বন্ধ হয়ে গেল একাধিক সিরিয়াল, থমকে শ্যুটিং, ক্ষোভে ফুঁসছে টলিপাড়া

Shoot From Home

দীর্ঘ প্রায় ১ মাস পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লকডাউন (Lockdown) বিধি সম্পর্কিত নতুন নির্দেশে ফের গতি এসেছে স্টুডিও (Studio) পাড়ায়। ৫০ জনকে নিয়ে শুটিং করার পক্ষে অনুমোদন দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন বাড়িতে থেকে শুট ফ্রম হোম (Shoot From Home) চলার পর স্টুডিওতে ফিরতে পেরে যেন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন কলাকুশলীরা। তবে শুটিংয়ের পথে আবারও বাঁধ সাধলো ফেডারেশন (Federation)! প্রযোজক এবং আর্টিস্ট ফোরামের পর এবার টেকনিশিয়ানদেরও কাজ বন্ধ রাখার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

শুধু টেকনিশিয়ানদেরই নয়, শুটিংয়ের প্রয়োজনে যে সকল ভেন্ডররা জিনিসপত্র সরবরাহ করতেন, তাদেরও কাজে না আসার নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas)। তার স্পষ্ট বক্তব্য, ফেডারেশনের নির্দেশ অমান্য করলে সেই টেকনিশিয়ানদের সদস্যপদ বাতিল করে দেওয়া হবে। এদিকে ১ মাস কাজ বন্ধ থাকার পর যখন স্টুডিও পাড়ার দরজা আবার খুলেছে, তখন টেকনিশিয়ানরাও কাজে ফিরতে চাইছেন।

ফেডারেশনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রযোজক শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, হোটেলে শুট করা নিয়ে ফেডারেশন যে অভিযোগের আঙুল তুলছে, সেই দৃশ্যগুলি লকডাউনের (Lockdown) আগেই শুট করা হয়েছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী যেখানে ওয়ার্ক ফ্রম হোমে (Work From Home)অনুমোদন দিয়েছেন সেখানে শুট ফ্রম হোমকে (Shoot From Home) “অন্যায়” কেন বলছে ফেডারেশন? এতে তো কলাকুশলীরাও তাদের সাম্মানিক পেয়েছেন!

বুধবার স্টুডিও পাড়ার দরজা খোলার পর প্রযোজক এবং আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যদের পাশাপাশি বহু টেকনিশিয়ানও কাজে যোগদান করার জন্য এসেছিলেন। মোট ১২টি ধারাবাহিকের শুটিং ফের শুরুও হয়েছিল। কিন্তু কাজ চলার মাঝেও বারবার ফেডারেশনের তরফ থেকে তাদের ফোন করে কাজ বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল! পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রডিউসার্স গিল্ড, চ্যানেল কর্তা এবং আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা বুধবার বিকেল ৫টা নাগাদ সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন।

“ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন প্রোডিউসর্স” এর সভাপতি শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় (Shaibal Bandopadhyay) জানালেন, ” সরকারি নিয়ম মেনে শ্যুটিং শুরু হয়েছিল। দেখলাম কলাকুশলীরা চাইলেও ফেডারেশনের হুমকির ভয়ে কাজে আসতে পারছেন না। ফেডারেশনের সমস্যা আসলে কী? সেটা বোঝা যাচ্ছে না। কাজ বন্ধ রেখে তো সার্বিক ক্ষতি হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রিকে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেনমেন্টের প্রযোজক সানি ঘোষ রায় (Sunny Ghosh Roy) জানিয়েছেন বুধবার সকালে নিয়মমতো শুটিং শুরু হয়েছিল। তার কথা অনুযায়ী, ‘‘অনেক টেকনিশিয়ানই এসেছেন। ফেডারেশন তাঁদের ভয় দেখাচ্ছে ক্রমাগত। কাজের মধ্যেও বার বার তাঁদের কাছে ফোন আসছে। কিন্তু তাঁদের টাকার দরকার। এক মাস বাড়িতে বসে ছিলেন তাঁরা। সেটা কেন বুঝছেন না ওঁরা?’’ এর সঙ্গেই তার সংযোজন, ‘‘আমরা প্রযোজকরা বলেছি, যাই হয়ে যাক, টেকনিশিয়ানদের সদস্যপদ বাতিল করে দিলে বা তাঁদের কালো তালিকায় ফেলে দিলে আমরা তাঁদের পাশে দাঁড়াব।’’

লেখক, পরিচালক এবং প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ও (Leena Gangopadhyay) বলেছেন, ‘‘মতবিরোধ আসতেই পারে। কিন্তু এ বার পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছে যে, আমাদের ভিতরের সমস্যার কথা বলতে হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের সাহায্যে। এটাই হতাশাজনক।’’ তিনি আরও বলেছেন, গতবছর লকডাউন পড়বে যখন সাড়ে ৩ মাস শুটিং বন্ধ ছিল তখন প্রযোজকদের তরফ থেকে ফেডারেশনের হাতে ৪০ লক্ষ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল। বিমাও করে দেওয়া হয়েছিল। “সে সব কথা তো এ বার উল্লেখ করা হচ্ছে না?”, প্রশ্ন তুলেছেন লীনা।

এদিন তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ধারাবাহিকের কাজ আরম্ভ হয়েছিল। তাহলে এখন কাজ থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে কোন উদ্দেশ্য নিয়ে?, প্রশ্ন করছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। প্রযোজক নিসপাল সিংহ রানেও (Nishpal singh Rane) আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি চান। এ বিষয়ে আর্টিস্ট ফোরামের বক্তব্য কী? আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে অভিনেতা শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “যিনি ধারাবাহিক বন্ধ রেখে আমাদের সকলের ভাতের থালায় লাথি মারছেন তাঁর রোজগারের উৎস এই ইন্ডাস্ট্রি নয়। তা হলে তিনি আমাদের ক্ষতি করছেন কেন?”

‘কৃষ্ণকলি’, ‘তিতলি’, ‘অপরাজিতা অপু’, ‘গ্রামের রাণী বীণাপাণি’, ‘বরণ’, ‘খেলাঘর’, ‘যমুনা ঢাকি’, ‘গঙ্গারাম’, ‘জীবন সাথী’, ‘মিঠাই’, ‘সাঁঝের বাতি’, ‘খড়কুটো’, ‘শ্রীময়ী’, ‘মোহর’, ‘দেশের মাটি’, ‘রিমলি’, ‘ওগো নিরুপমা’, ‘ফেলনা’, ‘কি করে বলবো তোমায়’, ‘ধ্রুবতারা’, এই ২০টি ধারাবাহিকের বিরুদ্ধে ফেডারেশনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও লক়ডাউনে শুটিং করার অভিযোগে টেকনিশিয়ানদের ধারাবাহিক বয়কট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রডিউসারস গিল্ড, আর্টিস্ট ফোরামের সঙ্গে ফেডারেশনের যে ইগোর লড়াই চলছে তাতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান আজ প্রশ্নের মুখে পড়েছে! ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas) অবশ্য এত তরজার মাঝেও নিশ্চুপ রয়েছেন। তাহলে শুটিংয়ের ভবিষ্যৎ কি? ফেডারেশনের অনুমতি না পেলে শুটিং কি আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে? এ প্রসঙ্গে প্রডিউসারস গিল্ডের বক্তব্য, “আজ রাতেই আমরা কল টাইম দেব। আশা করি শিল্পী থেকে কলাকুশলীরা সকলে কাজে আসবেন”।