“ঘরে সবার মা বোন আছে” ঘুরিয়ে ধর্ষণের হুমকি, কৌশানীকে ধুয়ে দিলেন শ্রীলেখা ও রূপা

শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা প্রার্থী কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের (Koushani Mukherjee) একটি ভিডিও ফুটেজকে কেন্দ্র করে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রচারে গিয়ে তিনি বিজেপিকে ‘বাবা’ বলে কটূক্তি করে জনগণকে বলছেন, ‘ঘরে সবার কিন্তু মা-বোন আছে, ভোটটা ভেবে দিবি।’তার এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন অনেকেই। এই তালিকায় নাম আছে বাম সমর্থক শ্রীলেখা মিত্র থেকে বিজেপি কর্মী রূপা ভট্টাচার্য সহ অনেকেরই।

কৌশানির এই মন্তব্যকে ‘উন্নয়নের ভাষা’ বলে ব্যঙ্গ করে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি আবারও পোস্ট করে ক্যাপশনে শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra) লিখেছেন,‘এই সাংঘাতিক হুমকিতে আমি বিস্মিত, হতবাক!’সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারকে অভিনেত্রী জানান, ‘‘কৃষ্ণনগরে একই ভাবে প্রয়াত অভিনেতা-বিধায়ক তাপস পাল হুমকি দিয়েছিলেন ‘ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেব’ বলে।

সেই কথার সুর কৌশানীর গলাতেও।’’ তার কথায়, ক্ষমতায় আসার আগেই জনগণকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছেন শাসক দলের প্রার্থী কৌশানি মুখোপাধ্যায়।তার কথায়, দলমত নির্বিশেষে তার এই মন্তব্যের প্রতিবাদ হওয়া উচিত।

তৃণমূল প্রার্থীর এই মন্তব্যের পাল্টা দিয়েছেন বিজেপি কর্মী রুপা ভট্টাচার্য (Rupa Bhattacharya)। তিনি কৌশানি কে  ‘ভদ্র মহিলা’ হতে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি দাবি করেছেন ‘কৌশানি আপনি মূলত একজন অভিনেত্রী। তাই আপনার মধ্যে একজন পরিশীলিত মানুষ (শিল্পী হয়ে উঠতে না পারলেও) থাকা উচিত। অন্তত আমি সেটাই দাবি করি’।

তিনি আরও বলেন, ‘এই কুৎসিত হুমকি দেয়া আপনার মুখে মানায়? যদি মনে করেন এটা করে আপনি তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের কাছের হবেন তা হলে জানবেন তাঁরাও আপনার এই দ্বিচারিতাকে মনে মনে ঘৃণা করেন’। এরপরই তিনি কৌশানিকে উদ্দেশ্য করে বলেন ‘নেত্রী হওয়া বাদ দিন, আগে তো ভদ্র মহিলা হন!’

তার এই ভিডিও নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়ে যাওয়ার পরই নেট মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন কৌশানি। তিনি দাবি করেছেন, তিনি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির অর্থাৎ উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ,দিল্লির কথা বলতে গিয়ে এই মন্তব্য করেছেন। বিজেপি শাসিত রাজ্যে যে দুপুর তিনটের পরেই মা-বোনেরা আর সুরক্ষিত নন, সেই কথা সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাইছিলেন তিনি।

তিনি এটাও বোঝাতে চেয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়ায় এখনও সুরক্ষিত আছে বাংলা। তার অভিযোগ তার ভিডিওর একাংশকে ব্যবহার করা হয়েছে লোকের মনে হিংসা ছড়ানোর জন্য। তার মন্তব্যকে বিকৃত করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।