ছেলে-বৌমা, মেয়ে-জামাইকে সাক্ষী রেখেই বিয়ে করলেন শ্রীময়ী, রইলো বিয়ের অ্যালবাম

অবশেষে পূর্ণতা পেল রোহিত-শ্রীময়ীর প্রেম। সমালোচনা এড়িয়ে জয় হল ভালোবাসার। ছেলে-বৌমা, মেয়ে-জামাইকে সাক্ষী রেখেই বিয়ে করলেন শ্রীময়ী।

Sreemoyee Rohit Sen Marriage 2

অপেক্ষার অবসান। যারা এতদিন রোহিত এবং শ্রীময়ীর বিয়ের দৃশ্য দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন, তাদের সেই আশাপূরণ হলো। একইসঙ্গে নতুন বার্তা পেল সমাজ। চল্লিশোর্ধ শ্রীময়ী (Sreemoyee) সমাজের চোখে চোখ রেখে বুঝিয়ে দিল, এভাবেও শুরু করা যায়। নিজের সিদ্ধান্তে বাঁচা যায়। এখন আর তাকে দমিয়ে রাখবে কে? যদি না সে নিজেই নিজেকে দমিয়ে রাখতে চায়?

তাই তো আজ সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মহাসমারোহে রোহিত এবং শ্রীময়ীর বিয়ে হয়ে গেল। শ্রীময়ীর অনুরাগীদের বহুকাঙ্খিত ছিল আজকের এই এপিসোড। শ্রীময়ী এবং রোহিতকে বিয়ের সাজে, বিয়ের মন্ডপে দেখতে চেয়েছিলেন তারা। তাদের আশাপূরণ হয়েছে। নববধূর সাজে শ্রীময়ীকে আজ লাগছিল বেশ। আর রোহিত সেনই বা কম যান কিসে? বরের পাঞ্জাবি পোশাকে ফের দর্শককে মুগ্ধ করেছেন টোটা রায়চৌধুরী (Tota Roy Chowdhury)।

রোহিত এবং শ্রীময়ীর বিয়ে নিয়ে দর্শক যতটা উৎসাহিত ছিলেন, তার থেকেও বেশি উৎসাহ জাঁকিয়ে ধরেছিল ইন্দ্রানী হালদার (Indrani Halder) এবং টোটা রায়চৌধুরীকে। ইন্দ্রানী আগেই আনন্দবাজার পত্রিকার কাছে একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, বিয়েতে তিনি নিজের শাড়ি এবং গয়না পরবেন। সেই মতো নিজে পছন্দ করে নিজের জন্য বিয়ের শাড়িটিও কিনে ফেলেছিলেন তিনি। ঘিয়ে রঙের জমিতে লাল জড়ি আর সবুজের পাড় বসানো শাড়িতে শ্রীময়ীকে বেশ মানিয়েছিল।

শাড়ি ছাড়া আজ শ্রীময়ীর গায়ে যে গয়না দেখেছেন দর্শক, তাও নাকি ইন্দ্রানীর নিজের গয়না! তেমনটাই অন্তত জানিয়েছিলেন টোটা রায়চৌধুরী। সংবাদমাধ্যমের কাছে টোটা জানিয়েছিলেন, ‘‘ইন্দ্রাণীর বাড়ি ভর্তি সোনার গয়না। এই বিয়েতে তো নিজের গয়নাই পরবে।’’ বড় কান ঝুমকো, হাত ভর্তি সোনার বালা, রতনচূড়, গলায় কয়েকটি ভারি সোনার হার, নাকে নথ, কপালে টিকলি, গা ভর্তি গয়নায় সেজে উঠেছিলেন ইন্দ্রানী।

শাড়ি এবং গয়নার এমন সাজের সঙ্গে কপালে লাল টিপ আর মাথায় জুঁই ফুলের মালা না হলে কি সাজ সম্পূর্ণ হতো? শ্রীময়ীর মেকআপ আর্টিস্ট সাজের সেই অসম্পূর্ণতা দূর করে দিয়েছেন। মেরুন রঙের ধুতি আর সুতোর কাজ করা সাদা রঙের পাঞ্জাবি পরে বিয়ে করতে এসেছিলেন রোহিত সেন। পাশাপাশি হেঁটে মঞ্চে এলেন নবদম্পতি।

এরপরে এলো সেই বহু প্রতীক্ষিত ক্ষণ। রোহিতের গলায় মালা পরিয়ে দিলেন শ্রীময়ী। রোহিত সেনের মুখে তখন যেন এক অনাবিল প্রাপ্তির হাসি খেলে গেল। শ্রীময়ী তো আহ্লাদে রীতিমতো আটখানা। ইন্দ্রানী চেয়েছিলেন, রোহিত এবং শ্রীময়ীর বিয়ে যেন সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান মেনেই হয়। তাই গল্পের নায়িকার আবদার মেনে সব কিছুর ব্যবস্থা করে রেখেছেন গল্পকার তথা পরিচালক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়।

শুটিং ফ্লোরে ইন্দ্রানী নিজেই বিয়ের সমস্ত আচার-আচরণের বিষয়ে টোটাকে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। সিঁদুর কী ভাবে পরাতে হবে, হাত ধরে কী ভাবে এগিয়ে যেতে হবে এমনই সব খুঁটিনাটি বিষয় যাতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ক্যামেরায় তুলে ধরা যায়, তার দিকে কড়া নজর ছিল ইন্দ্রাণীর। আলতো পায়ে নুপুর বাজিয়ে বিয়ের মন্ডপে এসে পৌঁছায় শ্রীময়ী। ছাদনাতলায় রোহিত সেনকে দেখে তো সে আর চোখ ফেরাতেই পারে না!

বহুদিনের পুরনো প্রেম আজ পরিণতি পেল। রোহিত এবং শ্রীময়ীর চোখেমুখে তাই আজ তৃপ্তির ছোঁয়া। যৌবনে তারা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, দেরিতে হলেও আজ জীবনের এই পর্যায়ে এসে সেই স্বপ্নপূরণ হতে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছেন দুজনেই। উল্লেখ্য, রোহিত-শ্রীময়ীর বিয়ের খুশিতে ইন্দ্রানী এতটাই মশগুল হয়ে রয়েছেন যে তিনি আজ শুটিং ফ্লোরের প্রত্যেক কলাকুশলীকে বিরিয়ানি ট্রিটও দিয়েছেন!