টাকার জোরে সঙ্গীত পরিচালকদের আঙুলে নাচায় মিউজিক কোম্পানিগুলো, বিষ্ফোরক শঙ্কর মহাদেবন

বলিউডের (Bollywood) নামিদামি গায়ক শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম শঙ্কর মহাদেবন (Shankar Mahadevan)। শংকর-এহসান-লয়, এই ত্রয়ীর গান একসময় বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। তবে আজও সেই সব গানের চাহিদা রয়েছে শ্রোতামহলে। আজ থেকে ১০-২০ বছর আগে তারা যে গান শুনিয়েছেন, তার সুর আজকের শ্রোতারাও মাঝেমধ্যেই গুনগুনিয়ে ওঠেন। তবে তেমন গান এখন আর কই? অধিকাংশ শ্রোতাদের অভিযোগ, আজকের মিউজিক অ্যালবামে যে গান রিলিজ হয় তা কার্যত খুব কম সময়ের জন্যই শ্রোতাদের মনে থাকে!

শ্রোতাদের এই অভিযোগ অবান্তর বলে মনে করেন না খোদ গায়ক শঙ্কর মহাদেবন। তিনি নিজেও এই সমস্যা বিবেচনা করেছেন। তবে এই সমস্যার গোড়া কোথায় তা তিনি চিহ্নিত করে ফেলেছেন। সরবতি আনন্দবাজার অনলাইনের কাছে একটি সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বর্তমান প্রজন্মের মিউজিক অ্যালবামের গোড়ায় গলদ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন তিনি। তার অভিযোগ আজকালকার সময়কালে যে গান তৈরি হচ্ছে তাতে কার্যত শিল্পীর গান গাওয়া ছাড়া আর কোনও ভূমিকা থাকছে না! সবটাই নিয়ন্ত্রণ করছে মিউজিক কোম্পানিগুলি।

শঙ্কর মহাদেবন বলেন, সিনেমার পাশাপাশি সংগীতের দুনিয়াতেও ইদানিং বড়োসড়ো পরিবর্তন এসেছে। এখন ইন্ডাস্ট্রিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যিনি সংগীত সৃষ্টি করছেন আর যিনি সেই সংগীত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা দুজনেই আলাদা ব্যক্তি। গায়কের সাফ দাবি, “ মিউজিক কোম্পানি এখন সব নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের হাতেই টাকা-ক্ষমতা। সিনেমার গানের ক্ষেত্রে সুরকারেরা এখন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সঙ্গীত পরিচালককে অনেক সময়েই ফরমায়েশি কাজ করতে হয়। ‘বাজারে এটা চলবে, এটাই বানাও’— কোন গান মানুষ শুনবেন, সেটাও কোম্পানিই ঠিক করে। ভাল মিউজ়িক প্রোমোট না করলে, তা জনগণের কাছে পৌঁছবে কী করে?”

তবে বর্তমানে সুরকারদেরকে স্বাধীনতা দেয় এমন মিউজিক সংস্থাও কিন্তু আছে। তাই সংখ্যায় কম হলেও এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু ভালো গান তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন শঙ্কর মহাদেবন। গানের পাশাপাশি গানের রিয়েলিটি শো নিয়েও শঙ্কর মহাদেবন নিজস্ব মতামত তুলে ধরলেন। তিন-তিনবার সারেগামাপার বিচারক হয়েছেন তিনি। তিনি মনে করেন এই সমস্ত রিয়েলিটি শো আসলে প্রতিভা তুলে ধরার মঞ্চ।

শঙ্কর মনে করেন, রিয়েলিটি শোয়ে প্রথম হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই মঞ্চ প্রতিভা তুলে ধরার একটা মাধ্যম। সেখানে প্রতিযোগিরা নিজেদের যোগ্যতা পরখ করতে পারে। একইসঙ্গে বাবা-মায়েদের প্রতি তার পরামর্শ, “প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়া মানে, কেরিয়ার শেষ হয়ে যাওয়া নয়। অনেক সময়ে বাবা-মায়েরা সন্তানের উপরে চাপ তৈরি করেন— পড়াশোনা, খেলাধুলো সব ক্ষেত্রেই। কারণ, তাঁরা নিজেদের স্বপ্ন বাচ্চাদের উপরে চাপিয়ে দেন। ছোটদের নিজের মতো করে বেড়ে উঠতে দিতে হবে। ওদের উৎসাহ দিন, প্রত্যাশাপূরণের যন্ত্র বানাবেন না।”