রাখে হরি তো মারে কে! মিরাকেল ঘটিয়ে সুস্থ হচ্ছেন ঐন্দ্রিলা, চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন অরিজিৎ সিং

মিরাকেল ঘটিয়ে সুস্থ হচ্ছেন ঐন্দ্রিলা, হাসপাতালের বিল আকাশছোঁয়া, চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন অরিজিৎ সিং

Arijit Singh willing to take all responsibilities for Aindrila Sharma's farther treatment

ভগবান কি ফেসবুকে থাকেন? সোশ্যাল মিডিয়াতে ভগবানের কাছে প্রার্থনা জানানোর কি মানে? অসুস্থ ঐন্দ্রিলা শর্মাকে (Aindrila Sharma) কেন্দ্র করে এই প্রসঙ্গ নিয়ে তর্ক-বিতর্কে গত দুদিন ধরে তোলপাড় ছিল ফেসবুক। তবে ভগবান ফেসবুকে থাকুন বা না থাকুন, অজস্র সমালোচকদের ভিড়ে কিছু মানুষ অবশ্যই রয়েছেন যারা নির্দ্বিধায় অন্য মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান কোনও স্বার্থ ছাড়াই। তেমনই একজন মানুষ হলেন অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)।

গত ১৭ দিন ধরে হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ঐন্দ্রিলা। তার শারীরিক পরিস্থিতি কখনও ভাল, কখনও মন্দ! তবে ঐন্দ্রিলা হার মানতে শেখেননি। সেই সঙ্গে তার কাছের মানুষরাও মিরাকেলের উপর ভরসা রেখে ঐন্দ্রিলার ফেরার প্রতীক্ষা করছেন। এবার তিনি পাশে পেলেন অরিজিৎ সিংকেও। শোনা যাচ্ছে গায়ক অরিজিৎ সিং ঐন্দ্রিলার আগামী দিনের চিকিৎসার খরচ বহন করতে ইচ্ছুক।

গত ১৭ দিন ধরে লড়াই করছেন ঐন্দ্রিলা। কোমায় চলে গিয়েছেন অভিনেত্রী। বন্ধ হয়ে গিয়েছে অঙ্গ সঞ্চালন। চিকিৎসার জন্য ভেন্টিলেশন, ওষুধ থেকে ডাক্তারের খরচ বাড়ছে। শোনা যাচ্ছে প্রতিদিন নাকি ৩০ হাজার টাকা করে বিল হচ্ছে হাসপাতালের। এরই মধ্যে চিকিৎসার খরচ বাবদ টাকার অঙ্কটা ১২ লক্ষে গিয়ে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত যে খরচ হয়েছে সেই টাকা মেটানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেন অরিজিৎ। সেই সঙ্গে আগামী দিনেও তিনি সাহায্য করতে চেয়েছিলেন ঐন্দ্রিলাকে।

যদিও সব্যসাচী সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি পোস্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন ঐন্দ্রিলার চিকিৎসার খরচ বাবদ একটি টাকাও তারা বাইরে থেকে নিতে চান না। তবে অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত চিকিৎসার ব্যাপারে তার আলোচনা চলছে। অরিজিতই নাকি তাকে আলোর দিশা দেখাচ্ছেন। নিজের পোস্টে সাফ সে কথা লিখেছেন সব্যসাচী। সেই সঙ্গে সুখবর শুনিয়ে তিনি জানিয়েছেন ধীরে ধীরে চিকিৎসায় সাড়াও দিচ্ছেন ঐন্দ্রিলা।

উল্লেখ্য, অভিনেতা অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখেছিলেন ঐন্দ্রিলাকে সুস্থ করে তোলার জন্য ভগবানের থেকে প্রার্থনা ছাড়াও অর্থ সাহায্য প্রয়োজন কিনা সেটাও ভেবে দেখা দরকার। আনন্দ বাজারের কাছে তিনি বলেন ঐন্দ্রিলা কোনও নেতা-মন্ত্রী বা উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে নন। একটা সময় পর সকলেরই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়। প্রয়োজনে অর্থ সাহায্য করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনিও।

তবে এই বিষয়ে সব্যসাচী শুক্রবার রাতে একটা পোস্ট করে লেখেন, “চিকিৎসার খরচ নিয়ে লেখালিখি বন্ধ করা উচিত, পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ীই চিকিৎসা হবে, এখনো অবধি কারোর কাছে এক পয়সাও অর্থসাহায্য চাওয়া হয়নি অথবা কারোর থেকে এক পয়সাও গ্রহণ করা হয়নি। তাই এটা নিয়ে লেখা মানে ঐন্দ্রিলাকে অপমান করা এবং তার পরিবারকে ছোট করা। নিজের অপমান গায়ে মাখি না ঠিকই কিন্তু ওর অপমানে আমার গায়ে ফোস্কা পড়ে।”