অবশেষে পূর্ণতা পেল ভালবাসা, পর্দার প্রেম গড়াচ্ছে বাস্তবে, মুখ খুললেন রাহুল-রুকমা

এ যেন এক বহু প্রতীক্ষিত অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। প্রেমের বাঁধনের বাইরে বেরিয়ে সারা জীবনের গাঁটবন্ধনে বাঁধা পড়লেন রাহুল-রুকমা। থুড়ি, রাজা (Raja) এবং মাম্পি (Mampi) । যদিও ধারাবাহিকের চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে তদুপরি রাজা এবং মাম্পির মাঝের প্রেমের রসায়ন পর্দায় তুলে ধরার স্বার্থেই ক্যামেরার সামনে একে অপরের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হয়েছিলেন টলিউডের , (Tollywood) এই দুই তারকা। কিন্তু তাদের অনস্ক্রীন কেমিস্ট্রিই যেন বারে বারে রিল ক্যামেরার বাইরে তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

এত সাবলীল, এত স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে কিভাবে অভিনয় করছেন রাহুল (Rahul Arunodoy Banerjee) এবং রুকমা (Rooqma Roy)? স্বভাবতই এই প্রশ্ন উঠছে নেটিজেনের মনে। সেই প্রশ্ন থেকেই ছড়াচ্ছে গুঞ্জন। এখন আবার টলিউডেও নাকি এই নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। সত্যি সত্যিই প্রেমের বন্ধনে বাঁধা পড়েছেন রাহুল এবং রুকমা! ‘রাজমার’ ফুলশয্যার দৃশ্যটিতে তাদের অন্তরঙ্গতাও কার্যত নতুন বিতর্কের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

যদিও এমন উড়ো খবর স্রেফ হাওয়াতেই উড়িয়ে দিয়েছেন রাহুল এবং রুকমা। রুকমার দাবি, “রাহুলদার সঙ্গে আমার প্রেম নেই। ভাল বোঝাপড়া আছে।” আর সেই বোঝাপড়ার প্রতিফলনই নাকি ‘রাজমা’র প্রেমের কেমিস্ট্রিতে ধরা পড়ে। তাই নিজেদের সম্পর্ককে স্রেফ ‘বোঝাপড়া’র বাইরে অন্য কোনও তকমা দিতে নারাজ রুকমা। একই কথা শোনা যায় রাহুলের মুখেও। এই নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধলেই রুকমার সঙ্গে তার বয়সের ফারাকের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

রাহুলের বক্তব্য, “রুকমা আমার চেয়ে ১০ বছরের ছোট বাচ্চা মেয়ে। ওকে খুব ভালবাসি আমি। কিন্তু আমাদের প্রেম নেই। তবে, শটের বাইরে ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব আছে।” অতএব রিল ক্যামেরার বাইরে ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকলেও তা অন্তরঙ্গতার পর্যায়ে যায়নি বলেই দাবি রাহুল এবং রুকমার। তবে পর্দায় তাদের নিটোল প্রেমের সম্পর্ক এবং অন্তরঙ্গতা অবশ্য অন্যদিকেই ইঙ্গিত করে। তাই অদূর ভবিষ্যতে রাহুল এবং রুকমার সম্পর্কের পরিণতি কোন দিকে গড়ায়, তা জানার জন্য উদগ্রীব‌ থাকবেন নেটিজেন।

Raja and Mulpi Desher Maati Serial

উল্লেখ্য, স্টার জলসায় সম্প্রচারিত দেশের মাটি ধারাবাহিকে যখন থেকে রাজা এবং মাম্পির প্রেমের রসায়ন তুলে ধরা হয়েছে, তখন থেকেই কার্যত ধারাবাহিকের টিআরপি হু হু করে বেড়েছে। টেলিভিশনের পর্দায় নতুন সেনসেশন হয়ে উঠেছেন রাজা এবং মাম্পি। তাদের প্রেম পর্দায় এতটাই বাস্তব বলে মনে হয়েছিল যে রিলের সঙ্গে রিয়েলের পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছিলেন না দর্শক। রাজা-মাম্পির বিরহ ব্যথা তাদের কাতর করে তুলেছিল। আবার তাদের দাম্পত্যের রসায়নও বেশ ভালোভাবেই উপভোগ করছেন দর্শক।

 

যদিও এত অন্তরঙ্গতা হজম করা কিছু মানুষের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলা ধারাবাহিক মানেই একটি পরিবারের প্রায়ই সব সদস্যই একত্রে বসে পড়েন টেলিভিশনের পর্দার সামনে। সেই দিক দিয়ে বিবেচনা করলে বয়োঃজ্যেষ্ঠ কিংবা বয়সের তুলনায় ছোট সদস্যদের সঙ্গে একসাথে বসে এই দৃশ্যের আমেজ উপভোগ করা দর্শকের পক্ষে অস্বস্তিকর বটে। যদিও এতে অবশ্য দোষের কিছু দেখছেন না রাজা ওরফে ‌রাহুল। তার মতে, ‘‘গালে-কপালে চুম্বন আর জড়িয়ে ধরা- এই ভঙ্গিগুলো দিয়েই আমরা দৃশ্যকল্প তৈরির চেষ্টা করেছি।’’ অতএব দর্শকের তরফ থেকে ‘গেল গেল’ রব ওঠার কোনও কারণ নেই বলেই মনে করেন রাহুল।