এক ওভারে ৬টি ছক্কা মেরেছেন যে ৭ খেলোয়াড়, তালিকায় ২জন ভারতীয়

4198

ক্রিকেট খেলায় উত্তেজনা অনেকগুন বেড়ে যায় যখন ব্যাটসম্যানরা বড় বড় শট খেলে। বর্তমানে টি-২০/ আইপিএল জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে কারণ এটাই। ক্রিকেট বলকে চোখের পলকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়াট মোটেও সহজ কাজ নয়। এর জন্য দরকার কব্জির জোর এবং দক্ষতা।

এক ওভারে ৬টি ৬ সাধারণত দেখা না গেলেও ক্রিকেটের ইতিহাসে এটা বিরল নয়। সম্প্রতিক কালে যুবরাজ সিং এটা করে করে দেখিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুবরাজ সিংয়ের এই কীর্তি ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে আজীবন গেঁথে থাকবে। ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডকে এক ওভারে ৬টি ছক্কা হাঁকান যুবরাজ। আজ আমরা দেখে নেবো বিশ্বের এমনই ৭ জন ব্যাটসম্যান কে যারা নিজের ক্রিকেট কেরিযারে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

১. স্যার গারফিল্ড সবার্স :- ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি এই খেলোয়াড় সর্বপ্রথম এক ওভারে ৬টি ছক্কা মেরেছিলেন। ১৯৬৮ সালে গ্লেমর্গান ম্যালকম ন্যাশের বিরুদ্ধে ব্যাট করতে নেমে তিনি এই ইতিহাস তৈরী করেন। নিজের ক্রিকেট কেরিয়ারে ৯৩ টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ব্যাটসম্যান ৫৭॰৩৮ গড়ে মোট ৮০৩২ রান করেছেন। তার সর্বোচ্চ স্কোর (৩৬৫) ছিল পাকিস্থানের বিরুদ্ধে। তিনি বল হাতেও ছিলেন অসাধারণ। তিনি ৩৪.০৪ এর গড়ে ২৩৫টি উইকেট নেন। স্যার দন ব্রডম্যান এই জন্যই তাঁকে ‘five in one cricketer’ উপাধি দিয়েছিলেন।

 

২. রবি শাস্ত্রী :-  স্যার গারফিল্ড সবার্স-এর করা এই রেকর্ড ১৬ বছর পর রবি শাস্ত্রী দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এই রেকর্ড করেন। ১৯৮৫ সালে মুম্বাইয়ের হয়ে বরোদার বিরুদ্ধে ব্যাট করতে নেমে লেগ-স্পিনার তিলক রাজের বলে ব্যাট করতে নেমে তিনি এক ওভারে ৬টি ছক্কা হাঁকান। ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে একদিনের ক্রিকেট এবং টেস্টে তিনি ভারতের হয়ে ৮০টি টেস্ট এবং ১৫০টি ওয়ান ডে খেলেছেন।

বর্তমানে টিম ইন্ডিয়ার কোচের পদে রয়েছেন রবি শাস্ত্রী৷ তাঁর কোচিংয়ে ভারত ২১টা টেস্ট খেলে ১৩টি-তে জিতেছে৷ জয়ের রেকর্ড ৫২.৩৮ শতাংশ৷ টি টোয়েন্টিতে ৩৬টা ম্যাচে ২৫টি-তে জিতেছে ভারত৷ সাফল্যের হার ৬৯.৪৪ শতাংশ৷ ওয়ান ডে-তে ৬০টি ম্যাচের মধ্যে ৪৩টা ম্যাচেই জয়লাভ করেছে ভারত৷ সাফল্যের হার ৭১.৬৭ শতাংশ৷

৩. হার্শেল গিবস :- ওয়ান ডে ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনিং ব্যটসম্যান হার্শেল গিবস সর্বপ্রথম এক ওভারে ৬টা ছক্কা মেরেছিলেন। সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে নেদারল্যান্ডসের ডান ভ্যান বুঞ্জ -এর বলে গিবস ৪০ বলে ৭২ রান করেন,  এদের মধ্যে ছিল ৭টি ছক্কা এবং ৪টি চার।

৪. যুবরাজ সিং :- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুবরাজ সিংয়ের ৬বলে ৬টি ৬ ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে আজীবন গেঁথে থাকবে। ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডকে এক ওভারে ৬টি ছক্কা হাঁকান যুবরাজ। সেই ম্যাচে যুবরাজ সিং মাত্র ১২ বলে ৫০ রান করেছিলেন, যেটা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে দ্রুততম পঞ্চাশ রানের এমন একটি রেকর্ড যা আজ পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেননি। সেই ম্যাচে ভারতীয় দল ২০ ওভারে ২১৮ রান করে এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহেন্দ্র সিং ধোনির অধিনায়কত্বে ভারতীয় দল জয়লাভ করে।


আরও পড়ুন:- গত ৩০ বছর ধরে অক্ষত রয়েছে শচীনের ৫ টি বোলিং রেকর্ড


৫. হাজরাতউল্লা জাজাই :- এই আফগানিস্থানী ব্যাটসম্যান ২০১৮ সালে আফগানিস্থান প্রিমিয়ার লিগে কাবুলজানান-এর হয়ে আবদুল্লাহ মাজারির বলে এক ওভারে ৬ টা ৬ মারেন। ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আফগানিস্থানের ২৭৮ রানের মূল কারিগর ছিলেন তিনি। মাত্র ৬২ বলে ১৬২ রান করেছিলেন তিনি, যার মধ্যে ১১ টি বাউন্ডারি এবং ১৬ টি ওভার বাউন্ডারি ছিল।


আরও পড়ুন :- ক্রিকেটের এই ১০টি রেকর্ড কোনদিন কারোর পক্ষে ভাঙা সম্ভব নয়


৬. রস হোয়াইটলি :- ২০১৭ সালে ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি তে ওয়ার্সস্টারশায়ারের হয়ে এক ওভারে ৬টি ৬ মেরেছিলেন তিনি। কিন্তু তার পরেও ইয়র্কশায়ার কে ৩৭ রানে পরাজিত করা খুব একটা সোজা ছিলনা। এই ম্যাচে ডেভিড উইলির ১১৮ রানের ইনিংসের পরও আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন রস হোয়াইটলি। ১৬তম ওভারে রস এই রেকর্ডে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেন। যদিও এই ম্যাচে ম্যান অফ দা ম্যাচ ছিলেন ডেভিড উইলি যিনি ২৬ বলে ৬৫ রান করেছিলেন।


আরও পড়ুন :- ক্রিকেটের এই ১০টি রেকর্ড কোনদিন কারোর পক্ষে ভাঙা সম্ভব নয়


৭. লিও কার্টার :- সাম্প্রতিক কালে লিও কার্টার একমাত্র ক্রিকেটার যিনি এই রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। ২০২০-র জানুয়ারিতে অভালে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ১৬ তম ওভারে বা হাতি স্পিনার অ্যান্তন দেভকিচ এর বিরুদ্ধে ব্যাট করতে নেমে এক ওভারে ৩৬ রান করেন। তিনি নিউজিল্যান্ডের প্রথম খেলোয়াড় যিনি এই রেকর্ড করেছেন। ২২১ রানের লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে যখন স্টিফেন মারডক আউট হয়ে যান তখন মাঠে নামেন লিও।মাঠে শেষ পর্যন্ত তিনি ২৯ বলে ৭০ রান করে অপরাজিত ছিলেন যেখানে তিনি ৭ টা ওভার বাউন্ডারি এবং তিনটি বাউন্ডারি মেরেছিলেন।