে-বাইরে প্রতিনিয়ত প্রবল বিতর্কের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে। অভিনেত্রীর কথা অনুযায়ী, এমন একটি নোংরা বিষয়ে তিনি জড়িয়ে গিয়েছেন, যার সঙ্গে তার কোনও সম্পর্কই নেই। অথচ সেই ইস্যুকে কেন্দ্র করে তার ব্যক্তিগত জীবন, কেরিয়ার রীতিমতো প্রশ্নের মুখে।

প্রসঙ্গত, শ্রীময়ী এবং কাঞ্চনের সম্পর্ক নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে বিতর্ক উঠেছিল, সেই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছেন কাঞ্চনপত্নী পিঙ্কি। কাঞ্চন এবং শ্রীময়ীর “বিশেষ হৃদ্যতার সম্পর্ক” নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন সংবাদমাধ্যমের কাছে। আবার এই বিষয় নিয়ে শ্রীময়ী এবং কাঞ্চন যখন তার সঙ্গে কথা বলতে যান তখনও তাদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন পিঙ্কি।

এর পরেই আলিপুর থানায় শ্রীময়ী এবং কাঞ্চনের নামে মানসিক নির্যাতন এবং কাঞ্চনের নামে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন পিঙ্কি। যার পাল্টা হিসেবে রবিবার বিকেলে চেতলা থানায় পিঙ্কির বিরুদ্ধে কাঞ্চনও নিজের অভিযোগ জানিয়েছেন। শ্রীময়ী এবং কাঞ্চন এই মুহূর্তে পিঙ্কির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পথে এগোচ্ছেন।

যাকে নিয়ে এত বিতর্ক, সেই শ্রীময়ী এখন কেমন আছেন? শ্রীময়ী চট্টরাজের কথায়, ‘‘বাড়ির লোকের কাছে মুখ দেখাতে পারছি না! এখনও শ্যুট শুরু হয়নি আমার। কিন্তু সেখানেই বা যাব কী করে? মুখ দেখাব কী করে? রবিবার রাত থেকে খাওয়া, ঘুম বন্ধ আমার।’’ তিনি অবাক এই ভেবে যে, কোনও সুদর্শন নায়কের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন উঠলে তবুও মানা যায়। যাকে তিনি দাদা হিসেবে ভেবেছেন, সেই কাঞ্চনকে নিয়েই কিনা বিতর্ক জুটলো তার কপালে!

তাও আবার কাঞ্চনপত্নী পিঙ্কি খোদ বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালছেন। এই মিথ্যে রটনার কারণে নেটিজেনরা তাকে বলছেন, শ্রীময়ীর কারণেই কাঞ্চন-পিঙ্কির সম্পর্কে চিড় ধরেছে! এ প্রসঙ্গে শ্রীময়ীর বক্তব্য, “আমি কখনোই কারোর ক্ষতি করে বা সংসার ভেঙে পরকীয়া বা নোংরা সম্পর্কে জড়াতে চাইনা। আমার জীবনে এমন কোনও পরিস্থিতি আসেনি বা আমি এতটাও Frustrated নই যে একজন বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়াবো”

শ্রীময়ীর দাবি, “যদি আমি অন্যায় করতাম, তাহলে আমি পিঙ্কিদির সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারতাম না। আমি গিয়েছিলাম কথা বলতে। কারণ আমি গিল্টি বোধ করছিলাম। অথচ তিনি দাবি করলেন আমি তার উপর চড়াও হয়েছি। আপনারা যারা সেদিনের ভিডিওটি দেখেছেন, তাদের কি কোথাও মনে হয়েছে আমি কোন খারাপ আচরণ করেছি? হম্বিতম্বি করেছি? কোথাও তো বাচ্চার চিৎকারের গলা শোনা যায়নি। তবুও আমার সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে”

শ্রীময়ী এদিন নেটিজেনদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “কাঞ্চনদা এবং পিঙ্কিদির সম্পর্কের চিড় ধরার কারণ আমি নই। আমাকে শিখণ্ডী হিসেবে দাঁড় করিয়ে তারাই তাদের বিবাহিত সম্পর্কের সঙ্গে আমাকে জড়িয়েছেন। আমাকে নিয়ে যে বিতর্ক ছড়িয়েছিল, সে সম্পর্কে আমি কথা বলতে গিয়েছিলাম। নোংরা, অসভ্যতামি, কাদা-ছোঁড়াছুঁড়ি হোক, আমি তা চাইনি। পিঙ্কিদির সঙ্গে আগে কথা বলে তার অনুমতি নিয়েই আমি গিয়েছিলাম। আমার কাছে প্রমাণ হিসেবে ফোনের রেকর্ড, চ্যাট, ভয়েস মেসেজ আছে”।

কাঞ্চনের সঙ্গে তার সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “কাঞ্চনদার সঙ্গে আমার ১০ বছরের চেনা-পরিচিতি রয়েছে। তার সঙ্গে আমার স্নেহের সম্পর্ক। কাঞ্চনদার মতো মানুষেরা আমাদের মতো নবীন প্রজন্মের কাছে শিক্ষাগুরুর মতো। আমরা অভিনয় করি বলেই যে আমরা এত সস্তা, ঘর ভাঙ্গানি, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। আমার বিরুদ্ধে যে কুৎসা রটেছে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছি”।