বাংলা সিনেমায় নেপোটিজম নিয়ে শ্রীলেখার অভিযোগে মুখ খুললেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়

335505

সুশান্তের আত্মহত্যার পর থেকে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি গুলির কালো দিক, নেপোটিজম বা স্বজনপোষণের নীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠছে সকলেই। নেট দুনিয়ায় জোরালো হয়ে উঠেছে এই স্বজনপোষণের নীতি। আলিয়া ভাট, কারন জোহর, সলমন খান সহ বহু তাবড় তাবড় তারকাদের বয়কট করার দাবিও তোলে নেটিজেনেরা।

১৪ ই জুন নিজের বাড়িতেই আত্মহত্যা করেন বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। ইতিমধ্যেই এই আত্মহত্যার তদন্তে লেগে আছে মুম্বাই পুলিশ। প্রাথমিকভাবে অভিনেতার এইরূপ সিদ্ধান্তের কারণ জানা গিয়েছিল ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ। কিন্তু এই মানসিক অবসাদের জন্য দায়ী বলিউডের স্বজনপোষণের ব্যবস্থা, এমনটাই মনে করেন নেটিজেন সহ বহু তারকারাও।

বি টাউনের সলমন খান, করণ জোহর, মুকেশ ভাট সহ বহু তারকাদের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে স্বজনপোষণের অভিযোগ। কিন্তু শুধুই কি বলিউডই এই নেপটিজমের পোষক? টলিউডেও এমন এমন বহু ঘটনা ঘটে। টলিউডের স্বজনপোষণ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। “আমার মৃত্যুতে সাদা জামা পরে শোক দেখিও না”, স্পষ্ট মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী।

Source : Crazum

সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। পড়াশুনা থেকে টলিউডে পা রাখা ও এতদিন এই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার লড়াই সবই খুলে বলেন সেই দীর্ঘ ভিডিওটিতে। সেখানেই জানান টলিউডে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। তিনি জানান ইন্ডাস্ট্রিতে সুশান্তের মতো তাঁর ও কোনো “গডফাদার” নেই।

তাই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তিনি নিজেই তৈরি করে নিয়েছেন। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে এর আগেও বহু বার এমন বহু ঘটনার শিকার হয়েছে অনেকেই, কেবল মেয়েরা নয়, ছেলেদেরও শিকার হতে হয়েছে ইন্ডাস্ট্রির পাওয়ার গেমের। তিনি জানান ইন্ডাস্ট্রিতে সবসময়েই চলে এক নোংরা পাওয়ার গেম। যার শিকার হয়েছেন তিনি নিজেও। কারণ তার পাশে কেউ ছিলেন না।

নব্বইয়ের দশকে যখন তিনি প্রথম ইন্ডাস্ট্রিতে পা দেন তখন হিট জুটি ছিল প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা। কোনোদিন মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করার সুযোগ তিনি পাননি। সবসময়েই নায়িকার বোন কিংবা দিদির চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ইন্ডাস্ট্রির তাবড় তাবড় অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালকরা মেয়েদের নায়িকার চরিত্রে অভিনয় দেওয়ার বিনিময়ে অশ্লীল কাজ করতে বলত। কিন্তু মেয়ে হয়েও তিনি কোনোদিন এই পথটি বেচে নেননি। তাই কার্যতই একঘরে করে দেওয়া হয় তাঁকে। এই পাওয়ার গেমের দরুন তিনি কোনোদিনও সৃজিত মুখোপাধ্যায়, শিবপ্রসাদ-নন্দিতা, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাননি।

তিনি আরো বলেন, “আসলে আমি ক্যামেরার সামনে ভালো নাটক করতে পারি। কিন্তু ক্যামেরাটা বন্ধ হয়ে গেলে অভিনয়টা আর করতে পারি না। ফলে প্রথম দিন থেকেই আমি এখানে ঠিক খাপ খাওয়াতে পারলাম না।” অভিনেত্রী জানান তিনি ও ডিপ্রেশনের রুগী। কিন্তু তিনি হার মানতে রাজি নন, তাই লড়াই করে এসেছেন সব সময়ে। তাঁর বাড়ির সামনে লাইন দিয়ে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে না। তিনি ইন্ডাস্ট্রির অন্যদের মতো অত সফল হতে পারেনি। কিন্তু তাতে তার কোনো আক্ষেপ নেই, নিশ্চিন্তে ঘুমান তিনি।

শ্রীলেখার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁকে আলাদা করে কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি। কারণ অভিনেতার মতে, তাঁর বাবার চেহারার একবিন্দুও তিনি পাননি। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই ইন্ডাস্ট্রিতে আসা।

আরও পড়ুন :- ‘বিছানায় যাইনি, তাই প্রাপ্যও পাইনি’, শ্রীলেখার স্বজনপোষণের অভিযোগে ধুয়ে দিলেন স্বস্তিকা

তিনি বলেন, ”আমার সঙ্গেও এমন ঘটেছে, কোনও একটা ছবিতে নায়কের সঙ্গে একটা মাত্র দৃশ্য ছিল, সেটা ডাবিং করতে গিয়ে দেখি আমি নেই। দুবছর আগে আমি একটা ফ্রাঞ্চাইজির চিত্রনাট্য শুনেছি, তারপর দেখছি, সেটা অন্য কেউ করছে। এটা যদি আমি মাথায় রাখি, তাহলে তো জীবনে বাঁচতও পারব না।”তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেক পেশাতেই অনেকের মনেই হয়ত এই ধারনাটা আসে যে কোনও না কোনও ভাবে তাঁরা ঠকেছেন। এই ধারনাটা যদি মনে বসে যায়, সেখান থেকে বের হওয়ার কোনও রাস্তা কিন্তু খুব কঠিন।”