ফাঁস হয়ে গেল রাজ কুন্দ্রার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, লজ্জায় মাথা কাটা গেল শিল্পা শেট্টির

Raj Kundra case Revealed more from WhatsApp chat

নীল ছবি বানানোর অভিযোগে মুম্বাই পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজ কুন্দ্রা (Raj Kundra)। শিল্পা শেট্টির (Shilpa Shetty) স্বামীকে নিয়ে আজ সকাল থেকেই নেট মাধ্যমে বহু কাটাছেঁড়া চলছে। বলিউড অভিনেত্রীদের (Bollywood Actress) দিয়ে পর্ন ছবি বানানো এবং সেগুলিকে সোশ্যাল মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে রাজের বিরুদ্ধে। মুম্বাই পুলিশের দাবি, রাজের বিরুদ্ধে শক্তপোক্ত প্রমাণ রয়েছে তাদের হাতে। সেই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই রাজকে এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাজের বিরুদ্ধে ঠিক কী কী প্রমাণ রয়েছে মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে? পুলিশ সূত্রে খবর, পুলিশের কাছে রাজের কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এসে পৌঁছেছে। সেই চ্যাটে পর্ন ছবি তৈরি করা এবং সেই ছবির প্রমোশন, সোশ্যাল মাধ্যমে ছবিগুলিকে ছড়িয়ে দেওয়া, ছবি থেকে প্রাপ্ত লাভ লোকসান সম্পর্কিত যাবতীয় আলোচনা রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের এই চ্যাটগুলিই কার্যত রাজের বিরুদ্ধে প্রধান প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

Shilpa Shetty Husband Raj Kundra Arrested (2)

হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপে ব্যবসার পার্টনারদের সঙ্গে রাজের চ্যাটের প্রিন্ট আউট বের করে নিয়েছে পুলিশ। পর্ন কন‌টেন্টগুলি সোশ্যাল মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে কত টাকা খরচ হচ্ছে, কত লাভ হচ্ছে, রেজিস্ট্রেশন বাবদ কত লাভ হচ্ছে, ছবির রেভিনিউ কত, লাইভ রেভিনিউ থেকে কত আয় হচ্ছে সেই সংক্রান্ত খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে ওই গ্রুপের চ্যাট বক্সে। এই খতিয়ান সম্পর্কে রাজের এক পার্টনার বলেন যেহেতু সপ্তাহে একটা করে ছবি রিলিজ হচ্ছে, সেই হিসেবে বলা যেতে পারে যে ভালই লাভ হচ্ছে।

প্রদীপ বক্সী নামের রাজের জনৈক সহকারীকে প্রিয়া সেনগুপ্ত নামের এক লাইভ আর্টিস্টের বকেয়া পেমেন্ট মিটিয়ে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে ওই চ্যাটে। প্রতিদিন কত অর্ডার জমা পড়ছে, কত কয়েন জমা হচ্ছে, কত বিক্রি হচ্ছে, সবেরই খতিয়ান ওই চ্যাটবক্স থেকেই মিলেছে। চ্যাটে এক জায়গাতে প্রদীপ বক্সী উল্লেখ করেছেন “এখন আমাদের কাছে এমন আর্টিস্ট রয়েছেন যাদের ফলোয়ারের সংখ্যা অনেক”।

মুম্বাই পুলিশের তদন্তে জানা গিয়েছে, মডেল অভিনেত্রী গহনা বশিষ্ঠ এবং রাজের সহকারি উমেশ কামাথ নীল ছবি বানাতেন। ইউনাইটেড কিংডমসের কেনরিন প্রোডাকশন হাউজের তত্ত্বাবধানে বানানো হতো এই ছবি। কেনরিন প্রোডাকশন হাউস ভিন্ন ভিন্ন নীল ছবির জন্য মোটা অংকের পেমেন্ট করে থাকে।

বিশিষ্ট সূত্রে খবর, এই কেন্দ্রের প্রোডাকশন হাউজের মালিক এবং বিনিয়োগকারী ছিলেন রাজ কুন্দ্রা। ‘হটশুট’ নামের একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ্লিকেশন আপলোড করা হতো এই ছবিগুলি।

রাজ কুন্দ্রার একসময়ের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট উমেশ কামাথকে ভারতে এই কোম্পানীর প্রতিনিধি করা হয়েছিল। ছাড়া ভারতবর্ষজুড়ে এই পর্নোগ্রাফির ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল এই প্রোডাকশন হাউজের।

রাজ কুন্দ্রার বিজনেস পার্টনার তথা কেনরিন প্রোডাকশন হাউজের চেয়ারম্যান প্রদীপ বক্সী ইউনাইটেড কিংডমসে থেকে সেখানে কোম্পানির দেখাশোনা করতেন। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট মারফত এই তথ্য পেয়েছে মুম্বাই পুলিশের সাইবার সেল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মুম্বইয়ের মালবানী ক্রাইম ব্রাঞ্চে রাজ কুন্দ্রার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ১০৩/২০২১ এর আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ধারা ২৯২, ২৯৩, ৪২০, ৩৪ এবং তথ্য ও প্রৌদ্যৌগিকী নিয়মের অধীনে ৬৭ ও ৬৭ এ ধারায় রাজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে মুম্বাই পুলিশ।