কর্মজীবনে খেয়েছেন লাথি-ঝাঁটা, বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে অশান্তি! সোনু নিগমের জীবন যেন সিনেমা

পেশাদারি জীবনে সংগ্রাম, বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে অশান্তি, বাংলার জামাই সোনু নিগমের জীবন যেন সিনেমা

Sonu Nigam Age, Wife, Children, Family, Biography & More
Sonu Nigam Age, Wife, Children, Family, Biography & More

একসময় বলিউডের (Bollywood) সেরার সেরা গায়কদের সমান সমান টক্কর দিতে শুরু করেছিলেন নবাগত এক গায়ক। তখন সংগীতের দুনিয়ায় কুমার শানু, উদিত নারায়ণ, অভিজিৎয়ের মত কিংবদন্তি গায়কদের রমরমা ছিল। বলিউডের পরিস্থিতি তখন এমনই ছিল যে নতুনরা তখন সহজে সুযোগও পেতেন না। তবে সোনু নিগমের (Sonu Nigam) প্রতিভা চিনেছিলেন শ্রোতারা। তারাই তাকে আপন করে নেন।

আর পাঁচজন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে ছোট বয়সে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন সোনু। তবে তাদের পরিবারে সংগীতের চর্চার কোনও অভাব ছিল না কোনদিনই। সোনুর বাবা অগম কুমার নিগম এবং মা প্রয়াত শোভা নিগম, দুজনেই ছিলেন সংগীতজ্ঞ। তাই খুব ছোট বয়সেই সোনুর গানের জগতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন হয়। খুব ছোট বয়স থেকেই মা-বাবার সঙ্গে বিভিন্ন বিয়ে এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে গান গাইতেন সোনু।

তবে সংসারে অভাব ছিল নিত্য সঙ্গী। অর্থের অভাবে তার বাবা-মা তাকে একটা গিটার বা তবলা কিনে দিতেও পারেননি। তখন কেবল বেঞ্চ বাজিয়ে অনুশীলন করতেন সোনু। পড়াশোনার পাশাপাশি গানের রেওয়াজ, হারমোনিয়াম নিয়ে চর্চা এবং মঞ্চে গান গাওয়ার মধ্য দিয়েই সোনুর শৈশব জীবন কেটেছে। মাত্র ৩ বছর বয়স থেকেই মঞ্চে গান গাইতেন তিনি।

মঞ্চে তার প্রথম শো সেই ৩ বছর বয়সেই হয়েছিল। বাবার সঙ্গে একটি লাইভ শো’তে ‘কেয়া হুয়া তেরা ওয়াদা’ গেয়ে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। সেই থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি গান গাইতেন। এরপর বড় হয়ে যখন তার বয়স হলো ১৮ বছর, তখন তিনি মুম্বাইতে পাড়ি দিলেন। আর তখন থেকেই শুরু হলো তার জীবনের আসল লড়াই।

তখন বলিউডে মিউজিক কম্পোজাররা নতুনদের সুযোগ দিতে চাইতেন না। পরে অবশ্য ১৯৯০ সালে তিনি একটি সিনেমাতে গান গাওয়ার সুযোগ পান। তবে সেই সিনেমা মুক্তি পায়নি। কিন্তু এই কাজই তার জন্য ছিল মাইলস্টোন। টি-সিরিজের মালিক গুলশান কুমার তার গুনমুগ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। তিনিই তখন সোনুকে তার অ্যালবামে গান গাওয়ার সুযোগ করে দেন।

সোনুর জীবনের প্রথম প্রজেক্ট ছিল ‘বেওয়াফা সনম’। সেখানে ‘আচ্ছা সিলা দিয়া’ গেয়ে রাতারাতি শ্রোতাদের মন জয় করে নিয়েছিলেন সোনু নিগম। সকলে তাকে চিনতে শুরু করেন। তার গান আরও শুনতে চান শ্রোতারা। এভাবেই তার পরিচিতি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। দেখতে দেখতে কেটে গেল আরও পাঁচটি বছর। ১৯৯৫ সালে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে সোনুর সাথে আলাপ হয় বাংলার মেয়ে মধুরিমার। প্রথম দর্শনেই মধুরিমার প্রেমে পড়ে যান সোনু।

মধুরিমা তার থেকে ১৫ বছরের ছোট। প্রথমে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। তারপর বন্ধুত্ব প্রেমে বদলে যেতে দেরী হয়নি। ২০০২ সালে ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে সোনু এবং মধুরিমার বাগদান হয়। ২০০৭ সালে তাদের প্রথম সন্তান নিভানের জন্ম হয়। কিন্তু সোনুর বিবাহিত জীবন সুখের ছিল না। কারণ বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি।

গান গাওয়ার সুবাদে গায়িকা সুনিধি চৌহান এবং স্মিতা ঠাকরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সোনু। যদিও শেষমেষ সন্তানের কথা ভেবে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছেড়ে ফের দাম্পত্য জীবনে ফিরে আসেন সোনু।