অমিতাভ বচ্চন সত্যজিত্‍ রায়ের ‘ফেলুদা’ হতে পারেননি কেবলমাত্র একটি কারণে

229

আজ ২রা মে। বাংলার অস্কারজয়ী কিংবদন্তি শিল্পীর সত্যজিৎ রায়ের ১০০তম জন্মদিন আজ। আপামর বাঙালি আজ তাদের প্রিয় পরিচালক, লেখককে স্মরণ করছেন। অসাধারন তাঁর লেখনী। তেমনই অসাধারণ তাঁর চিত্র পরিচালনা। পরিচালকের মস্তিষ্কপ্রসূত গল্প, উপন্যাস, সিনেমাগুলি আজও বাঙালির কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য। সত্যজিৎ রায়ের ১০০ তম জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা এবং সম্মান জ্ঞাপন করেছেন তাঁর অনুরাগীরা।

বাঙালির কাছে “গোয়েন্দা’ মানেই সত্যজিৎ রায়ের “ফেলুদা”। প্রায় ৬ ফিট উচ্চতা সম্পন্ন সুঠাম চেহারার অধিকারী “ফেলুদা”কে নিয়ে যেন আলাদাই এক ফ্যান্টাসি রয়েছে বাঙালির। বাজারে অবশ্য “ব্যোমকেশ বক্সী”, “শবর”, “জয়ন্ত”, “কাকাবাবু” দের মতো তাবড় তাবড় গোয়েন্দারা রয়েছেন। তবে সত্যজিৎ রায়ের “ফেলুদা” কিন্তু বাঙালি গোয়েন্দাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। এমনটাই বিশ্বাস করেন সত্যজিতের অনুরাগীরা।

সেই “ফেলুদা”কে বইয়ের পাতা থেকে তুলে টেলিভিশনের পর্দায় ফুটিয়ে তোলার প্রথম প্রয়াস চালিয়েছেন সত্যজিৎ নিজেই। সত্যজিৎ রায়ের “ফেলুদা” হিসেবে দর্শক পর্দায় দেখেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে। বাঙালির মনে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় “ফেলুদা” হিসেবে যেন একেবারে গেঁথে বসেছেন।

তবে সত্যজিৎ রায় কিন্তু “ফেলুদা”কে শুধু বাঙালীর জন্য আবদ্ধ করে রাখেন নি। বলিউডেও “ফেলুদা”র আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় সেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তৎকালীন বলিউড অভিনেতা শশী কাপুর। সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা সিরিজের “যত কান্ড কাঠমান্ডুতে” এর অনুসরণে বড় পর্দায় মুক্তি পায় “কিসসা কাঠমান্ডু কা”।

তবে জানেন কি “ফেলুদা’ হিসেবে কিন্তু সত্যজিৎ রায়ের প্রথম পছন্দ ছিলেন খোদ অমিতাভ বচ্চন? অমিতাভ বচ্চনের কাছে এই মর্মে তিনি একটি প্রস্তাবও পাঠিয়েছিলেন সেই সময়। প্রিয় পরিচালক সত্যজিৎয়ের সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন অমিতাভ। তাহলে কি এমন ঘটলো যে দর্শক বড় পর্দায় “ফেলুদা” হিসেবে অমিতাভ বচ্চনকে দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন?

আটের দশকে সত্যজিৎ যখন বড়পর্দায় “ফেলুদা”কে লঞ্চ করার কথা ভাবছেন, অমিতাভ বচ্চন তখন বলিউডের সেরা অভিনেতা। একের পর এক ছবির সঙ্গে চুক্তি ছিল তাঁর। তাই “ফেলুদা”র চরিত্রে অভিনয় করার মতো আলাদা করে সময় বের করতে পারেননি অমিতাভ। যে কারণে সত্যজিতের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে হয় তাকে।

আরও পড়ুন : সত্যজিৎ রায়ের প্রেম কাহিনী হার মানাবে যে কোনও সিনেমার গল্পকে

পরে অবশ্য সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় অস্কার প্রাপ্ত ছবি “শতরঞ্জ কি খিলাড়ি”তে অমিতাভ বচ্চনের “ব্যারিটোন” গলার আওয়াজ ব্যবহার করা হয়েছিল। সত্যজিৎ রায়ের সিনেমায় অভিনয় করার সুযোগ না হলেও, এভাবেই আংশিক কাজ করে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে বাধ্য হয়েছিলেন অমিতাভ।