জেল ফেরত পরীমণিকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দিলেন বাড়িওয়ালা, প্রতিবাদে কলম ধরলেন তসলিমা

পরীমণিকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে তাড়ালেন বাড়িওয়ালা, আশ্রয়হীন পরীমণির জন্য কলম ধরলেন তসলিমা

সদ্য জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন বাংলাদেশী (Bangladesh) মডেল-অভিনেত্রী পরীমনি (Porimoni)। বিগত এক মাস যাবত ব্যক্তিগত জীবনে বেশ বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হয়েছে নায়িকাকে। মাদককাণ্ডে অভিযুক্ত পরীমনি বেশ কিছুদিন জেলে কাটানোর পর সদ্য জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। জেল থেকে ছাড়া পেয়েই আশ্রয়হীন হয়ে পড়লেন অভিনেত্রী। বাড়ি ফিরে আসতেই তাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো জেলফেরত পরীমনিকে কিছুতেই বাড়িতে থাকতে দেওয়া হবে না!

জেল থেকে ফিরে এসে বাড়িওয়ালার এমন নোটিশ পেয়ে রীতিমতো মাথায় হাত পরীমনির। নোটিস পেয়েই অসহায় পরীমণির প্রশ্ন, ‘‘আমি এখন কোথায় যাব!’’ পরীমনির এই অসহায়তার পরিপ্রেক্ষিতে তার হয়ে নেটমাধ্যমে ফের কলম ধরলেন তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasreen)। নেট মাধ্যমে জানালেন, একসময় তাকেও এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। ‘ষড়যন্ত্র’ করা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। সে সময় তিনি কাউকে পাশে পাননি। আজ সেই একই পরিস্থিতির সম্মুখীন পরীমনি।

তসলিমা জানিয়েছেন ভারতসহ বিভিন্ন দেশে তার সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবং লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের দিকে অভিযোগের আঙুলও তুলেছেন তসলিমা। তিনি তার দীর্ঘ পোস্টটিতে লিখেছেন, “বাড়ি ছাড়ার নোটিশটি হাতে নিয়ে পরীমণি বলছে, ‘আমি এখন কোথায় যাবো, কে আমাকে এই সময় বাড়ি ভাড়া দেবে, আমাকে কি তাহলে ঢাকা ছাড়তে হবে, দেশ ছাড়তে হবে!!’ এরকম আমিও বলেছিলাম সেদিন! পরীমণির অসহায়তা আমি অন্তর দিয়ে অনুভব করছি।”

নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তসলিমা লিখেছেন, “পরীমণি জেল থেকে বেরোলো, বাড়িতে ঢুকলো আর দেখলো তাকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিয়েছে বাড়িওয়ালা। এই ভয়ংকর দুঃসময়কে আমি খুব ভালো জানি, যেহেতু নিজের জীবনেই ঘটেছে এমন ঘটনা। মনে পড়ছে কলকাতার সেই দিনগুলোর কথা। ৭ নম্বর রওডন স্ট্রিটে ডাক্তার দেবল সেনের বাড়িতে আমি তখন ভাড়া থাকি। ২০০৭ সাল। পুলিশ কমিশনার এসে জানিয়ে যাচ্ছেন আমাকে দেশ ছাড়তে বলছেন মুখ্যমন্ত্রী, দেশ যদি আপাতত না-ও ছাড়ি, রাজ্য আমাকে আজ বা কালের মধ্যেই ছাড়তে হবে।”

“দেশের দরজা বহুকাল বন্ধ। ইউরোপ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রাণের টানে আর ভাষার টানে আশ্রয় নিলাম, আর আমাকে কিনা এই আশ্রয়টিও ছাড়তে হবে, কোথাও তো আর ঘর বাড়ি নেই আমার, যাবো কোথায়! আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরিয়ে নিতে চাইছে কারা!” তৎকালীন সময়ে রাজনীতি এবং সাহিত্য জগতের প্রতি অভিযোগের আঙুল তুলে তিনি লিখেছেন, “আমি সম্ভবত যত না রাজনীতিকদের ষড়যন্ত্রের শিকার, তার চেয়ে বেশি শিকার সাহিত্যের মাফিয়া ডনদের রাজনীতির।”

তসলিমা আরও লিখেছেন, “যখন আশে পাশে কেউ নেই, বিপদ দেখে বন্ধুদের উপস্থিতি একশ’ থেকে প্রায় শূন্যে চলে এলো, একা একা আমি চিৎকার করছি, আমি রাজ্য ছাড়বো না, শহর ছাড়বো না, বাড়ি ছাড়বো না, কারণ আমি কোনও অন্যায় করিনি, আমি মানবতার কথা লিখি। মানবাধিকারের জন্য সংগ্রাম করা, মানবতার কথা লেখা অন্যায় তো নয়!”

প্রয়াত সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, “ভালোবেসে এক বাঙালি লেখক বাংলায় বাস করছে, তাকে বাংলা থেকে বের করে দেওয়া, তাকে নিষিদ্ধ করা মানে তার লেখক সত্ত্বাকে ধ্বংস করে দেওয়া— তাই আমি অস্বীকার করেছিলাম রাজ্য ছাড়তে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় যখন ফোন করে বললেন আমাকে রাজ্য ছাড়তেই হবে, বুঝলাম যাদের উচিত ছিল পাশে দাঁড়াবার, তারাই পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। কলকাতা তো দেখিয়ে দিয়েছে লেখকেরা কী করে আরেক লেখকের বই নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়, লেখকেরা কী করে আরেক লেখকের সর্বনাশ করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।”

“চারদিক থেকে যখন অন্ধকার নেমে আসছে, তখন আমার বাড়িওয়ালা আমাকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিয়েছিলেন! সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রীই বাড়িওয়ালাকে বলেছিলেন ওই নোটিশটি দিতে। ষড়যন্ত্র কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা সেদিন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম।” তবে তিনি আশাবাদী পরীমনির পাশে দাঁড়ানোর মানুষের অভাব হবে না। তিনি লিখেছেন, “পরীমণির শত্রু যেমন কম নয়, অনুরাগী শুভানুধ্যায়ীও তেমন কম নয়, তারা এই দুঃসময়ে তার পাশে দাঁড়াবে, আমার বিশ্বাস। অসহায় আমার পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। প্রথমে রাজ্য, তারপর দেশ ছাড়তে আমাকে বাধ্য করা হয়েছিল।”