‘আমরা বাঙালি হয়ে হিন্দি বলি, তোমরা কেন বাংলা শিখবে না’, ধুয়ে দিলেন শর্মিলা

জাতীয় মঞ্চে বাংলায় কথা হবে না কেন, হুংকার দিয়ে উঠলেন বাংলার মেয়ে শর্মিলা ঠাকুর

হালফিলের আধুনিক বাঙালি নিজের মাতৃভাষা ছেড়ে বাংলা-হিন্দিতে কথা বলতেই যেন অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। অনেক বাবা-মাকেই গর্ব করে বলতে শোনা যায় তাদের ছেলেমেয়েরা হিন্দি-ইংরেজিতে সড়গড়, তাদের বাংলাটা ঠিক আসে না। তবে এই বাংলার বাইরে যে বাঙালিদের বাস তারা কিন্তু মাতৃভাষা ভোলেননি। এমনই একজন বাঙালি হলেন বলিউডের (Bollywood) বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর (Sharmila Tagore)।

ইদানিং বাংলার রিয়েলিটি শো-গুলোতেও হিন্দি ভাষার দাপট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোনও কোনও গানের প্রতিযোগিতাতে তো আবার প্রতিযোগিরা বাংলাতে কথাও বলতে পারেন না, বাংলা বোঝেনও না। তাদের উদ্দেশ্যে এবার কড়া জবাব দিলেন শর্মিলা। সম্প্রতি একটি গানের রিয়েলিটি শো-তে এসে তিনি যা বললেন তাতে তাকে নিয়ে গর্ববোধ করছেন বাঙালিরা।

ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চে অতিথি বিচারক হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন শর্মিলা। এই মঞ্চে অনেক বাঙালি প্রতিযোগীও রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন সোনাক্ষী। সোনাক্ষী শর্মিলাকে দেখে এতটাই উত্তেজিত হয়ে যান যে তিনি বলেন,“আপনাকে দেখে আমার খুব, খুব, ভাল লাগছে। ম্যাম আমি কি আপনাকে কাকিমা বলে ডাকতে পারি?” উত্তরে শর্মিলা বলেন, কাকিমা, মাসিমা, দিদি, দিদিমা, তোমার যা ইচ্ছে তাই বলতে পারো।

এদিকে সেই সময় মঞ্চে বাংলাতে কথোপকথন হচ্ছিল। শুনে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন শোয়ের সঞ্চালক আদিত্য নারায়ণ। তিনি বাংলা বলার চেষ্টা করে বলে ওঠেন,“আমাকে বুঝতে পারি না”। আসলে তিনি বলার চেষ্টা করছিলেন তিনি কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। তাই শর্মিলা তাকে শুধরে দিয়ে বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি না’। এরপরই মেজাজ হারান শর্মিলা। আদিত্যকে রীতিমত ধুয়ে দিলেন তিনি।

শর্মিলা আদিত্যকে বলেন, “আমরা বাংলা থেকে এসে হিন্দি বলতে পারি। তাহলে তোমরা বাংলা শিখতে পারবে না কেন?” শর্মিলার কাছে বকুনি খেয়ে বেশ ঘাবড়েই গিয়েছিলেন আদিত্য। তারপর তিনি সঠিক বাংলায় বলে ওঠেন, “একটু একটু চেষ্টা করছি… ঠিক থা ক্যায়া?” ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ ভাইরাল হয়েছে। রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চে বাংলার মেয়ের জবাব শুনে গর্বে বুক ভরছে বাঙালিদের।

শর্মিলা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার থেকে দূরে রয়েছেন। সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা দিয়ে টলিউডে শুরু হয়েছিল তার যাত্রা। এরপর বলিউডের সুযোগ এসে যায় তার হাতে। টলিউডের পাশাপাশি বলিউডেও বছরের পর বছর রাজত্ব করেছেন তিনি। তবে বাংলা তার মন থেকে মুছে যায়নি। তা আজ আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল।