“গায়ের রঙের সঙ্গে সৌন্দর্য সম্পর্ক নেই” ২ কোটির বিজ্ঞাপন ফেরালেন অভিনেত্রী

যুগ যুগ ধরে ভারতে গায়ের রঙ কে সৌন্দর্যের মাপকাঠি হিসাবে গণ্য করা হয়। তাই তাই কালো গায়ের রঙ নিয়ে এই দেশের মানুষের চিন্তার কোনও শেষ নেই। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই বছরের পর বছর ধরে জমিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে ফেয়ারনেস ক্রিমগুলি।

বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বারবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে কালো গায়ের রঙ কে ফর্সা করার প্রলোভন দেখিয়ে প্রচারের মাধ্যমে নিজেদের ব্যবসা রমরমিয়ে চালাচ্ছে কিছু ফেয়ারনেস ক্রিম। বিজ্ঞাপনে দেখানো হচ্ছে মেয়েটি যতই প্রতিভাবান হোক না কেন জীবনে সফল হতে হলে তাকে ফর্সা হতেই হবে। হয়তো এই কারণেই ভারতীয় সমাজ এখনো সেই ফর্সা হওয়ার ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তাই ফেয়ারনেস ক্রিম গুলির পাতা ফাঁদে তারা বারবার পা দিয়েছে।

গালে তার ব্রণের দাগ, মুখে নেই মেকআপ, চেষ্টা করেননি আবেদনময়ীর সাজাতেও। তিনি সাধারণ রূপে অপরূপা। ফর্সা হলে বাড়ে আত্মবিশ্বাস এবং জীবনে আসে সাফল্য। এই ধারণা বিশ্বাস করতে পারেননি তামিল অভিনেত্রী সাই পল্লবী। ভারতের নায়িকা হওয়ার সংজ্ঞাটাই বদলে দিয়েছেন তিনি। তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি ব্যতিক্রমী, উপস্থাপন করেছেন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একটি ফেয়ারনেস ক্রিমের ২কোটি টাকার বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি

২০১৫ সালে “প্রেমাম” ছবির মাধ্যমে সিনেমায় অভিষেক হয় সাই পল্লবীর। প্রতিটি ছবিতেই তার লুক রাখা হয়েছে একদম সাদামাটা। এমনকি তার গালের ব্রণগুলোও  ঢাকা হয়নি মেকআপ দিয়ে। তামিল তেলেগু মালায়ালাম ছবির জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন কোনও ফেয়ারনেস ক্রিম এর প্রচার তিনি করবেন না। তিনি বিশ্বাস করেন প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই তার সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে। মেকআপ করে তাকে ভেতর থেকে বেড় করে আনা যায় না।

“আমি কি করবো ওই বিজ্ঞাপন থেকে টাকা রোজগার করে?” একটি সাক্ষাষ্যত্‍কারে স্পষ্ট জানিয়ে দেন সাই পল্লবী। তিনি আরও বলেন “এই ধরনের বিজ্ঞাপন করা মানেই হলো ভারতীয় নারীকে অপমান করা। এটা আমি কখনই করতে পারব না কারণ এটা ভারতীয় দের গায়ের রঙ।” একটি মানুষের গায়ের রঙ কালো হতেই পারে। তা বলে কি সে জীবনে সফল হতে পারবে না? আফ্রিকার মানুষদের ও তো গায়ের রঙ কালো তাহলে তারা কি কেউ কোনোদিন সফল হয় না? টাকাটাই জীবনের সব কিছু নয় আত্মসম্মান সবার উপরে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রাণাওয়াত এইরকম একটি বিজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। শোনা যায় অভিনেতা অভয় দেওয়ালও এরকম একটি বিজ্ঞাপনে প্রস্তাব একসময় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তবুও বলিউডের অধিকাংশ তারকা এইরকম বিজ্ঞাপনী প্রস্তাব হাতছাড়া করেন না।

বলিউড অভিনেত্রী নন্দিতা দাস ডার্ক ইজ বিউটিফুল নামে একটা অভিযান চালিয়ে বার্তা দিয়েছিলেন “এই রকম বিজ্ঞাপন দেখলে নারীরা নিজেদের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। নিজের মধ্যে যে খামতিটা রয়েছে সেটা বারবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এই ধরনের বিজ্ঞাপন সমাজের জন্য ক্ষতিকারক।”