‘দেশের মাটি’র ‘এসিপি সাহেব’ বাস্তব জীবনেও একজন দুঁদে পুলিশ অফিসার, বর্তমানে বারাসতের ডিআইজি

Prasun Bandopadhyay IPS posted as DIG at Barasat West Bengal

“নোয়া-কিয়ান”র জীবনে দেবদূত হয়ে এসেছেন তিনি। তার উপস্থিতিতেই “নোয়া” এবং “কিয়ান”র প্রায় ভেস্তে যাওয়া বিয়েটা সম্ভব হয়েছে। “দেশের মাটি” (Desher Mati) ধারাবাহিকের এই দুঁদে “এসিপি সাহেব”র চরিত্রটি যিনি স্টার জলসার (Star Jalsha) পর্দায় ফুটিয়ে তুলছেন, তিনি কিন্তু টলিউডের (Tollywood) একেবারেই নতুন মুখ। অবশ্য থিয়েটারের সঙ্গে তার আবালসখ্যতা রয়েছে। তবে তার কিন্তু আরও একটি পরিচয় রয়েছে। অভিনয় জীবনের বাইরেও তিনি একজন দুঁদে পুলিশ কর্তা!

ধারাবাহিকে যেমন একদিকে তিনি সমাজবিরোধী, গুন্ডাদের শায়েস্তা করছেন, অপরদিকে “কিয়ান” এর মা “অন্তরা মুখার্জি”র সঙ্গে চলছে তার ঠান্ডা লড়াই! কয়েক দশক পেরিয়ে “অন্তরা”র সামনে হাজির তার পুরনো প্রেম “অভিমুন্য”। বিদেশি চিকিৎসক “বিক্রমজিৎ মুখার্জি”কে বিয়ে করার জন্য যার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেও দ্বিধা করেননি “অন্তরা” অর্থাৎ অভিনেত্রী সুচিস্মিতা চৌধুরী (Suchismita Chowdhury)।

ধারাবাহিকে “এসিপি অভিমুন্য” এর চরিত্রে যিনি অভিনয় করছেন, বাস্তব জীবনেও কিন্তু তিনি একজন দাপুটে পুলিশ। তিনি বারাসতের ডিআইজি (D.I.G)প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (Prasun Bandopadhyay)। জলপাইগুড়ি আর মালদহ অঞ্চলের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (Prasun Bandopadhyay)। আমফান থেকে শুরু করে খরা, বন্যা, যখনই রাজ্যের উপর কোনও বিপদ এসে আছড়ে পড়েছে, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (Prasun Bandopadhyay) তার টিম নিয়ে সর্বদা বিপদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক প্রশিক্ষণের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।

Desher Mati ACP D.I.G Prasun Banerjee

একদিকে পুলিশ কর্তা হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন, অপরদিকে ধারাবাহিকে অভিনয়, এই দুই দায়িত্বও কিভাবে সামলাচ্ছেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (Prasun Bandopadhyay)? অভিনেতা প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, ‘‘লীনা গঙ্গোপাধ্যায় (Leena Gangopadhyay), শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় (Shaibal Bandopadhyay) আমার কাজের কথা ভেবেই সন্ধের সময় কলটাইম দেন। আমি কৃতজ্ঞ। খাকি পোশাক ছেড়েই সোজা সাজঘরে চলে যাই। সংলাপ বলতে থাকি। আমার সময় কম।’’

ধারাবাহিকে তার উপস্থিতি এবং অভিনয় দর্শকের মন কেড়ে নেয়। এখন তিনি যেখানেই যান না কেন সকলেই তাকে “অভিমুন্য” হিসেবেই চিনছেন। তার আসল পরিচয় অনেকেরই অজানা। তিনি জানাচ্ছেন, ‘‘বেসরকারি হাসপাতালে মা বাবাকে নিয়ে টিকা নিতে গিয়েছিলাম, এক কর্মী এসে চিনতে পেরে আমার অভিনয়ের প্রশংসা করলেন। উনি আমার অন্য পরিচয় অবশ্য জানতেন না।’’

Desher Mati ACP D.I.G Prasun Bandopadhyay

“দেশের মাটি” থেকেই যে তার অভিনয় জীবনের সূত্রপাত, এমনটা কিন্তু নয়। প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (Prasun Bandopadhyay) জানাচ্ছেন,  ‘‘আমি ৬ বছর বয়স থেকে অভিনয় করছি। পরবর্তীকালে তথ্যচিত্রে অভিনয় করেছি। নাটকের দল আছে আমার। নিয়মিত অভিনয় করি। কিন্তু যখন ওই খাকি পোশাকটা পরি তখন ওই ফ্যানপেজ, সংলাপ সব কিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে ফেলি। পুলিশ আর অভিনেতা দুই সত্তাকে আলাদা করতে পারি আমি।’’

জানলে হয়তো অবাক হবেন, বারাসাত থানার ডিআইজি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (Prasun Bandopadhyay) অভিনয়ের পাশাপাশি ছোট-গল্প লেখেন, তথ্যচিত্র বানান! তার তৈরি তথ্যচিত্র “নোটিফিকেশন” দেশ-বিদেশে প্রশংসা অর্জন করেছে। একসময় বালুরঘাটে নিয়মিত নাটকের মঞ্চে অভিনয় করতেন তিনি। ঠিক সেই কারণেই অভিনয় প্রতি তার আগ্রহ দিন প্রতিদিন বাড়তে থাকে। লীনা গঙ্গোপাধ্যায় (Leena Gangopadhyay) তার কাছে “এসিপি সাহেব” এর চরিত্রটি করার প্রস্তাব রাখেন। চরিত্রটি কিভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে হবে, সে সম্পর্কেও তাকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন পরিচালিকা।

Desher Mati ACP D.I.G Prasun Bandopadhyay

“কিয়ান” এর মা “অন্তরা”র জীবনের প্রাক্তন হিসেবে তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন “অভিমুন্য”। এত বছর পর প্রেমিকার জীবনে তার চরিত্রটির উপস্থিতি কি খুব দরকার ছিল? এ প্রসঙ্গে অভিনেতার স্পষ্ট জবাব, ‘‘আমার জীবনে এমন পুরনো প্রেম বা সেই প্রেমিকার উপস্থিতি তো নেই। তাই এ বিষয়ে বলতে পারব না। তবে ধারাবাহিকে অন্তরার যেমন প্রভাবশালী চরিত্র তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে, প্রশ্ন করতে অভিমন্যু চরিত্রের দরকার।’’

অভিনয় না পুলিশ? পরজন্মের পেশা হিসেবে এই দুটি অপশনের মধ্যে থেকে কোন পেশা বাছবেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (Prasun Bandopadhyay)? এ প্রসঙ্গে তিনি জানাচ্ছেন যে শুধু এই জন্মে কেন, পরের জন্মেও তিনি পুলিশ হয়েই ফিরতে চান! প্রয়োজনে কনস্টেবলও হতে রাজি তিনি। প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে অপরাধের সঙ্গে মোকাবিলা করার পাশাপাশি বন্যা থেকে শুরু করে করোনাতেও মানুষের পাশে থাকা যায়। তাই তার এই নির্বাচন। তিনি মনে করেন, “যে খাকি এক বার পরে নিয়েছে তার ডিএনএ তে খাকি ঢুকে যায়”।