কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে M.Com পাস করে ডেলিভারি বয়! সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

49

মাঝে মধ্যেই শোনা যায়, সুইপার কিংবা গ্রুপ ডি-র চাকরির জন্য আবেদন জানান লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে, যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেকটাই বেশি। যে চাকরিতে অষ্টম শ্রেণি পাশ হলেই চলে যায়, সেখানে আবেদন করেন স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর করা ছাত্রছাত্রীরা। যেখান থেকে দেশের বেকারত্বের ছবিটা খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কিছুদিন আগেই তামিলনাড়ুতে সাফাইকর্মী পদের জন্য ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ পাশ করা ছেলেমেয়েদের আবেদন করা ঘিরে হইচই পড়েছিল দেশ জুড়ে। যোগ্য কাজের অভাবের সেই চিত্র সম্প্রতি ফের সামনে এল ভাইরাল হওয়া একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেক স্নাতকোত্তর পাশ করে ‘ডেলিভারি বয়ে’র কাজ করছেন মীরজ। কোনও কাজই হয়ত ছোট নয়। তবে নামজাদা ইউনিভার্সিটি থেকে এম কমের তকমা নিয়েও একজনকে দরজায় দরজায় খাবারের প্যাকেট পৌঁছে দিতে হবে, সেটা খুব একটা কাম্য নয়।

কলকাতার কলেজ ছাত্র শৌভিক দত্ত একটি নামকরা ফুড ডেলিভারি সংস্থার মাধ্যমে খাবার অর্ডার দিয়েছিলেন। অর্ডার ডেলিভারি পাওয়ার সময় তিনি জানতে পারলেন তাঁকে যে ছেলেটি খাবার পৌঁছে দিতে আসবে সে কমার্সে স্নাতকোত্তর। পোস্ট গ্রাজুয়েশন করা একজন যুবক খাবার পৌঁছে দিতে আসবে দেখে খারাপ লাগে শৌভিকের। তিনি সমস্ত বিষয়টি ফেসবুকে লেখেন।

Probably the only time i regret ordering food from ZomatoIt was one of those usual checkouts ordering food,when i was…

Shouvik Dutta यांनी वर पोस्ट केले बुधवार, ६ फेब्रुवारी, २०१९

ফেসবুকের ওই পোস্টে শৌভিক লিখেছেন, ‘জোমাটো থেকে খাবার ডেলিভারি পাওয়ার সময় নিজেকে অনুতপ্ত মনে হচ্ছিল।’ তারপরই নিজের অনুতাপের কারণ তুলে ধরেছেন তিনি। খাবার অর্ডার দেওয়ার পর ডেলিভারির এজেন্টের পরিচয়ে লেখা ছিল, ‘মিরাজ কমার্সে স্নাতকোত্তর। বাংলা ও হিন্দি উভয় ভাষাতেই কথা বলতে পারে সে।’

কমার্সে স্নাতকোত্তর মিরাজ শৌভিকের হাতে খাবার পৌঁছে দিয়ে যখন বলেছিল, ‘স্যার একটু রেটিংটা দিয়ে দেবেন।’ মিরাজের মুখে এই কথা শোনার পর তাঁর ভীষণ অস্বস্তিতে পড়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন শৌভিক।

তিনি তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “এই দেশের এখন পরিবর্তন প্রয়োজন, এই রাজ্যের এখন পরিবর্তন প্রয়োজন। চাকরির সংস্থান তৈরি করা প্রয়োজন, আমরা কঠিন সময়ের মধ্যে বাস করছি, দেশকে বদলাতে হবেই।”শৌভিক প্রশ্ন তুলেছেন, একজন স্নাতকোত্তর যখন একজন স্নাতক স্তরের কলেজ ছাত্রকে খাবার পৌঁছে দিয়ে যায় তখন সেই ছাত্রের কাছে কী বার্তা যায়?

শুধু শৌভিক নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে অনেকেরই। ওড়িশা থেকে আরও একজন স্ক্রিনশট দিয়ে দেখান, তাঁর ডেলিভারি বয় ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার। চাকরি না পেয়ে এই কাজ করতে হচ্ছে তাঁকে। এমনকি বেঙ্গালুরুর মত শহরেও একই ছবি। সায়ন চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে পোস্ট করে দেখিয়েছেন, বেঙ্গালুরুতে সতীশ কুমার নামে এক ডেলিভারি বয়ের যোগ্যতা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন।

আরও পড়ুন ঃ এমএ পাশ করেও চাকরি না পেয়ে ট্রেনে হকারি করেন প্রতিবন্ধী যুবক

শিক্ষার আর কোন মানই থাকল না, এমনই লিখেছেন সৌভিক৷ গোটা ঘটনায় বেশ হতাশ সৌভিক প্রশ্ন তুলেছেন যে চাকরির বাজার এতটাই খারাপ? এভাবে একজন স্নাতক, স্নাতকোত্তর এক ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করবে ? সৌভিকের এই পোস্টকে লাইক ও শেয়ার করে সমর্থন জানিয়েছেন বহু মানুষ৷ তার পোস্টটি এখন ভাইরাল৷

Loading...