প্রতিমুহূর্তে মারণ রোগের সঙ্গে লড়াই করছেন ঐন্দ্রিলা, সঙ্গিনীর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আবেগপ্রবণ সব্যসাচী

Sabyasachi Chatterjee Shares an Emotional note on Girlfriend Aindrila Sharma`s Health : প্রতিমুহূর্তে মারণ রোগের সঙ্গে লড়াই করছেন ঐন্দ্রিলা, সঙ্গিনীর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আবেগপ্রবণ সব্যসাচী

লড়াইটা শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৬ বছর আগে। ২০১৫ সালে ক্যান্সারের জীবাণু ধরা পড়ে টেলি অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার (Aindrila Sharma) শরীরে। অদৃশ্য এক মারণ শক্তির বিরুদ্ধে ঐন্দ্রিলার বেঁচে থাকার লড়াইয়ের সেই শুরু। শিরদাঁড়ার ক্যান্সারে আক্রান্ত ঐন্দ্রিলা প্রায় দেড় বছর মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই চালিয়ে সুস্থই হয়ে উঠেছিলেন। তবে গত বছর ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন ঐন্দ্রিলা। সেই থেকে আজও তার লড়াই চলছে। আর এই লড়াইয়ে তার সর্বক্ষণের সঙ্গী সব্যসাচী চৌধুরী (Sabyasachi Chowdhury)।

বিগত দেড় বছর যাবত ঐন্দ্রিলার লড়াইয়ের সাক্ষী তিনি। প্রতিমুহূর্তে ঐন্দ্রিলার পাশে থেকে তাকে লড়াইয়ের জন্য সাহস যুগিয়ে চলেছেন সব্যসাচী। তার মাঝেই সঙ্গিনীকে নিয়ে আবেগঘন হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করলেন তিনি। গত মঙ্গলবার অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঐন্দ্রিলার শারীরিক অবস্থার আপডেট দিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে রাতদিন যারা তার সুস্থতা কামনা করে চলেছেন, তাদের উদ্দেশ্যে সব্যসাচী লিখেছেন,

“আরো একটা মাস শেষ হলো। আমরা মাঝেমাঝেই মাস গুনি, একটা মাস শেষ হলেই আবার দিন গুনি পরের মাস শেষ হওয়ার। কখনও ডানায় চোট লাগা পাখি দেখেছো? আমি প্রতিনিয়ত দেখি। টিভিতে যখনই কোনো সিরিয়াল চলে, আমি দেখি ওকে ছটফট করতে। বন্ধ করে দেয়। চেনাশোনা বন্ধুরা চুটিয়ে অভিনয় করছে আর এদিকে ওকে শুয়ে থাকতে হচ্ছে, এটা মন থেকে মেনেই নিতে পারে না। নিজের পুরোনো কাজগুলোই ফের দেখে শুয়ে শুয়ে।”

“তবে হ্যাঁ, আজকাল একটা সিরিয়াল রোজ নিয়ম করে দেখে, সেটা হলো ‘ধূলোকণা’। লালন আর মিমি দিদি হল পছন্দের চরিত্র, মাঝেমধ্যেই শুয়ে শুয়ে মিমি দিদির নকল করে দেখায় আমাকে। আমার অভিনয় অবশ্য খুব কমই দেখে, ওর ধারণা দীর্ঘকাল আমি বামদেবের চরিত্রে অভিনয় করার ফলে বাস্তব জীবনেও ওরকম ক্ষ্যাপা হয়ে উঠতে পারি কখনও”। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ সার্জারি হয়ে গিয়েছে ঐন্দ্রিলার। চলছে কেমোথেরাপি। অভিনেতা জানাচ্ছেন সার্জারির থেকেও বেশি কষ্টকর কেমোথেরাপি।

সব্যসাচী লিখেছেন, “আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম সার্জারিটাই আসল, সেটা সামলে উঠলে বাকি ট্রিটমেন্টটুকু খুব একটা সমস্যার হবে না। তবে বিষয়টা একেবারেই উল্টে গেছে। সার্জারির পরে যে কেমোথেরাপি দেওয়া হচ্ছে সেটা অনেকটাই বেশি কষ্টের। কিছু কিছু দিন বড়ই কষ্ট পায়, মাঝেমধ্যেই ব্লাড প্রেসার অস্বাভাবিক ভাবে কমে যায়, বিছানা থেকে মাথাই তুলতে পারে না। রক্তের মধ্যেও বিস্তর গোলযোগ দেখা যায় তখন। ব্রহ্মতালু থেকে শুরু করে পায়ের পাতা অবধি মারাত্মক যন্ত্রনা থাকে, বিস্তর ব্যাথার ওষুধেও যা কমতে চায় না।”

“হাত পা টিপে দিলে বা গরম সেঁক দিলে সাময়িক আরাম পায় ঠিকই কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। হাই ডোজের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে কোনোমতে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে হয়। যে কটা দিন ভালো থাকে, সেই দিনগুলো শুয়ে শুয়ে সিনেমা দেখে আর মোমো খায়।” তিনি আরও লিখেছেন, “একটু শরীর ভালো থাকলেই বিরিয়ানি খাওয়ার বায়না করে। সারা ঘরে এতো ওষুধপত্র ছড়িয়ে আছে যা দিয়ে ছোটোখাটো একটা ডিসপেনসারি হয়ে যায়।”

সবশেষে তিনি লিখেছেন, “আসলে অসুখটা এতটাই দীর্ঘায়িত যে শুরুতে যে মানুষগুলি উৎকণ্ঠিত থাকেন তারাও আস্তে আস্তে উপেক্ষা করতে শুরু করেন। আর জগতের নিয়ম অনুযায়ী সেটাই খুব স্বাভাবিক বিষয়, সেটা ও নিজেও বোঝে। শরীরটা খারাপ থাকলে মাঝেমধ্যে শিশুর মতন আচরণ করে। মাঝেমাঝে ঘুমানোর আগে, বই পড়ে ভূতের গল্প শোনাতে হয়। একদিন ওকে ফিনিক্সের গল্প পড়ে শোনালাম, আমি জানি ছয় বছর আগে যেমন ফিরে এসেছিলো, ঠিক সেইভাবেই আবার ফিরবে। সেই জন্যই তো আমরা দিন গুনি।”

সব্যসাচীর এই পোস্টের নিচে নেটিজেনদের লাইক এবং কমেন্ট উপচে পড়ছে। সকলেই তাদের প্রিয় জাহ্নবীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁধে তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়াতে টেস্ট করিয়ে ওয়েন্দ্রিলা জানতে পারেন তার ফুসফুসে টিউমার হয়েছে। এরপর কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর আবার শুটিং ফ্লোরে ফেরেন তিনি। কিন্তু শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কারণে আবার শুটিং বন্ধ করে দিতে হয় অভিনেত্রীকে। শুরু হয় কেমোথেরাপি।

কেমোর পর মাথার চুল উঠে গেলেও ভেঙে পড়েননি ঐন্দ্রিলা। ইনস্টাগ্রামে নিজের ছবি পোস্ট করে সৌন্দর্যের নতুন সংজ্ঞা দিয়ে লিখেছিলেন, “চুলেই নারীর সৌন্দর্য, আর নয়”। তার মুখের অমলিন হাসি হাজার হাজার ক্যান্সারাক্রান্তের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। আগামী দিনেও ঐন্দ্রিলার মুখের হাসি যেন অমলিন থাকে, এমনটাই প্রার্থনা করছেন তার অনুরাগীরা।