ছোট পরিবারের সুবিধা অসুবিধা 

একবিংশ শতাব্দীতে পরিবারের ট্যাগলাইন – ছোট পরিবার সুখী পরিবার। স্বামী, স্ত্রী এবং একটি কিংবা ২টি সন্তান। ব্যস! কয়েক দশক আগেও বাবা-মা-কাকা-কাকিমা-জ্যাঠা-জ্যাঠিমা নিয়ে ছিল যৌথ পরিবার। একসঙ্গে থাকা-খাওয়া-হুল্লোড়। নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে প্রত্যেকের গোপনীয়তা রক্ষা হয়। নিজের মতো চলা যায়। আবার একথাও মানতে হবে, যৌথ পরিবার হলে বিপদে-আপদে অনেককে পশে পাওয়া যায়। দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার লোক থাকে। তাই ছোট পরিবারের সুবিধা যেমন আছে, তেমনই কিছু অসুবিধাও আছে। এখানে আমরা নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির ৫ সুবিধা এবং ৫ অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করেছি।

ছোট পরিবারের সুবিধা

 Fathe১) সন্তানের উন্নত জীবনযাপন

পরিবারে অন্য বয়স্ক সদস্য না থাকায় শিশুর জীবনের গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্তগুলি মা-বাবা নিতে পারেন। ভালো বিদ্যালয়, ভালো খাবার দেওয়ার ব্যাপারে অন্যদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না।

২) পরিবারের আর্থিক উন্নতি

মূল রোজগার যৌথ পরিবারের মতো ভাগ হয় না। তাই সম্পদ বৃদ্ধি পায়। জীবনযাত্রার মান বাড়ে। অন্য সদস্যের বোঝা টানার ব্যাপার না থাকায় একজন বেশি করে রোজগার করতে পারে। সন্তান বড় হলে সেও পরিবারকে অর্থ সাহায্য করে। সব দিক থেকেই ছোট পরিবারের আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটে।

 ৩) সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা

সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জয়েন্ট ফ্যামিলির মতো পরিবারের কর্তার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। বা পরিবারের সব বড়দের মত নিয়ে কাজ করতে হয় না। নিজের পছন্দ মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে।

৪) নারীর উন্নত জীবন

যৌথ পরিবারে খেটে মরতে হয় বাড়ির মেয়েদের। কেউ চাকরি করলেও নিস্তার নেই। সংসারের সমস্ত কাজ শেষ করে তবে যেতে পারে চাকরিক্ষেত্রে। ছোট পরিবারে এই ঝামেলা নেই। সদস্যদের সবাইকে কাজ ভাগ করে দেওয়া যায়। শিশুরাও দায়িত্ব নিতে শেখে।

৫) উন্নত শিক্ষা

ছোট পরিবারের সবচেয়ে বড় সুবিধা। দাদু-ঠাকুমার যৌথ পরিবারে পড়তে পড়তে কম বয়সেই বিয়ে দেওয়ার চল আছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে পড়াশোনার ওখানেই ইতি। ছোট পরিবারে নিজের ইচ্ছে মতো যতদূর সম্ভব পড়াশোনা করা যায়। নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে কেরিয়ারের ওপর জোর দেওয়া হয় সবচেয়ে বেশি। তারপর বিয়ে।

ছোট পরিবারের অসুবিধা

Source

১) আত্মকেন্দ্রিক শিশু

সন্তানকে যত ভালবাসাই দেওয়া হোক, দাদু-ঠাকুমার আদর অন্য জিনিস। যৌথ পরিবারে সবার সঙ্গে বেড়ে ওঠায় শিশুর ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয়। ফলে সে হয়ে ওঠে দয়ালু এবং বিনয়ী। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠায় সমস্ত কিছু সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শেখে। ছোট পরিবারে এমন চরিত্র গঠন বেশ শক্ত।

২) স্বার্থপরতা

সব কিছু একা পেতে পেতে শিশুর মধ্যে একধরণের স্বার্থপরতা তৈরি হয়। সে হয়ে ওঠে আত্মকেন্দ্রিক।

৩) একাকীত্ব

ছোট পরিবারের সবচেয়ে বড় অসুবিধা একাকীত্ব। মা-বাবা শিশুকে যতই ভালোবাসা দিক যৌথ পরিবারের মজা সেখানে থাকে না। কাকা-জ্যাঠার ছেলে মেয়েদের সঙ্গে হুল্লোড়ের আনন্দ মেলে না ছোট পরিবারে।

৪) বড়দের আর্শীবাদ বঞ্চিত

প্রত্যেক পরিবারেরই বয়জৈষ্ঠ ব্যক্তির আর্শীবাদ প্রয়োজন। বয়সে বড় মানুষ সবসময় আপনার ভালো চিন্তা করবেন, ভালো চাইবেন। ছোট পরিবার যত ভালোই হোক সেখানে একটা শূণত্যা থাকে।

৫) ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় হয় না

ছোট পরিবার সবসময় তাড়াহুড়ো এবং ছোটাছুটির মধ্যে ব্যস্ত থাকে। ধীরে ধীরে সন্তান বড় হয়। মা-বাবা বৃদ্ধ হন। তাঁরা যেভাবে আলাদা হয়েছিলেন বড় হওয়ার পর সন্তানও ঠিক সেভাবে বাবা-মা’র থেকে আলাদা হয়ে যায়। যৌথ পরিবারের মূল্যবোধ এখানে কাজ করে না।