দেশলাই বাক্সে ঢুকে যাচ্ছে শাড়ি! সব থেকে হালকা শাড়ি বুনে চমকে দিলেন ভারতীয় শিল্পী

দেশলাই বাক্সেও ভরে রাখা যাবে শাড়ি! রূপকথার গল্পের শাড়ি বানিয়ে তাক লাগালেন শিল্পী

এ যেন ঠিক রূপকথার গল্পকে বাস্তবের আঙিনায় দেখা! রূপকথার জগতের কোনও এক রাজকুমারী জন্য হাওয়ার মতো পাতলা ফিনফিনে শাড়ি বানিয়েছিলেন এক শিল্পী। তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে রাজপুরীতে রাজকন্যের হাতে তুলে দিয়েছিলেন দুনিয়ার সবথেকে হালকা শাড়ি (Saree)। এই গল্প পড়ে অনেকেরই মনে হয়েছে, যদি সত্যিই এমন শাড়ি হতো! তবে রূপকথার তুলনায় বাস্তবই বা কম যায় কিসে? তাই তো রূপকথার গল্পে পড়া রাজকন্যের সেই ফিনফিনে শাড়িই এবার বানিয়ে ফেললেন তেলেঙ্গানার (Telengana) একজন শিল্পী।

তেলেঙ্গানার শিল্পী নাল্লা বিজয় (Nalla Vijay) সম্প্রতি এমন একটি পাতলা ফিনফিনে শাড়ি বানিয়ে তাক লাগিয়েছেন গোটা বিশ্বকে। তার বানানো শাড়ি এতটাই হালকা এবং নরম যে তাকে ভাঁজ করে একটা দেশলাই বাক্সের মধ্যে পুরে রাখা যায়! শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবে এমনই অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছেন ওই শিল্পী। অত্যন্ত যত্ন নিয়ে হাতে বোনা এই শাড়ি। যার দাম তিনি ধার্য করেছেন ১২ হাজার টাকা। যত্ন নিয়ে হাতে বোনা, তাই দাম এতটা বেশি। শিল্পীর কথায় যদি এই শাড়ি মেশিনে বোনা সম্ভব হয় তাহলে দাম অনেক কম পড়বে। এক ধাক্কায় ১২ হাজার থেকে কমে ৮ হাজার টাকায় নেমে আসবে।

শিল্পী নাল্লা বিজয় জানিয়েছেন এই শাড়ি হ্যান্ডলুম মাহামে বুনলে বা মেশিন তাঁতে বুনলে দাম অনেকখানিই কম পড়বে। সম্প্রতি এমন অভিনব শাড়িটি তেলেঙ্গানার মন্ত্রী তারাকা রামারাও সবিতা ইন্দ্রারেড্ডি, শ্রীনিবাস গৌড়, এরাবাবেলির উপস্থিতিতে প্রদর্শন করেন শিল্পী। শাড়িটি তেলেঙ্গানার মন্ত্রী সবিতা ইন্দ্রা রেড্ডিকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন শিল্পী নাল্লা বিজয়। এমন একটি অভিনব শাড়ির কথা নেট মাধ্যমে হু হু করে ভাইরাল হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এমন শাড়ি এই প্রথম নয়। এর আগেও সিরসিল্লার তাঁতিদের সূক্ষ্ম কারিগরি তাদের বিশ্ব বিখ্যাত করে তুলেছে। নাল্লা বিজয়ের আগে এমন সূক্ষ্ম শাড়ি তৈরি করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন এই এলাকারই আরেক শিল্পী ভেলদি হরিপ্রসাদ। তিনি এই শাড়ি বুনেছিলেন জরি ব্যবহার করে। তার তৈরি শাড়িও দেশলাই বাক্সের মধ্যে ভরে ফেলা যায়। শাড়ি তৈরি করা ছাড়াও শালের উপরে ভগবান গণেশের ছবি তৈরি করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন হরিপ্রসাদ।

ভেলদি হরিপ্রসাদ যে শাড়িটি তৈরি করেছিলেন তার ওজন ছিল মাত্র ১৮০ গ্রাম। তিনি দাবি করেন তার তৈরি এই শাড়ি পাটের ব্যাগ তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত বড় সূঁচের ছিদ্রের মধ্য দিয়ে সুতোর মতো গলে যায়। শাড়ির আগে তিনি এমন ধরনের শার্ট এবং লুঙ্গিও তৈরি করেছিলেন যাকে ভাঁজ করে দেশলাই বাক্সে রাখা যায়।