সোনা-হীরে-জহরতে ঠাসা! পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রত্নভান্ডারের সম্পত্তিতেই দেশ চালানো যাবে ১ মাস

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রত্নভান্ডারে কত সোনা মজুদ আছে? জানলে ঘুরে যাবে মাথা

Puri Jagannath Temple Ratna Bhandar : পুরী (PURI) মানেই উত্তাল সমুদ্র, নীলজল ৷ পুরী মানেই জিভে গজা ৷ পুরী মানেই ক্ষীর ৷ আর অবশ্যই পুরী মানে জগন্নাথ মন্দির, জগন্নাথ দেব দর্শন ৷ আমরা প্রায় সবাই পুরীতে গিয়েছি ৷ পুরীর জগন্নাথ মন্দির (Jagannath temple)দর্শন করেছি ৷ তবে এই মন্দিরের নেপথ্যে রয়েছে অনেক ইতিহাস ৷ এই মন্দিরের রয়েছে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যও। আর আজকে হবে জগন্নাথ মন্দির (Jagannath Mandir) -র রত্নভান্ডার (Ratna Bhandar of Jagannath Temple) সম্পর্কে।

প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি ভক্তের সমাগম ঘটে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ৷ আর ধন-সম্পদের মালিকানার নিরিখে এ দেশের ধনীতম মন্দিরগুলির মধ্যে একটি ওড়িশার এই মন্দির ৷ যদিও ৪৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রত্ন ভান্ডার। এই ভান্ডারের ভিতর কী রয়েছে, তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি দীর্ঘকাল। এবার উন্মোচন হল রহস্য। প্রকাশ্যে এল রত্ন ভান্ডার সোনা-দানা, হিরে-জহরতের মোট মূল্য (Puri Jagannath Temple Ratna Bhandar Net Worth)

Jagannath temple

আসলে জগন্নাথ মন্দিরের রত্নভান্ডার খোলার দাবি জানিয়েছিলেন পুরীর গজপতি মহারাজা দিব্যসিং দেব। এছাড়াও বেশকিছু রাজনৈতিক দল একই দাবি জানিয়েছিল। এরপর মামলা ওঠে ওড়িশা হাই কোর্টে। সেই সূত্রেই মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে হলফনামা চায় আদালত। যার পর ১৯৭৮ সালের গণনার ভিত্তিতে রত্নভান্ডারের হিসেব দেওয়া হয়েছে।

দ্বাদশ শতাব্দীর এই মন্দিরের রত্নভাণ্ডার শেষবার খোলা হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। সম্প্রতি হাই কোর্টের নির্দেশে হলফনামায় মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মন্দিরে ১৫০ কেজি সোনার পাশাপাশি রয়েছে ১৮৪ কেজি রুপো। সাতের দশকের শেষেই জগন্নাথ মন্দিরের রত্ন ভান্ডারের যাবতীয় অলঙ্কার গোনা হয়েছিল।

Jagannath temple

এই রত্নভান্ডারে রয়েছে সোনার হার, মূল্যবান রত্ন পাথর, সোনার থালা, মুক্তা, হীরা, প্রবাল ও রৌপ্য সামগ্রী। জগন্নাথ মন্দির আইন অনুযায়ী, রত্ন ভাণ্ডার প্রতি তিন বছর পর পর অডিট করা প্রয়োজন। তবে রাজনৈতিক কারণে কোনও সরকার এই কাজে হাত লাগায়নি। তবে হলফনামা থেকে আরও জানা গেছে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের এই রত্ন ভান্ডারে রয়েছে মোট তিনটি কুঠুরি। প্রতিটি কুঠুরিতেই সোনা-দানা ঠাসা।

Jagannath temple

আরও পড়ুন : পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের এই ১০টি রহস্য, যার কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেনি বিজ্ঞান

প্রথম চেম্বার বা কুঠুরিতে রয়েছে ৫০ কেজি ৬০০ গ্রাম সোনা এবং ১৩৪ কেজি ৫০ গ্রাম রুপো। দ্বিতীয় কুঠুরিতে ৯৫ কেজি ৩২০ গ্রাম সোনা এবং ১৯ কেজি ৪৮০ গ্রাম রুপো। একদম শেষের কুঠুরিতে রয়েছে ৩ কেজি সোনা এবং ৩০ কেজি রুপো। যা কখনওই ব্যবহার করা হয়নি। দৈনিক পুজোর জন্য যে অলংকারগুলি ব্যবহার করা হয়, তাও রত্ন ভাণ্ডারের একটি আলাদ কুঠুরিতে রাখা থাকে।

আরও পড়ুন : ভারতের সেরা ৫ ধনী মন্দির, যাদের ধন সম্পদের পরিমাণ শুনলে চমকে উঠবেন আপনি