ফের বন্ধ সিরিয়ালের শুটিং, নিশানায় একাধিক সিরিয়াল, বন্ধ হবার মুখে এইসব ধারাবাহিক

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অনেক বাধা-বিপত্তি, আর্টিস্ট ফোরামের (Artist Forum) সঙ্গে ফেডারেশনের (Federation) মনোমালিন্য কাটিয়ে যখন ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে স্টুডিও পাড়া, আনলক পর্বে যখন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ধারাবাহিকের (Serial) শুটিংয়ে (Shooting) আর কোনও বাধা নেই, ধারাবাহিকের শুটিং যখন আবার পুরনো ছন্দ মেনে শুরু হয়ে গিয়েছে ঠিক তখনই কোনও এক অজ্ঞাত উৎস থেকে আবার ধারাবাহিকের শুটিংয়ের উপর নিষেধাজ্ঞার বার্তা এলো শনিবার রাতে!

নির্দিষ্ট কোনও সংগঠনের নামে দেওয়া হয়নি এই বিজ্ঞপ্তি। শনিবার রাতে আচমকা এই ধরনের একটি বিজ্ঞপ্তি কার্যত প্রযোজক এবং আর্টিস্ট ফোরামের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “ডব্লিউএটিপি (মেগাসিরিয়ালের প্রডিউসার ইউনিয়ন) যতদিন না পর্যন্ত আমাদের মাদার বডি ফেডারেশন এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করছে, ততদিন পর্যন্ত আমরা কোনও নতুন কাজ (মেগা সিরিয়াল) শ্যুটিং এবং সেটের কোনও রকম কাজ করব না”।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা রয়েছে, সকলের সম্মিলিত মতামত নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই সকলের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে সকলেই এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। প্রসঙ্গত, বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, প্রধানত নতুন ধারাবাহিকের শুটিংয়ের ক্ষেত্রেই এই বিধি-নিষেধ লাগু হতে চলেছে। অর্থাৎ স্টার জলসা এবং জি বাংলায় যে ৪টি নতুন ধারাবাহিক আসতে চলেছে, তার শুটিং এখনই শুরু করা যাচ্ছে না।

শনিবার রাতের এই বিজ্ঞপ্তি কার্যত ম্যাজিক মোমেন্টস-এর ‘ধুলোকণা’, ব্লুজ এন্টারটেনমেন্টের ‘সর্বজয়া’, অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেনমেন্টের ‘মন ফাগুন’, সুরিন্দর ফিল্মসের ‘শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত মীরা’-র মতো নতুন ধারাবাহিকের শুটিংয়ের উপর রাতারাতি নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েছে। তবে কোন সংগঠনের তরফ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বেছে বেছে কেন নতুন ধারাবাহিক গুলিকেই টার্গেট করা হচ্ছে? সেই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

প্রযোজক-পরিচালক শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Shaibal Bandopadhyay) বুঝতে পারছেন না, এভাবে কারা নতুন ধারাবাহিকের শুটিং বন্ধ করার জন্য আড়ালে থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। আনন্দবাজার পত্রিকার কাছে তিনি জানালেন, ‘‘গত রাতের এই বিজ্ঞপ্তি অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। ১৬ জুন থেকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে কাজ শুরু হয়েছিল। ৩১ জুলাই ফের বৈঠকের কথা ছিল। তার আগেই এই ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত।’’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ধারাবাহিকের শুটিং নিয়ে যখন জটিলতা দেখা দিয়েছিল তখন আগের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে রাজ চক্রবর্তী, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় মধ্যস্থতা করেছিলেন। প্রথম বৈঠকের পরেই পরমব্রত (Parambrata Chatterjee) জানিয়েছিলেন, ‘‘কাজ শুরু হল মানেই ম্যাজিকের মতো যাবতীয় ক্ষোভ মুছে গিয়েছে সবার মন থেকে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আরও কয়েকটি বৈঠক হবে। ধাপে ধাপে আলোচনার মাধ্যমে যাবতীয় ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হবে।’’ এই দফাতে রাজ চক্রবর্তীকে (Raj Chakraborty) সবকিছু জানানো হয়েছে।

তবে বারংবার ধারাবাহিকের শুটিংয়ের উপর এমন কোপ ফেলার কারণ হিসেবে অনেকেই আবার ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাচ্ছেন। অভিনেতা-প্রযোজক-পরিচালকেরা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত নন। তাদের বাইরে কেউ বা কারা স্রেফ ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে আড়ালে থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। ক্ষুব্ধ কলাকুশলীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশকেও অমান্য করা হচ্ছে। রাজ চক্রবর্তী, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করে তাদের অপমান করা হচ্ছে।

আর্টিস্ট ফোরামের যুগ্ম সহকারী সম্পাদক দিগন্ত বাগচীর (Diganta Bagchi) মন্তব্য, ‘‘এই বিজ্ঞপ্তি দেখে আমরাও হতবাক। কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। বেলা গড়ালে বিষয়টি হয়তো পরিষ্কার হতে পারে।’’ আর্টিস্ট ফোরামের একাংশের দাবি, এর আগে যখন ২-৩ জন প্রযোজক কলাকুশলীদের পাওনা মিটিয়ে দিচ্ছিলেন না, তখন তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। অথচ লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, স্নিগ্ধা বসু, সুশান্ত দাস, নিসপাল সিংহ রানের মতো পরিচালক-প্রযোজক যারা সঠিক সময়ে কলাকুশলীদের পাওনা টাকা মিটিয়ে দেন, তাদের প্রজেক্টগুলিকেই বারংবার টার্গেট করা হচ্ছে! ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস অবশ্য এ প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্যই করেননি।