পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ৪ সম্ভাব্য ফলাফল

আর কিছুদিন পরেই শুরু হবে বঙ্গে ভোটযুদ্ধ। ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ( TMC)। এবারের ভোটে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হল নন্দীগ্রাম (Nandigram)। এই নন্দীগ্রাম থেকেই একসময় উত্থান ঘটেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। এবার এই নন্দীগ্রামেই প্রার্থী হচ্ছেন তিনি স্বয়ং।

বিজেপির (BJP) তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari) আর এমনটা হলে অধিকারী বনাম ব্যানার্জির লড়াইয়ে কে শেষ হাসি হাসে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২ মে পর্যন্ত। শুভেন্দু অধিকারী কতটা টক্কর দেবে মমতা ব্যানার্জিকে এখন সেটাই দেখার। তবে এবারের নির্বাচনের ফলাফলের ৪ টি সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রথম সম্ভাবনা

যদি নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতে যান এবং  তৃণমূলও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তাহলে জাতীয় রাজনীতিতে মমতা ব্যানার্জির গুরুত্ব অনেকখানি বেড়ে যাবে। এর ফলস্বরূপ আগামী ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রথম নাম উঠে আসবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরর। অন্যদিকে তার প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়ানোর শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার একরকম ধ্বংস হয়ে যাবে বলা যায়।

দ্বিতীয় সম্ভাবনা

যদি তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় কিন্তু মমতা ব্যানার্জি হেরে যান তা হালেও তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী মুখ নিঃসন্দেহে মমতা ব্যানার্জিই থাকবেন। সে ক্ষেত্রে কোন বিধায়ক ইস্তফা দিয়ে ছয় মাসের মধ্যে সে কেন্দ্র থেকে মমতা ব্যানার্জিকে ভোটে জিতিয়ে ফিরিয়ে আনতে পারেন।

তৃতীয় সম্ভাবনা

যদি বিজেপি এবং শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা ব্যানার্জিকে হারিয়ে দেন সে ক্ষেত্রে এটি লজ্জাজনক হার হবে তৃণমূলের কাছে। অন্যদিকে বিজেপি ক্ষমতায় এলে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী। সেক্ষেত্রে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবেও ভাবা যেতে পারে। কারণ তিনি একজন মুখ্যমন্ত্রীকেই চ্যালেঞ্জ  করে হরিয়েছেন।

চতুর্থ সম্ভাবনা

যদি মমতা নন্দীগ্রামে জেতেন কিন্তু তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় তাহলে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে এবং বিরোধী দলনেত্রী হিসেবে মমতা ব্যানার্জি থাকবেন।

শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর নন্দীগ্রাম আন্দোলন নিয়ে শুরু হয়েছে দড়ি টানাটানি। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কৃতীত্ব শুভেন্দু নিজে দাবি করে আছেন। মেদিনীপুরে অধিকারী পরিবার না থাকলে তৃণমূল কংগ্রেস জিততে পারত না বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু। তাই নন্দীগ্রাম এবারের ভোটে শাসক দলের প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে উঠেছে। তাই এই চ্যালেঞ্জ তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী নিজেই নিচ্ছেন।

আবার বলা হচ্ছে শুভেন্দুকে নন্দীগ্রামে আটকে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে শাসক দল। এক কথায় বলতে গেলে এই আসনকে কেন্দ্র করেই এবার গড়ে উঠবে বঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ। শেষ পর্যন্ত তার দিকে যাবে মানুষের আস্থা,জানার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে ভোটের ফল প্রকাশের দিন অর্থাৎ ২রা মে পর্যন্ত।