জীবনভর একজনকে ভালবাসলেও রতন টাটার বিয়ে না করার কারণ জানলে স্যালুট জানবেন আপনি

Love Story of Ratan Tata

ভারতবর্ষের তথা সমগ্র বিশ্বের প্রথম সারির ধনী ব্যক্তি হিসেবে উচ্চারিত হয় তার নাম। টাটা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান রতন টাটার সাফল্য সত্যিই ঈর্ষণীয়। প্রভূত সম্পদের মালিক রতন টাটা কেরিয়ারে আশাতীত সাফল্য লাভ করছেন। তার আশেপাশে প্রচুর মানুষের ভিড়। তার অধীনে কাজ করছেন হাজার হাজার মানুষ। সব সময় প্রচারের আলোকে থাকেন তিনি।

তবে সব সময় প্রচুর মানুষ তাকে ঘিরে থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে আজও তিনি কার্যত একা। ভারতের এই ধনী ব্যক্তিটি আজও অকৃতদার। দেখতে দেখতে ৮৩ বছর পেরিয়ে এসেছেন তিনি। শোনা যায়, তার জীবনেও নাকি এসেছিল বসন্ত। তবে তার জীবনের সুখের সেই মুহূর্তটি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। নেপথ্যে, ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধ!

রতন টাটার যৌবনকালের ছবিগুলি দেখলেই বোঝা যায়, তরুণ অবস্থায় বেশ সুদর্শন ছিলেন তিনি। লম্বা, ফর্সা, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। নায়কোচিত চেহারা ছিল রতন টাটার। স্বভাবতই তার সমকালীন মহিলাদের তার উপর ক্রাশ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে রতন টাটা কিন্তু এক বিদেশি সুন্দরীর প্রেমে পড়েছিলেন। শোনা যায়, রতন টাটা আর্কিটেকচার বিষয়ে স্নাতক পাশ করার পর লস অ্যাঞ্জেলসে দুই বছরের জন্য কাজ করেছিলেন।

জীবনের সেই দুই বছর তার কাছে চিরস্মরণীয়। কারণ ওই সময়কালীনই মনের মানুষের দেখা পেয়েছিলেন রতন টাটা। তখন তার কাছে বাড়ি,গাড়ি, ব্যাঙ্ক-ব্যালেন্স সবই ছিল। পাশাপাশি মনের মানুষও তখন তার পাশেই ছিলেন। ওই মার্কিন সুন্দরীর সঙ্গে রতন টাটার বিয়েও ঠিক হয়ে যায়। উভয়পক্ষের পরিবারের তরফেও বিয়ের প্রস্তাবে সম্পূর্ণ সমর্থন ছিল। তাহলে বাধ সাধলো কোথায়?

রতন টাটার প্রেম সম্পর্ক পরিণতির দিকে এগোনোর পথে বাধ সাধলো ভাগ্য! যে সময় রতন টাটা এবং ওই মার্কিনী সুন্দরীর বিয়ের কথাবার্তা এগোচ্ছিলো, ঠিক সেই সময়েই রতন টাটার ঠাকুমা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর যে ঠাকুমা রতন টাটাকে এবং তার ভাইদেরকে সন্তান স্নেহ দিয়ে মানুষ করে তুলেছিলেন, সেই ঠাকুরমার অসুস্থতার খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসেন রতন টাটা।

Ratan Tata Grandmother

তবে দেশে ফিরে এলেও যে প্রেমিকার সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল, এমনটা কিন্তু নয়। রতন টাটার প্রেমিকা নিজের দেশ ছেড়ে ভারতে আসবেন এবং বিয়ে করে ভারতেই সংসার পাতবেন তারা, এই ঠিক ছিলো। মার্কিন সুন্দরীর পরিবারের তরফেও কোনও আপত্তি ছিল না। তবে ওই একই মুহূর্তে ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়!

যুদ্ধের এই ভয়াবহ পরিবেশে রতন টাটার প্রেমিকার পরিবার মেয়েকে ভারতবর্ষে পাঠাতে চাননি। যে কারণে তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। রতন টাটাও জীবনে আর কোনও মহিলার প্রতি আকৃষ্ট হননি। প্রেমিকার সঙ্গে বিচ্ছেদের ব্যথা নিয়ে আজও একাকীই রয়ে গিয়েছেন তিনি। বিদেশের মাটিতে যে প্রেম পর্বের সূচনা হয়েছিল, দেশের মাটিতে তা এভাবেই বিরহে রূপান্তরিত হয়।