দু’বেলা দুমুঠো জুটছে না খাবার, রাণু মণ্ডলের বর্তমান পরিস্থিতি শুনলে চোখে আসবে জল

দুবেলা দুমুঠো জুটছে না খাবার! চরম অভাবে মর্মান্তিক পরিণতি রানাঘাটের রাণু মন্ডলের

Ranu Mandal is in a Miserable Condition Has no Food to Eat

ইন্টারনেটের সেন্সেশন রানু মন্ডলকে (Ranu Mondal) আজ গোটা বিশ্ব জানে। লতাকন্ঠী রানু মন্ডল এখন অনেকেরই উপার্জনের মাধ্যম। বিশেষত ইউটিউবাররা তাকে নিয়ে কনটেন্ট বানাতে রোজদিন তার বাড়ির সামনে ভিড় জমান। রানু মন্ডলের সাক্ষাৎকার জোগাড় করতে পারলেই আসবে টাকা। তবে যে মানুষটা এই অর্থের জোগান দিচ্ছেন তার পেটের ভাতের জোগাড় কোথা থেকে হবে তা ভেবে দেখছেন কতজন?

রোজদিন ইউটিউবারদের দৌরাত্ম্যে ওষ্ঠাগত জীবন। পরিস্থিতি এমন যে বাড়ির গেটে সবসময় তালা মেরে রাখতে হয় যাতে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেউ বিরক্ত করতে না পারেন। বিরক্তবোধ করলেও অনেক সময় সাক্ষাৎকার দিয়েই দেন রানু মন্ডল। সহ্যসীমা অতিক্রম করে গেলে তেড়ে আসেন ঝাঁটা নিয়ে, গায়ে থুতু ছিটিয়ে দেন, লোকে তাকে এই অবস্থায় দেখে বলে ‘পাগল’! তবে তার পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে দেখেন না কেউ।

লতাকন্ঠী রানু মন্ডল একসময় ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সেলিব্রেটি হওয়ায় এখন আর সেই উপায় নেই তার। তাহলে উপার্জন আর হবে কিভাবে? খ্যাতির বিড়ম্বনায় উপার্জনের রাস্তা হারিয়েছেন তিনি। এখন দুবেলা-দুমুঠো খাবারও জোটে না। সকালে লিকার চায়ের সঙ্গে মিইয়ে যাওয়া মেরি বিস্কুট আর দুপুরে শুধু চাওমিন সেদ্ধ! এই তার খাবার। রাতে কিছু না জুটলে পেটে কিল মেরে পড়ে থাকেন ঘরের এক কোণায়।

রানু মন্ডলকে দেখলেই সকলের তার কাছে শুধু একটাই আবদার, ‘‘দিদি গান শোনাও’’! তিতিবিরক্ত রানু মন্ডল সংবাদমাধ্যমের কাছে বলে ফেলেন, “গান শোনার শখ! সারাক্ষণ বাড়িতে ভিড়। কিন্তু কোনও জানোয়ার একটু খাবার আনে না! শুধু ভিডিও করে লাইক বাড়ানোর ধান্দা।” পরক্ষণেই নিজের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, “খিদেয় পেট চোঁ চোঁ করে, গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোবে কী করে?” এমনই করুণ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন রানু মন্ডল।

শুধু কি তাই? খ্যাতির বিড়ম্বনায় উপার্জনের রাস্তা যেমন হারিয়েছে তেমনই একটু স্বস্তিতে বাঁচার অধিকারটুকুও যেন খুইয়ে ফেলেছেন তিনি। তীব্র গরমে তেষ্টায় প্রাণ ফেটে গেলেও গেটের দরজা খুলে বাইরে থেকে জল আনতে পারেন না, ইউটিউবারদের দৌরাত্ম্যে! এমনকি রোজদিন স্নান করাও হয়ে ওঠে না, গেটের বাইরে বেরোলেই তো সকলে মুখিয়ে আছে তাকে ঘিরে ধরার জন্য!

সোশ্যাল মিডিয়া মারফত ভাইরাল হয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গিয়েছিল তার জীবন। সূদূর মুম্বাই থেকে এসেছিল হিমেশ রেশমিয়ার সঙ্গে গান গাওয়ার সুযোগ। সেই ফেসবুক, ইউটিউবই শেষমেষ তার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আগে যা হোক ভিক্ষা করেও দুবেলার ভাত জুটতো, সোশ্যাল মিডিয়া তার কাছ থেকে সেই উপায়টাও কেড়ে নিয়েছে। এখন চুন-পলেস্তারা খসে পড়া বাড়িতে ‘মালিক’ যীশুখ্রীষ্টের মূর্তি আঁকড়ে কোনমতে দিন কাটছে তার। এখন শুধু মালিকের ভরসাতেই রয়েছেন তিনি।