সঞ্জয়-জয়াকে বাড়ির চাকর বানাবে মনশিত! মনশিতকে ধুয়ে দিল জয়া

গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে জীবনমৃত্যুর লড়াই লড়ছে সঞ্জয় চৌধুরী, সর্বজয়ার (Sarbojaya) স্বামী। অথচ তারই বাড়ির সদস্যরা হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতে পার্টির আসর জমিয়েছে। মদের ফোয়ারা ছুটিয়ে খাওয়া-দাওয়ার আসর বসিয়ে ব্যবসায় সাফল্যের সেলিব্রেশন চলছিল বাড়িতে। ভাইয়ের খবর নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি সঞ্জয়ের ভাইয়েরা।

সারাদিন হাসপাতালে কাটিয়ে বাড়িতে ঢুকেই পরিবারের সদস্যদের এমন আচরণ দেখে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না জয়া। এতদিন সে সকলের অনাচার সয়েছে। তবে হাসপাতালে অসুস্থ স্বামীকে রেখে এসে বাড়িতে পার্টি চলতে দেখে সে হিতাহিত জ্ঞানশুন্য হয়ে পড়ে। গৌতম, কুশান, সঞ্জয়ের নিজের ভাই। হাসপাতালে সঞ্জয়ের অপারেশন চলছিল। অথচ বাড়ি থেকে একবারের জন্যও কেউ হাসপাতালমুখো হয়নি। শেষে কিনা বাড়িতেই মদের আসর বসিয়েছে!

কথায় কথায় মধুরার ভাই মনশিতের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে জয়া। মনশিত জয়াকে এই বলে শাঁসায় যে তাদের ব্যবসা এখন আর তাদের থাকবে না। সঞ্জয়কে ব্যবসা থেকে সরিয়ে দিয়ে তারাই ব্যবসা এবং সম্পত্তির দখল নেবে। এরপর সে জয়াকে বলে জয়া এবং সঞ্জয়কে এই বাড়িতে থাকতে হলে ফাইফরমাশ খাটতে হবে! চাকর-বাকরের মতো দিন কাটাতে হবে। শুনে আর চুপ থাকতে পারে না জয়া।

সে তার অপছন্দের শব্দ দিয়ে বেঁধে মনোশিতকে। সঞ্জয়ের গুরুতর অপারেশনের দিনেই ব্যবসায়ী বড় অর্ডার পাওয়ার সেলিব্রেশন পার্টি রাখা হয় বাড়িতে। গৌতম, মধুরা, রাজিব, কুশান, মানিনি এবং তাদের সঙ্গে মনোশিতও এই পার্টিতে অংশগ্রহণ করে। হাসপাতালে সঞ্জয়ের অবস্থা কেমন, সে সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পর প্রয়োজনও মনে করে না তারা। পরিবারের সদস্যদের এমন আচরণ দেখে রূপকথার গল্পে পড়া দৈত্যদানো, ভূত-পেত্নীদের সঙ্গে তাদের তুলনা করে জয়া।

এতদিন পরিবারের ব্যবসা একা সামলেছে সঞ্জয়। একার প্রচেষ্টায় সে ব্যবসাকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। আজ যখন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে সে হাসপাতালে ভর্তি, তখন তার আপনজনেরাই তাকে ব্যবসা থেকে বের করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। প্রাণে বাঁচলেও আর কখনো চলে ফিরে বেড়াতে পারবে না সঞ্জয়। একথা জেনে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে তারই আপন ভাইয়েরা। আপনজনদের এমন রূপ দেখে বিস্মিত সর্বজয়া।