সবজি বিক্রেতার ছেলে আর্থিক প্রতিকূলতাকে জয় করে মেধাতালিকায় ছিনিয়ে নিল অষ্টম স্থান

সফল হওয়ার জন্য কি দরকার? টাকা পয়সা, উচ্চবিত্ত পরিবার, নাকি পরিবারের  উচ্চ শিক্ষা। না এর কোনোটাও থাকে না অনেক সাধারণ ঘরে জন্মানো মেধাবীদের কাছে, কিন্তু তারাই জীবনে করে দেখায় অসম্ভবকে সম্ভব। তারাই তাদের জেদ আর অধ্যবসায় দিয়ে এমন কিছু উদাহরণ আমাদের কাছে তুলে ধরে, যা বর্তমান তথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে যায়। এইরকমই এক অতি সাধারণ থেকে অনন্য সাধারণ হওয়ার নায়ক হল তাপস দেবনাথ ।

তার জীবন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। তার এই যুদ্ধে জয়লাভের জন্য যে পরিমান জীবনসংগ্রাম করতে হয়েছে, তা আজ সবার কাছেই অবিশ্বাস্য। অনেক সময় জীবনের কাহিনী গল্পকেও হার মানায়। আর আজকের এই কাহিনীর নায়ক তাপস দেবনাথ। প্রকাশিত হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল। আর সেই ফলে জ্বলজ্বল করছে তাপস দেবনাথের নাম। কৃতীদের তালিকায় তার স্থান অষ্টম। তার প্রাপ্ত নাম্বার ৬৮২। সে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিল কামাখাগুড়ি হাই স্কুল থেকে। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা একদম সাধারণ মানের। তার বাবা রতন দেবনাথ একজন সামান্য সবজি বিক্রেতা। সারাদিনে খুব বেশি হলে ১০০ টাকার মতো আয় করেন। তাই ছোটো বেলা থেকেই তাপসের জীবন কেটেছে আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে। তবে তা নিয়ে কোন আক্ষেপ বা অভিযোগ তার নেই তাপসের। এই দারিদ্র্যের মধ্যেই সে খুঁজে পায় নিজেকে ভালো কিছু করার জেদ।

আরও পড়ুন : টালির ভাঙা ঘর থেকে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্নে গামছা বিক্রেতার ছেলে অমিয়

তাপসের কথায় তার বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার কাছে সকল বিষয় সহজ সরল করে বুঝিয়ে দিয়েছে। এছাড়া যখনই দরকার পড়েছে সে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে ছুটে গিয়েছে এবং তার সমস্যার সমাধান করেছে। তারা তাকে আলাদা করে গৃহশিক্ষকের অভাব বা প্রয়োজন বুঝতে দেয় নি। তার বাবা মা হয়তো দারিদ্র্যের জন্য তার সকল দরকারি বই তুলে দিতে পারেন নি। কিন্তু তাদের ভালোবাসা ও তার প্রতি বিশ্বাস তাকে এই ফল করতে সাহায্য করেছে।

তাপস দেবনাথ

সাফল্য লাভের জন্য যে ধরা বাঁধা কোন নিয়ম বা পড়াশোনা করতে হবে তা কিন্তু বিশ্বাস করে না মেধাবী তাপস। তার মতে দিনের যেকোন সময় পড়তে ভালো লাগলে, তা ব্যবহার করা উচিত। আর সেইরকম করেই সে প্রস্তুতি নিয়েছে। তার কোনো ধরাবাঁধা সময় ছিল না পড়াশোনার। তবে পাঠ্য বই বিশেষ যত্ন নিয়ে বারবার পড়াশোনা করেছে বলেই সে জানায়।এবং পড়ার থেকে লেখার বিষয়ে সে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে উপদেশ পেয়েছিল।আর সেই মতো অনুশীলনের উপর জোর দিয়েছিল সে।তবে টেস্টের  পর সে নিজের পড়াশোনা বাড়িয়েছিল অনেকটাই।আসলে পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে বাবাকে অনেক সময় সাহায্য করতে হয়েছে তাকে।তবে শুধু যে বইয়ের মধ্যে মুখ গুঁজে পড়াশোনা করলে ভালো রেজাল্ট করা যায় তা কিন্তু তাপস বিশ্বাস করে না।তাই সে পড়ার সাথে সাথে নিয়ম করে মনকে ভালো রাখার জন্য  বন্ধুদের সাথে বিকালে মাঠে খেলাও করেছে।

আরও পড়ুন : মাধ্যমিকে দশম টিকিট বিক্রেতার ছেলে শুভম রায়

তাপস দেবনাথ

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জিজ্ঞেস করলে তাপস জানায়, তার বড়ো হয়ে ডাক্তার হওয়ার ইচ্চা। কিন্তু তার জন্য তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা যে উপযুক্ত নয়  তা সে মেনে নেয়। তার বাবা রতন বাবুরও এই বিষয় নিয়ে বিরাট এক দুশ্চিন্তা। ছেলের ভবিষ্যৎ স্বপ্নকে সফল করার জন্য তিনি কী করতে পারেন সেটাই তার চিন্তা। তবে সহৃদয় মানুষের উপর এবং সরকারের উপর তার দৃঢ় বিশ্বাস যে তিনি আর্থিক সাহায্য পেলে ছেলের ভবিষ্যৎ পড়াশোনার পথ অনেক বাধামুক্ত হবে।

আমাদের প্রতিটি পোস্ট WhatsApp-এ পেতে ⇒ এখানে ক্লিক করুন