‘প্রসেনজিতের জন্য নায়ক হওয়া হলনা’, বিস্ফোরক অভিযোগ শিলাজিৎ মজুমদারের

প্রসেনজিতের জন্যই নায়ক হতে পারেননি শিলাজিত, অভিনয় জেনেও নষ্ট হয়ে গেছে ফিল্মী কেরিয়ার

0
Silajit Majumdar Prosenjit Chatterjee Controversy

জীবনমুখী গান বাঁধেন বাংলার গায়ক-শিল্পী শিলাজিৎ মজুমদার (Silajit Majumder)। অথচ সেই জীবনের প্রতি তার ক্ষোভ কিছু কম নয়। তার গানের ভক্ত আপামর বাঙালি জাতি। সঙ্গীত দুনিয়ায় শিলাজিৎ মজুমদার একজন অত্যন্ত সম্মানীয় তারকা। তার কথায়-সুরে-ছন্দের জাদুতে বুঁদ হয়ে রয়েছে সঙ্গীত মহল। তবে তিনি শুধু গায়ক হতে চাননি। সংগীত জগতের উজ্জ্বল এই তারকার স্বপ্ন ছিল যে তিনি গায়ক (Singer) হওয়ার পাশাপাশি টলিউডের (Tollywood) নায়ক (Actor) হয়ে উঠবেন।

তার এই আশা বা স্বপ্ন কিন্তু অমূলক ছিল না। টলিউডেরই একাধিক পরিচালক তার মনে সেই স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলেন। গায়ক শিলাজিতের চেহারাও নায়কদের তুলনায় কোনও অংশেই কম ছিল না। তিনিও টলিউডের প্রথম সারির অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন একসময়। বিশেষত যদি কোনও টলিউডের পরিচালক তাকে সিনেমাতে লঞ্চ করার স্বপ্ন দেখান, তাহলে নায়ক হওয়ার ইচ্ছে অবশ্যই বাড়বে বৈ কমবে না।

এমনটাই ঘটেছে শিলাজিতের সঙ্গে। পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী (Haranath Chakraborty) নিজে তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তিনি তার ছবিতে শিলাজিতকে নায়ক হিসেবে লঞ্চ করবেন। “শিলাজিৎ তোকে আমি পরের ছবিতে মুখ্য নায়ক করব। তুই আমার এই ছবিটা করে দে”, বলেছিলেন হরনাথ চক্রবর্তী। অথচ ছবি রিলিজ হওয়ার পরেই সবকিছু কেমন পাল্টে গেল। “ছবি শেষ হওয়ার পর বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) (Prasenjit Chatterjee) বেশি মিষ্টি দেখতে হয়ে গেল!”।

শুধু একবার নয়, টলিউড থেকে বারবার প্রতারিত হয়েছেন শিলাজিৎ। এমনকি শিলাজিৎ এক পরিচালকের কথা জানান নাম না নিয়েই। ওই পরিচালক নাকি এক সময় প্লাস্টিকের ব্যবসা করতেন। আর নাকি এখন বিরাট পরিচালক। জানা যায়, ওই পরিচালক নাকি শিলাজিৎ এর গানের খুব ভক্ত ছিলেন, এমনকি ওনার পিছন পিছনও ঘুরতেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি পরিচালক হওয়ার পর শিলাজিৎকে দিয়ে নাকি একটা গানও গাওয়াননি তিনি। শিলাজিৎ এর কথায়, “১৫টা ছবি করে ফেলল সে। আমাকে সুর দেওয়ার জন্য ডাকল না।’’

বর্তমানে আবারও প্রতারিত হচ্ছেন শিলাজিৎ মজুমদার। হালফিলে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের (Srijit Mukherjee) সঙ্গে শিলাজিতের দ্বন্দ্ব সোশ্যাল মিডিয়ার চর্চার বিষয়বস্তু হয়েছে। সৃজিতের নতুন প্রজেক্ট “রে” নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সৃজিতের নাম না নিয়েই শিলাজিতের অভিযোগ, “ওরা আমার গান ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা রোজগার করছে। কিন্তু আমার বকেয়া টাকা আমি পাইনি তাদের কাছ থেকে। পেলে আজ আমি লকডাউনের মধ্যে শিল্পী হিসেবে বাঁচতে পারতাম। আমি চিঠিও পাঠিয়েছিলাম তাদের। কোনও উত্তর আসেনি।”

ইন্ডাস্ট্রিতে বরাবর ব্রাত্যই থেকে গিয়েছেন শিলাজিৎ। অথচ তার সুরের জাদু আজও শ্রোতার মনজুড়ে অমলিন। কিন্তু তাঁর অভিমান, শুধু সৃজিতের উপর নয়। তাঁর কথায়, ‘‘বিখ্যাতদের থেকে দূরেই থাকি আমি।’’ তাঁর আফসোস, টলিউডে তাঁর পুরনো বন্ধুবান্ধবদের একসময় তিনি অনেক সাহায্য করেছেন। শিলাজিৎ বললেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ইন্ডাস্ট্রিতে কমপক্ষে ৩০-৪০ জন ছেলেমেয়ে আছে, যাঁরা আমার দ্বারা কোনও না কোনও ভাবে উপকৃত।’’ অথচ তারা কেউই তার এর কোনও প্রতিদান দেন না।

আরও পড়ুন : প্রসেনজিতের ষড়যন্ত্রে পাননি কাজ, এই ঘটনাই রাতারাতি বদলে দেয় টোটা রায়চৌধুরীর জীবন

হেমলক সোসাইটি, এক্স = প্রেম অ্যালবামের গায়ক শিলাজিৎ এখন তাহলে কেমন আছেন? কিভাবে চলছে তার দিন? গায়ক শিলাজিৎ জানাচ্ছেন, তার ছেলে ধী মজুমদার চাকরি পেয়েছে। সেই আপাতত বাবা-মায়ের খাওয়া-পরার দায়িত্ব নিয়েছে। ছেলের এই সাফল্যে শিলাজিৎ খুশি। তবে তার মনের মণিকোঠায় পুরনো দিনের যন্ত্রণার সেই স্মৃতি বারবার ফিরে ফিরে আসে। তখন নিজেকে বারংবার প্রতারিত, ব্রাত্য বলেই মনে হয় শিলাজিৎ এর।