মা হলেন শ্রেয়া ঘোষাল, কোল আলো করে বাড়িতে এল ‘শ্রেয়াদিত্য’

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অনুরাগীদের সুখবরটি শোনালেন শ্রেয়া ঘোষাল। শ্রেয়া এবং শিলাদিত্যের সুখী গৃহকোণে জায়গা করে নিল ছোট্ট একটি খুদে। এতদিনে শ্রেয়া-দিত্যের পরিবার সম্পূর্ণ হলো। শনিবার দুপুরের দিকে শ্রেয়ার কোল জুড়ে জন্ম নিল শ্রেয়া-দিত্যের প্রথম সন্তান। পুত্র সন্তানের আগমনের সুখবরটি নেট নাগরিকদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন গায়িকা নিজেই।

প্রসঙ্গত, গত ৪ঠা মার্চ নিজের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে শ্রেয়া তার জীবনের সবথেকে বড় সুখবরটি অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। হালকা-সবুজ এবং নীল কাফতান পরে বেবি বাম্প সমেত নিজের একটি ছবি সোশ্যাল সাইটে আপলোড করেছিলেন তিনি। বেবি বাম্পকে সযত্নে আগলে রেখে নেটিজেনদের তিনি জানিয়েছিলেন মা হওয়ার কথাটি। ভাবী সন্তানের জন্য অনুরাগীদের প্রত্যেকের আশীর্বাদ এবং ভালোবাসাও চেয়ে নিয়েছিলেন তিনি।

সেইবার টুইটারে তিনি জানিয়েছিলেন, “শ্রেয়াদিত্য আসার পথে”। তার কাছ থেকে এমন সুখবর পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিলেন নেটিজেনরা। সকলেই শ্রেয়া এবং তার ভাবী সন্তানের জন্য প্রার্থনা জানিয়েছিলেন। ভাবী মাকে শুভকামনাও জানিয়েছিলেন নেট নাগরিকরা। স্বামী শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে তিনি লিখেছিলেন, “আমি ও শিলাদিত্য আপনাদের সঙ্গে এই সুখবর ভাগ করে নিতে পেরে ভীষণই আনন্দিত। আমাদের জীবনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। আপনাদের আশীর্বাদ ও শুভকামনা আমাদের প্রয়োজন”।

তিন মাসের মাথাতেই নবজাতকের আগমন ঘটে গেল। শনিবার দুপুরে সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর বিকেলের দিকে তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে নবজাতকের আগমনের সুখবর জানিয়ে দিলেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি অনুরাগীদের উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, “ঈশ্বরের কৃপায় শনিবার দুপুরে আমাদের পুত্রসন্তান হয়েছে। এমন অনুভূতি আগে কখনও হয়নি। শিলাদিত্য এবং আমি ভীষণ খুশি। আপ্লুত আমাদের পরিবারও।”

একই সঙ্গে সন্তানের জন্য প্রার্থনা ও আশীর্বাদ দেওয়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন গায়িকা। তার কাছে নতুন সুখবর পেয়ে আবারও খুশিতে ফেটে পড়েছেন শ্রেয়ার অনুরাগীরা। সকলেই নবজাতক এবং শ্রেয়ার সুস্বাস্থ্য কামনা করছেন। মা এবং সদ্যোজাতক, উভয়েই অবশ্য সুস্থ রয়েছেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে চারিদিকে যখন শুধুই মৃত্যুর হাহাকার শোনা যাচ্ছে, তখন নবজাতকের আগমনের খবর পেয়ে স্বস্তিতে নেটিজেনরা।

প্রসঙ্গত, নেট দুনিয়ায় নিজের মা হওয়ার সুখবর শোনানোর পর শ্রেয়া আবার তার সাধের অনুষ্ঠানের কিছু ছবিও সোশ্যাল সাইটে আপলোড করেছিলেন। করোনা পর্বে নিতান্তই সাধারণ ভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল তার সাধ অনুষ্ঠান। তার বাড়িতে অবশ্য বিশেষ কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। সাধের অনুষ্ঠানের সময় বাড়িতে কার্যত তিনি পরিবারের সঙ্গেই ছিলেন। তবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে তার কাছের বন্ধুরা তার সঙ্গে ছিলেন।

শ্রেয়ার বন্ধুরা প্রত্যেকেই তার জন্য ওই বিশেষ দিনটিতে কিছু না কিছু খাবার রান্না করে পাঠিয়ে ছিলেন। সেই খাবারগুলিকেই সুন্দর ভাবে পাতে সাজিয়ে শ্রেয়ার সামনে পরিবেশন করা হয়েছিল। নেট দুনিয়ায় সেই বিশেষ মুহূর্তের বেশ কিছু ছবিও সোশ্যাল সাইটে আপলোড করেছিলেন তিনি।

শ্রেয়া ঘোষাল, মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর শহরের মেয়ে। খুব ছোট বয়স থেকেই গানের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েছিলেন শ্রেয়া। মাত্র চার বছর বয়স থেকেই গানের তালিম নিতে শুরু করেছিলেন তিনি। বলিউডের পথে তার যাত্রাটা অনেকটাই যেন স্বপ্নের মত। পরবর্তী দিনে বলিউডের প্রথম সারির গায়িকাদের মধ্যে তিনি অন্যতম হয়ে উঠেছেন। শুধুই নিজের পরিশ্রম এবং কঠিন সাধনার জেরে শ্রেয়া ঘোষাল আজ সংগীতের দুনিয়ায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন।

২০১৫ সালে নিজের ছোটবেলার বন্ধু শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়কেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন শ্রেয়া। সেই দিন থেকে শুরু হয়েছিল তার জীবনের নতুন অধ্যায়। পরিবারের সদস্য এবং নিতান্তই কাছের কিছু বন্ধুরাই উপস্থিত ছিলেন শ্রেয়া এবং শিলাদিত্যের সেই বিশেষ দিনে। ছিলনা কোনও জাঁকজমক। শ্রেয়া এবং শিলাদিত্য কোনওদিনই বিশেষ জাঁকজমক পছন্দ করেন না। আজ থেকে “শ্রেয়াদিত্য”কে কেন্দ্র করে তাদের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।