অবশেষে চাপের মুখে নতিস্বীকার, নিজের “অপরাধ” স্বীকার করে নিলেন রিয়া

সুশান্ত সিং রাজপুতের অজ্ঞাত কারণবশত আত্মহত্যা ক্রমশ একটি রহস্যের সৃষ্টি করছে। কী কারনে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে প্রতিভাবান অভিনেতা মৃত্যুর মত পথকে বেছে নিয়েছিলেন তা জানতে পারা যায় নি। তাই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন রকম মত উঠে এসেছে।

কেউ বলছেন আত্মহত্যা, কেউ বলছেন খুন। কেউ বলছেন তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছিল। আবার কেউ বলছেন দীর্ঘ সময় ধরে হতাশায় ভুগতে ভুগতে তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন।

তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে কখনো চিহ্নিত করা হচ্ছে বলিউডের নেপোটিজম কে। কখনো কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে তার প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তী কে। রহস্যের জাল যেন ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। কিন্তু আসল সত্য উদঘাটিত হচ্ছিল না কিছুতেই। তাই সন্দেহের নিশানায় একের পর এক মানুষ আসছিলেন।

এরপরই সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু মামলার তদন্তভার হাতে নিয়ে নেয় সিবিআই। তারপর সিবিআই একটা একটা করে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করেন। সিবিআই জানতে পারেন যে সুশান্ত সিং রাজপুত মাদকাসক্ত ছিলেন। সুশান্ত সিং রাজপুত এর মৃত্যুতে মাদক যোগের এই প্রসঙ্গ ই পুরো ঘটনার মোড় কে ঘুরিয়ে দিয়েছে।

সিবিআই এর তদন্তে দাবি করা হয়েছে যে রিয়ার সঙ্গে দেখা হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে সুশান্ত সিং রাজপুতের। এরপরই সুশান্ত মাদক সেবন করতে শুরু করেন। জানা যাচ্ছে যে রিয়া চক্রবর্তী সহ তার পুরো পরিবারই মাদকাসক্ত ছিল। সুশান্তকে মাদকের নেশা রিয়া চক্রবর্তী ই ধরিয়েছিলেন। সুশান্তের জন্য রিয়ার ভাই সৌভিককে দিয়ে বাড়িতে যথেষ্ট পরিমাণে মাদকদ্রব্য ও মজুত রাখা হতো।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভাই সৌভিকের সঙ্গে ১৭ মার্চ মাদক সংক্রান্ত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের কথা জেরার মুখে স্বীকার করে নেন রিয়া। সূত্রের খবর, প্রথমে চুপ থাকলেও NCB-র বারবার প্রশ্নের মুখে তিনি অবশেষে মুখ খোলেন। ভাই সৌভিক চক্রবর্তীকে দিয়ে তিনি মাদক আনাতেন কিনা? NCB- আধিকারিকদের এপ্রশ্নের জবাবে রিয়া বলেন ‘হ্যাঁ’। তবে কার জন্য মাদক আসতো, সেবিষয়ে রিয়া মুখ খোলেননি।

আজকের মতো জিজ্ঞাসাবাদের পর্ব শেষ। আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার জেরার জন্য রিয়াকে ফের তলব করেছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। প্রথমদিন সাত ঘণ্টারও বেশি সময়ে ধরে জেরা করা হয়েছে রিয়াকে।

প্রসঙ্গত, গত দু’দিন ধরে এনসিবি যাঁদেরকেই জেরা করেছে, সন্ধের পর দেখা গিয়েছে তাঁদেরকেই গ্রেফতার করেছে নারকোটিক্স ব্যুরো। তাই রিয়ার ক্ষেত্রেও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না। এমনকি রিয়ার আইনজীবী সতীশ মানশিন্ডেও জানিয়েছিলেন যে গ্রেফতার হওয়ার জন্য তাঁর মক্কেল প্রস্তুত।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সুশান্ত সিং রাজপুত এর মৃত্যুতে ড্রাগ অ্যাঙ্গেল খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। এই গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের মধ্যে একজনের সাথে রিয়া চক্রবর্তীর ভাইয়ের  যোগাযোগ আছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত বিষয়ে জেরা চলছে।

সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে, সুশান্তের মাদক যোগের কথা জানতে পেরে গিয়েছিলেন তার দিদি। এটি জানতে পারার পরই তিনি তার ভাইকে পরামর্শ দেন যে এই সকল জিনিস থেকে দূরে থাকতে ও রিয়ার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে। এই কারণেই রিয়ার সাথে সুশান্তের দিদির সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে।

এরপর রিয়াও একপর্যায়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।রিয়া সুশান্তকে জানান যে পরিবার ও তার মধ্যে যেকোনো একজনকে বেছে নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে সুশান্ত পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা শুরু করে দেন। পরিবারের তরফ থেকে বারবার তাকে বোঝানো হতে থাকে কিন্তু তা সত্ত্বেও সুশান্ত সেই সময় কোন কথাই শুনতে চাননি।

আরও পড়ুন : রিয়ার উত্তরে সন্তুষ্ট নয় CBI, পলিগ্রাফি টেস্টের সম্ভাবনা, পলিগ্রাফি টেস্ট কী?

সিবিআই মনে করছেন যে সুশান্তের মৃত্যুর আগে তার প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সাইলনের আত্মহত্যা অভিনেতাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। এরপরই রিয়ার সাথে তার ঝামেলা হয় এবং রিয়া সুশান্তের ফ্ল্যাট বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

সিবিআইয়ের অনুমান মাদকের প্রতি অত্যাধিক আসক্তি, পারিবারিক জীবনের  সমস্যা এবং রিয়ার চলে যাওয়া সমস্ত কিছু নিয়ে  অবসাদে ভুগছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। এই কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। উল্লেখ্য সুশান্তের একাউন্ট থেকে রিয়ার দিল্লির ব্যাংক একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এখনো অবধি।