শরীরে এই ১০ রোগ থাকলে কোরোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা সবথেকে বেশি

শরীরে এই ১০ রোগ থাকলে কোরোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা সবথেকে বেশি

করোনাভাইরাস বিশ্ব মহামারীর রূপ নাওয়ার পর আতঙ্কিত বিশ্বের মানুষ। এমন অবস্থাতে প্রত্যেকের প্রশ্ন একটি প্রশ্ন কাদের এই সংক্রমণের সম্ভাবনা সবথেকে বেশি? সেক্ষেত্রে বলা যায় এই ভাইরাসে আশঙ্কা সবথেকে বেশি বয়স্ক ব্যাক্তিদের। এছাড়া যাদের কোনো ক্রনিক অসুখের ইতিহাস আছে, অর্থাৎ ডায়বেটিস, হার্টের সমস্যা, হাইপার টেনশন ইত্যাদি আছে তাদের এই ভাইরাস থেকে প্রাণহানির আশঙ্কা আছে। সম্প্রতি একটি জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধ অনুসারে বিজ্ঞানীরা বলেন যেসব পুরুষরা ৬৯ ঊর্ধ্ব এবং ধূমপান করেন অথবা ডায়বেটিস- হাইপারটেনশন এর রুগী তাদের মৃত্যুর হার সর্বাধিক। এই কথাটি প্রকাশিত হয় ল্যানসেট জার্নালে।

চিনের উহানে ১৯১ জন কোভিড ১৯-এর রোগীর উপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে যে ৫৪ জন মারা গিয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগেরই ডায়াবিটিস ও হাইপ্রেশার ছিল এবং বয়স ছিল ৭০-এর বেশি৷ কাজেই হাই রিস্ক মানুষদের বিশেষভাবে সাবধান হয়ে রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করা দরকার৷ দেখে নেওয়া যাক, কাদের কোরোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা সবথেকে বেশি৷

 কোরোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা যাদের সবথেকে বেশি

  • যাদের বয়স ৬৫ এর উর্ধ্বে। বয়স বাড়ার সাথে সাথেই বাড়বে মৃত্যুর আশঙ্কা।
  • হাইপ্রেশার, ডায়াবিটিস, হৃদরোগ, ফুসফুসের সমস্যা, কিডনির জটিল রোগে ভুগছেন যারা।
  • অত্যাধিক ধূমপান করে যারা।
  • হিমোগ্লোবিন কম বা অন্য কোনো কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম যাদের।
  • ক্যান্সার আছে বা এইচ এই ভি পজিটিভ এরকম মানুষদের।
  • শরীরের কোনো অঙ্গ বা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে এরকম ব্যাক্তিদের।
  • রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, মাল্টিপল স্কেলরোসিস বা ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ বা আলসারেটিস কোলাইটিস বা ক্রোনস ডিজিজ বা লুপাস আছে৷
  • কিডনি বা শরীরের অন্য কোনও প্রত্যঙ্গ কিংবা বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে৷

বাঁচার উপায় কি?

ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। সংক্রমণ হওয়া মানেই এরকম নয় যে কোনোভাবেই বিষয়টিকে সামলানো যেতে পারবেননা বা মারা পড়তে হবে।সঠিক নিয়ম মেনে চললেই বিপদের আশঙ্কা কম। এই রোগ খুব বেশী সংক্রামক হলেও বিপদ খুব একটা বেশী নয়। বরং অযথা উত্তেজনা এবং চিন্তার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও কমে যাবে এবং সমস্যা বাড়বে। তার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে কাজ করতে হবে।

কি কি বিষয় মানলে এড়ানো যাবে বিপদ?

ধূমপান শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কর্মক্ষমতা যেমন কমায় তেমনই শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমায় ফলে সংক্রমণের পর ধূমপান করলে শরীরের অবনতি হতে পারে। তাই ধূমপান অবিলম্বে ছাড়তে হবে। শুধু নিজের জন্য নয় বরং আশেপাশের মানুষের কথা ভেবেও যাতে আপনার ধূমপান থেকে পাশের মানুষটির প্যাসিভ স্মোকিং না হয় কারণ প্যাসিভ স্মোকিং ও সমান বিপদজনক।

• হ্ন এর থেকে দাওয়া সতর্কতা যেমন ঘন ঘন সাবান ও জল বা অ্যালকোহল যুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন, ঘরদোর পরিষ্কার রাখুন, জমায়েত বা ভিড় এড়িয়ে যান।

• ডাক্তারের দাওয়া ওষুধ ঠিক ভাবে খান এবং পরবর্তী পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনে ওষুধ মজুদ করে রাখুন। পরে যদি বেরোতে না পারেন! রোগ বাড়াবাড়ি হলে যে ওষুধ কাজে লাগতে পারে তাও আনিয়ে নিন।

• ঘরে খাবারের ব্যাপারে আগে থেকে ভেবে রাখুন, অন্তত দুই সপ্তাহের প্রয়োজনীয় বাজার করে রাখুন।

• রোগের উপসর্গ যেমন জ্বর, সর্দি, গলা ব্যাথা বা শ্বাসকষ্ট হলে সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

• বাড়িতে একান্তে বিশ্রামে থাকুন। এই সময় বাড়ি থেকে বেরোবেন না।