প্রথা ভেঙ্গে ঋতুমতী অবস্থায় পুজো করলেন এক ছাত্রী, সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের বন্যা

যুগ যুগ ধরে হিন্দু সমাজে প্রথা চলে আসছে, কোন নারী ঋতুবতী হলে,মাসের সেই কয়েকটা দিন সে ঠাকুরের কোনও জিনিস স্পর্শ করতে পারে না। এবার এই কুসংস্কারকে ভাঙলেন কলকাতার এক কলেজ ছাত্রী। সম্প্রতি তার বাড়িতে সরস্বতী পুজো করে সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেছেন তিনি। তবে শুধু তাই নয় তিনি জানিয়ে দিলেন পুজোর সময় ঋতুবতী ছিলেন তিনি।

তার এই পদক্ষেপকে যেমন অনেকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন তেমন অনেকেই এর সমালোচনা করছেন।২৩ বছর বয়সী কলেজ ছাত্রী উষসী চক্রবর্তীকে (Ushoshi Chakraborty) ‘ট্রল’ করতে শুরু করেছেন একদল নেটিজেন। প্রথমত নারী হয়ে পুজো করা কিভাবে সম্ভব? দ্বিতীয়তঃ ঋতুবতী অবস্থায় পুজো করা খুব বড় অন্যায়।অনেকে বলেছেন,তার এই কাজের জন্য শেষ হয়ে যেতে পারে গোটা পৃথিবী।

উষসী চক্রবর্তীর কথায়, , “ভেবেচিন্তেই এই প্রথা ভেঙ্গেছি। পিরিয়ড হয়েছে এই কথাটা বলতে আমাকে যেন লজ্জা না পেতে হয়, স্যানিটারি প্যাড যেন লুকিয়ে কিনতে না হয় বা জামার পিছনে রক্তের দাগ লেগে গেলে যেন আমাকে লজ্জায় মুখ লুকোতে না হয়। কেন আমাকে কাগজের মোড়কে বা কালো প্লাস্টিকে মুড়ে স্যানিটারি প্যাড কিনতে হবে!”

তিনি আরও জানান, “এই কথাগুলো আমার এবং আমার পরের প্রজন্মের মেয়েদের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছি বলেই প্রথাটা ভেঙ্গেছি। যে কথাটা মেয়েদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বুঝিয়ে আসা হয়েছে, সেটা যে ভুল, সেটাই বলতে চেয়েছি জোর গলায়,” বিবিসি বাংলাকে জানাচ্ছিলেন মিস চক্রবর্তী। কেন ভাঙ্গলেন দীর্ঘদিনের এই বিশ্বাস? “ঋতুমতী হওয়ার মতো একটা স্বাভাবিক শারীরিক অবস্থায় মেয়েরা অশুচি হয়ে যায় বলে পুজো করতে পারবে না, সেটা ঘোর পাপ! অথচ যে পুরুষ পুরোহিত পুজো করছেন, তিনি যদি ধর্ষক হন তবুও সেই পুজো শুদ্ধ হয়ে গেল?”

তার বিশ্বাস “মন থেকে যদি কেউ শুদ্ধ হয়, তার শুচিতা থাকে, তাহলে আর কোনও কিছুতেই সে অশুচি হয় না”। সমাজের শুদ্ধ-অশুদ্ধ ধারণাকে হঠাৎই এক আঘাত দিয়েছেন তিনি।অনেকে তার এই পদক্ষেপের সমালোচনা করলেও তার সাহসিকতাকে এবং চিন্তা ভাবনাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন একদল নেট নাগরিক।