সলমান খানের সুপারস্টার হওয়ার পেছনে রয়েছে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জীর চরম অবদান

প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জীর একটি সিদ্ধান্ত আজ সুপারস্টার বানিয়েছে সলমান খানকে

৯০ দশকের টলিউড (Tollywood) তারকাদের নাম নিতে হলে প্রথমেই উঠে আসবে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের (Prosenjit Chatterjee) নাম। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক নম্বর অভিনেতা তিনি। সেই ৯০ এর দশক থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৩ দশকেরও বেশি সময় ধরে ‌ টলিউডে তিনি রাজত্ব করছেন। তবে জানেন কি টলিউডের এই মহারাজা কিন্তু চাইলেই বলিউডেও (Bollywood) নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন? কিন্তু তিনি তা করেননি বলেই আজ সালমান খান (Salman Khan) বলিউডে সুপারস্টার হতে পেয়েছেন!

হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ই (Prosenjit Chatterjee) বলিউডে সালমান খানের (Salman Khan) ভাগ্য নির্ধারণ করেছিলেন। তার প্রত্যাখ্যাত ছবিতে কাজ করেই সালমান জনপ্রিয় হয়েছেন। নতুবা প্রসেনজিৎকেই হয়তো টলিউডের বদলে বলিউডে কাজ করতে দেখতেন দর্শক। আর সালমান খান? তার জন্য লড়াইটা হয়তো আরও কঠিন হতো। সফলতা শিখরে উঠতে আরও কয়েকটা বছর বলিউডে সংগ্রাম করতে হতো তাকে।

তবে সেই সংগ্রামের হাত থেকে সালমানকে মুক্ত করেছিলেন প্রসেনজিৎ। কিভাবে? জানলে হয়তো অবাক হবেন, “ম্যায়নে পেয়ার কিয়া” (Maine pyaar Kya) এবং “সাজন” (Saajan) ছবির প্রস্তাব প্রথমে প্রসেনজিৎয়ের কাছেই এসেছিল! তবে টলিউড ছেড়ে বেরোতে চাননি প্রসেনজিৎ। সেই জন্যই তো তার হাত ফসকে প্রস্তাব গিয়ে পৌঁছলো সালমানের কাছে। সালমান সেই প্রস্তাব লুফে নিলেন। রাতারাতি হয়ে উঠলেন বলিউডের সুপারস্টার।

খুব ছোট থেকেই অভিনয় জগতের সঙ্গে প্রসেনজিৎয়ের যোগাযোগ ছিল। ছোট বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে “ছোট জিজ্ঞাসা” ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন প্রসেনজিৎ। এরপর বড় হয়ে ১৯৮৩ সালে অভিনয় করেন “দুটি পাতা” ছবিতে। তবে ইন্ডাস্ট্রিতে তার জয়যাত্রা শুরু হলো “অমর সঙ্গী” সিনেমায় অভিনয় করার পর। এরপর তাকে আর কখনও ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে টলিউডকে হিট ছবি দিয়ে গিয়েছেন তিনি।

তিনি যখন টলিউডে চুটিয়ে অভিনয় করছেন, ঠিক তখনই বলিউড থেকে অভিনয়ের প্রস্তাব আসে তার কাছে। “ম্যায়নে পেয়ার কিয়া” এবং “সাজন” ছবির নায়ক হিসেবে পরিচালক প্রসেনজিৎকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছেছিলেন। তবে প্রসেনজিৎ সেই ছবি দুটির অফার ফিরিয়ে দেন। এরপর প্রসেনজিৎয়ের জায়গায় সালমানকে ছবির নায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়। সালমানও সেইসময় বলিউডে স্ট্রাগল করছিলেন। বাকিটা ইতিহাস।

“ম্যায়নে পেয়ার কিয়া” (Maine Pyaar Kiya) এবং “সাজন” (Saajan) ছবি দুটিকেই কার্যত সালমানের কেরিয়ারের মাইলস্টোন হিসেবে উল্লেখ করেন সমালোচকেরা। এই দুটি ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জেরে রাতারাতি বলিউডের প্রথম সারির অভিনেতাদের দৌড়ে উঠে আসে সালমানের নাম। আজ তার খ্যাতি সারা পৃথিবী জুড়ে। নেপথ্যে রয়ে গিয়েছেন প্রসেনজিৎ।