কেমন হল মিঠাই ও উচ্ছে বাবুর ফুলশয্যা, রইলো শুটিংয়ের Exclusive ভিডিও

Mithai Fulsojja

‘মিঠাই’ (Mithai) ধারাবাহিকের আজকের বিশেষ পর্বটি দর্শক বেশ ভালোভাবেই উপভোগ করলেন। তুফান মেল আর উচ্ছে বাবুর বিয়েটা তো হয়েছিল কোনও রকমে। বিয়ের পর মিঠাইকে ঘরে ঢুকতেও দেয়নি সিড। তাই কার্যত ‘ডিভোর্সের পর ফুলশয্যা’ পর্বেই প্রথম স্বামী-স্ত্রী হিসেবে এক ঘরে রাত কাটাবে মিঠাই আর সিদ্ধার্থ। যদিও এর আগে দরজার লক ভেঙ্গে ঘরের মধ্যে বন্দি হয়ে পড়েছিল দুজনে, তবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মর্যাদা দিয়ে এই প্রথম একঘরে তুফান মেল আর উচ্ছে বাবু।

দাদুর রাগী নাতি কিন্তু এই বিশেষ দিনেও মিঠাইয়ের উপর রাগ ধরে রাখতে পারলো না। মিঠাই আর সিদ্ধার্থ, এক ঘরে থাকবে অথচ বাকবিতন্ডায় জড়াবে না, এমনটা কি কখনো হতে পারে? ধারাবাহিকের প্রোমো থেকেই অবশ্য স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে ফুলশয্যার রাতে ঘরের মধ্যে দুজনের ঝগড়া অবশ্যম্ভাবী। অবাধ্য মিঠাইয়ের উপর রেগে গিয়ে তাকে কোলে তুলে খাটের উপর নিয়ে গিয়ে ফেলবে সিদ্ধার্থ, প্রোমোতেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

সিদ্ধার্থের সঙ্গে মিঠাইয়ের ডিভোর্সটা কার্যত হলো না। সিদ্ধার্থ ডিভোর্স পেপারে সই করতে রাজি নয়। আবার বন্ধুর সঙ্গে মিঠাইয়ের বিয়ে দিতেও রাজি নয়। তাই বলে মিঠাই বা এমন এক সম্পর্কে জড়িয়ে থাকবে কেন? নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে জনাইয়ের উদ্দেশ্যে বেরিয়েই পড়েছিল মিঠাই। মনোহরা থেকে আজ সে বেরিয়েই যেত, কারোর কথা শুনতো না, যদি না দাদুর রাগী নাতি মিঠাইকে ১ মাসের জন্য স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা দেওয়ার কথা মেনে নিত।

মিঠাইকে আটকাতে সিদ্ধার্থ শেষমেষ দাদুর জালে জড়িয়েই পড়লো। সে বিয়েতে বিশ্বাস করে না ঠিকই, তবে ১ মাসের জন্য মিঠাইয়ের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক পালনের চ্যালেঞ্জ সে নিয়ে নিয়েছে। তাই আজ থেকেই তাদের সেই সম্পর্কের সূত্রপাত হলো। আজকের বিশেষ দিনটিতেই তাই মিঠাই এবং সিদ্ধার্থের ফুলশয্যার আয়োজন করে ফেললো পরিবারের সদস্যরা। সুন্দর ভাবে ফুল দিয়ে ঘর সাজিয়ে, মিঠাইকে নববধূর সাজে সাজিয়ে ঘরে আনা হলো। তার সঙ্গে দু’জনকেই বুঝিয়ে দেওয়া হলো আগামী ১ মাস স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তাদের কি কর্তব্য হতে চলেছে।

মিঠাই এবং সিদ্ধার্থ, এবার থেকে দুজন দুজনের খেয়াল রাখবে, দুজনেই একে অপরের পছন্দ-অপছন্দের বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেবে, সিদ্ধার্থ মিঠাইকে বকাবকি করবে না, কথায় কথায় ‘ননসেন্স’, ‘স্টুপিড’ও বলতে পারবে না। এই সব শর্তই মেনে নিয়েছে সিদ্ধার্থ। এদিকে আবার একটি পরীক্ষায় দেখা গেল মিঠাইরানী উচ্ছেবাবুর সব পছন্দ অপছন্দ সম্পর্কে জানে। যা দেখে অবাক পরিবারের বাকি সদস্যরা। যদিও সিদ্ধার্থ আপাতদৃষ্টিতে এইসব বিষয়ে গুরুত্ব দিতে নারাজ।

সিদ্ধার্থ শুধু দাদুর চ্যালেঞ্জ মেনে ১ মাসের জন্য বিয়ে পালন করবে। তাই এই ১ মাসে নিয়মকানুনের এদিক ওদিক হতে দেবে না সে। তাই তো মিঠাইয়ের ওজর-আপত্তি সত্ত্বেও তাকে কোলে তুলে নিয়ে খাটে শুইয়ে দেয় সিদ্ধার্থ। মিঠাই আপত্তি করতে গেলেও ধমক দিয়ে তাকে চুপ করিয়ে দেয়। মিঠাইয়ের গোপালও কার্যত ‘হেলেপ’ করতে পারেন না! ধারাবাহিকের এই বিশেষ পর্বটি পর্দায় ফুটিয়ে তোলার জন্য টিম মিঠাইকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।

সারাদিনের শুটিংয়ের শেষে একটি সাক্ষাৎকারে টিম মিঠাই থেকে সিদ্ধার্থ এবং মিঠাই অর্থাৎ আদৃত এবং সৌমিতৃষা শুটিং সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য দিলেন। শুটিংয়ের সময় দেখা গেল ধারাবাহিকের কলাকুশলীরা শর্ট দেওয়ার আগে একে অপরের সঙ্গে ডায়লগ ঝালিয়ে নিচ্ছেন। কোথাও আবার মিঠাই-সিদ্ধার্থর ফুলশয্যার ঘর সুন্দর করে সাজানোর প্রস্তুতি নেওয়ার কাজ চলছিল। তবে সব কাজই সেরে নেওয়া হয়েছে দ্রুত। ফুলশয্যার ঘর সাজানো থেকে শুরু করে মিঠাইয়ের সাজ, সবটাই খুব কম সময়ের মধ্যেই সেরে ফেলে শুটিং সেরে নেওয়া হয়েছে। দর্শকের জন্য রইলো ধারাবাহিকের এই বিশেষ পর্বের শুটিংয়ের কিছু দৃশ্য।