JIO, Vodafone, Airtel, BSNL গ্রাহক? বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এই পরিষেবা

প্রত্যেক দিনই নিত্যনতুন নির্দেশিকা।তবে বর্তমানের এই সব নির্দেশিকা আমাদের পুরানো অনেক বাধ্যবাধকতা থেকে যেমন মুক্তি দেয় তেমনই আবার নতুন কিছু বেড়াজালে বাঁধেও ।তাই নির্দেশিকার ভালো মন্দ দুই দিকই আছে। নতুন বছরের শুরু হওয়ার আগেই নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য তা ব্যাঙ্কের বিভিন্ন কাজ বা গ্যাসের বা মোবাইল সংযুক্তি বিষয়ক কাজ সবেতেই দিতে হয়  বেশ কিছু দরকারি কাগজ যদি তার দরকার পড়ে।তেমনই বর্তমানের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হল মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডার সংক্রান্ত ।

বর্তমানে প্রত্যেকের কাছেই স্মার্টফোন আর প্রায় সব স্মার্টফোনেই আছে ডুয়াল সিম ব্যবহারের সুবিধা।তাই পছন্দমতো মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারের কানেকশন আমরা নিয়ে থাকি যার যেমন ব্যবহারের সুবিধা অনুযায়ী।এদের মধ্যে আমার সাধারণত প্রিপেড কানেকশন বেশি ব্যবহার করে থাকি।তবে অনেকেই ব্যবহার করে থাকে পোস্টপেড কানেকশন।আর এই পোস্ট পেড কানেকশনের ক্ষেত্রে আমরা নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী মাসিক বা  ষাম্মাসিক বা ত্রৈমাসিক বা বাৎসরিক হিসাবে বিল দিয়ে থাকি।এক্ষেত্রে মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারের তরফ থেকে একটা বিল পাঠানো হয়ে থাকে যেখানে আমাদের বিভিন্ন কল থেকে শুরু করে যাবতীয় পরিষেবার বিবরণ থাকে।যেমন মেসেজ বা ইন্টারনেট সার্ফিং ,ইন্টারন্যাশনাল কল বা লোকাল কল, বা এস টি ডি কলের বিবরণ।যা থেকে আমরা বুঝতে পারি কী হিসাবে এই বিল করা হয়েছে।প্রত্যেক সার্ভিস প্রোভাইডার এইভাবেই  পোস্টপেড গ্রাহকদের বিল পাঠিয়ে থাকে তাদের দেওয়া ঠিকানায়।আর তারপর বিল জমা দিয়ে  দেওয়া হয় গ্রাহকদের তরফ থেকে।আর টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া এই ব্যবস্থায় যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে।

তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী তারা এই পেপার বিল প্রথা যা বিশেষ করে পোস্টপেইড গ্রাহকদের ক্ষেত্রে পাঠানো হয়ে থাকে তা এবার পেপারলেস  হতে চলেছে।এইজন্য তারা গ্রাহকদের কাছে তাদের প্রস্তাব বা মতামত জানতে চেয়েছে । গ্রাহকরা এই পেপার বিল পরিষেবাকে অপশনাল হিসেবে নিতে ইচ্ছুক কী না তার পরিবর্তে এবার থেকে পাঠানো হবে ডিজিট্যাল বিল যা এক প্রকার বাধ্যতামূলক করা হবে মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারের তরফ থেকে।

ট্রাই এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা বর্তমানে পরিবেশ সংক্রান্ত ক্ষয়ক্ষতি বিশেষ করে পোস্ট পেইড বিল দেওয়ার ক্ষেত্রে যে ভাবে কাগজ নষ্ট হয় তাতে রীতিমত চিন্তিত। যেহেতু বর্তমানে প্রত্যেকে মোবাইলে অত্যধিক হারে ডাটা ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে তাই বর্তমান প্রজন্মের কাছে পেপারের মাধ্যমে পোস্ট পেইড বিল পাঠানোর একপ্রকার কাগজের নষ্টের সামিল বলেই মনে হচ্ছে। আর  কাগজ নষ্টের মাধ্যমে আসলে ক্ষতি করা হচ্ছে প্রকৃতির। কারণ প্রত্যেকেই জানি যেভাবে গাছ কেটে কাগজ তৈরি করা হয় তাতে যদি  বিল সংক্রান্ত পরিষেবা পেপারলেস করা যায় তবে অনেকটাই পরিবেশ সংক্রান্ত দূষণ কমানো যেতে পারে।

Loading...

ট্রাই তাই এরকম একটি ডিফল্ট সিস্টেম করতে চলেছে যেখানে মোবাইল পোস্ট-পেইড সংক্রান্ত বিল যা বর্তমানে হার্ডকপি হিসাবে কাগজের মাধ্যমে পাঠানো হয় গ্রাহকদের কাছে তা পরবর্তী ক্ষেত্রে ই-কপি অর্থাৎ সফটকপি হিসেবে প্রত্যেকের কাছে পাঠানো হবে। আসলে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যে স্রোত বয়ে চলেছে ভারতের মধ্যে তার ই  এক অনন্য রূপ হিসাবে এই ডিজিটাল অর্থাৎ পেপারলেস পোস্ট পেইড বিল দেওয়ার চিন্তা ভাবনা শুরু হয়েছে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া ।

আরও পড়ুন : ATM ব্যবহার করেন? ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এটি না করলে বিপদে পড়বেন

এই সংক্রান্ত প্রস্তাব বিভিন্ন নেতা, মন্ত্রী এবং এমএলএ ও এমপিরা এছাড়াও পরিবেশপ্রেমী মানুষ বিশিষ্ট মানুষজনেরা পাঠিয়েছিল ট্রাইয়ের কাছে। তাই যেহেতু গ্রাহকরা এই সঙ্গে সরাসরিভাবে যুক্ত তাই তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে এই সম্পর্কে মতামত ।আগামী ১০ই ডিসেম্বরের মধ্যেই গ্রাহকরা যেন এ সংক্রান্ত মতামত জানিয়ে দেয় ট্রাইয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে। আর তারপর যা সিদ্ধান্ত নেওয়া তা জানাবে ট্রাই তাদের বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত নিয়ে।

তাই যে সমস্ত গ্রাহক পোস্ট পেড মোবাইল পরিষেবা নিয়ে থাকেন তারা অবশ্যই পরিবেশ সংক্রান্ত এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এ নিজেদের মতামত জানিয়ে পরিবেশকে দূষণমুক্ত হতে সাহায্য করুন।

Loading...