ব্লাড গ্রুপের সঙ্গে করোনার সম্পর্ক কী, গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

Health care, Blood test

এই মুহূর্তে ভারত তথা সমগ্র বিশ্বের মাথাব্যথার কারণ করোনা। তবে চলতি বছরে ভারতে করোনা সংক্রমণের হার সারা বিশ্বের কাছেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিক্ষুদ্র এক মারণ ভাইরাস কোভিড-১৯; তার কাছে রীতিমতো পরাজিত বিশ্বের বৈজ্ঞানিক মহল। করোনাকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার কোনও অস্ত্র নেই তাদের হাতে। করোনা প্রতিরোধী যে ভ্যাকসিনগুলি আবিষ্কৃত হয়েছে, তার ব্যবহারেও যে করোনাকে দমন করা সম্ভব হবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।

তবে অতি ক্ষুদ্র একটি ভাইরাস, যাকে কিনা চোখে দেখা যায় না, তার কাছে হার মেনে নিতে রাজি নন সমগ্র বিশ্বের তাবড় তাবড় গবেষকেরা। তাই তারা রাতদিন এক করে করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। করোনা এবং তার প্রতিকার সম্বন্ধিত প্রতিটি তথ্য তারা বিশ্লেষণ করে দেখছেন। নতুন কোনও তথ্য পাওয়া গেলেই বিশ্বের সমক্ষে নিয়ে আসছেন তারা।

আসলে করোনা সম্পর্কে গবেষকদের জ্ঞান খুবই সীমিত। ভাইরাসের গতিবিধি সম্পর্কে ইতিপূর্বে সেভাবে কোনও গবেষণা চালানো হয়নি। তবে ভাইরাসের আক্রমণ মহামারীর আকার ধারণ করতেই বৈজ্ঞানিক মহলের টনক নড়ে। তাই তারা দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে করোনা সম্বন্ধিত যাবতীয় খুঁটিনাটি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

Men or Woman Who Produce more Corona Antibodies What Research are Saying

দেশ জুড়ে সেরো সার্ভে করেছে সিএসআইআর ‘দি কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ’ । ১০ হাজারের বেশি মানুষের নমুনা সংগ্রহ করে সেই নমুনা নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন ১৪০ জন চিকিৎসক। তার পরেই এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। রিপোর্টে কী কী দেখা গেল? দেখে নিন

কোন ব্লাড গ্রুপের করোনা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি?

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকদের দাবি, করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের প্রভাব নাকি রোগীর রক্তের গ্রুপের উপর অনেকাংশে নির্ভর করছে! জার্মানির কিয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানাচ্ছেন, “AB” ব্লাড গ্রুপ রয়েছে যাদের, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তাদের অন্যান্যদের তুলনায় অনেক বেশি। AB ব্লাড গ্রুপের মানুষদের করোনা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোন ব্লাড গ্রুপের করোনা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কম?

অপরপক্ষে যাদের “O” গ্রুপের রক্তে রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আবার করোনায় সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা অন্যান্যদের তুলনায় অনেক কম বলে জানাচ্ছেন জার্মানির বিশেষজ্ঞরা। তবে শুধু করোনা নয়, “AB” ব্লাড গ্রুপধারীদের কিন্তু অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রেও ঝুঁকির সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সংস্থার গবেষকেরা। হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, সিওপিডি-র মতো একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যায় অন্যান্যদের তুলনায় কিছু বেশিই ভুগে থাকেন “AB” ব্লাড গ্রুপধারীরা।

কোন ব্লাড গ্রুপের করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুর হার সবথেকে বেশি?

সমীক্ষার ফলাফলে দেখা গিয়েছে মৃত্যুর হারে ‘A’ ব্লাড গ্রুপের মানুষ বেশি। ও ‘O’ ব্লাড গ্রুপের মানুষ কম। চিনের গবেষনা বলছে যেখানে ‘A’ ব্লাড গ্রুপের মানুষদের মৃত্যুর হার ৩৮ শতাংশ, সেখানে ‘O’ ব্লাড গ্রুপের মানুষের মৃত্যুর হার ২৬ শতাংশ।

কোন ব্লাড গ্রুপের করোনা আক্রান্তদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেশি?

সমীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় যাদের ব্লাড গ্রুপ ‘A’ তাঁদের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সমস্যা অনেকটাই বেশি। বাকি ব্লাড গ্রুপ গুলির শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলেও তা ‘A’ ব্লাড গ্রুপের থেকে তুলনামূলক কম।

জার্মানির ওই সংস্থাটি নিজেদের গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করে জানিয়েছে, সিওপিডি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় “AB” ব্লাড গ্রুপধারীরা অন্যান্য ব্লাড গ্রুপ সমন্বিত মানুষের তুলনায় ১৪.৮ শতাংশ বেশি ভুগছেন। চিনের হুজহং ইউনিভার্সিটি অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজির বিশেষজ্ঞরাও জানাচ্ছেন সেই একই কথা। তারা জানাচ্ছেন, “AB” ব্লাড গ্রুপ সমন্বিত ব্যক্তিরা হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় অন্যান্যদের তুলনায় ৬৮.৯ শতাংশ হারে বেশি ভুগছেন।

ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে কোন ব্লাড গ্রুপে করোনা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি?

ইউরোপীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক পত্রিকা দিয়াবেটোলজিয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে “AB” ব্লাড গ্রুপের ব্যক্তিদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অন্যান্যদের তুলনায় ১৪.৮ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এই গবেষণাপত্র থেকে বেশ স্পষ্ট এই যে এই সংকটকালে মুহূর্তে “AB” ব্লাড গ্রুপের অধিকারীদের বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার প্রয়োজন আছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যাঁরা নিরামিষ খান তাঁদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ নিরামিষ খাবারের মধ্যে যে পুষ্টি গুণ থাকে, তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অনেক বাড়িয়ে তোলে। এমনকি একবার আক্রান্ত হলে কোভিড মুক্ত হওয়ার পরে সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রেও নিরামিষ খাবারের উপরেই জোর দিচ্ছেন তাঁরা।

তবে তাই বলে এই নয় যে অন্যান্য ব্লাড গ্রুপ যাদের রয়েছে, করোনা তাদের টিকিটিও স্পর্শ করতে পারবে না! স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুসারে, অন্যান্য ব্লাড গ্রুপের মানুষদেরও কিন্তু করোনাকালে বাড়তি সর্তকতা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ সতর্কতায় কোনরূপ ঢিলেমি দিলেই মারণ ভাইরাস শরীরে বাসা বেঁধে ফেলবে। উপযুক্ত সতর্কতার না নিলে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত ব্লাড গ্রুপের মানুষেরই চরম ক্ষতি হয়ে যাওয়ার সম্পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে।