অভিনয়ের আড়ালে দেহব্যবসা, গ্রেফতার জনপ্রিয় বাঙালি অভিনেত্রী

মরিয়ম আক্তার মৌ, ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার পর এবার বাংলাদেশের (Bangladesh) পুলিশের জালে জড়ালেন ঢালিউডের (Dhallywood) অপর এক অভিনেত্রী পরীমনি (Porimoni)। মাদককাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে পরীকে গ্রেপ্তার করেছেন বাংলাদেশের তদন্তকারী অফিসাররা। বুধবার দুপুরে পরীমনির বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে যান পুলিশরা। তবে পরী ভয়ে দরজা খুলছিলেন না। দীর্ঘক্ষণ পরিমনির বাড়ির দরজার সামনেই অপেক্ষা করতে হয়েছিলো তদন্তকারী অফিসারদের।

যে সময় ঘটনাটি ঘটছিল, সেই সময় ফেসবুকে লাইভে ছিলেন অভিনেত্রী। নেটিজেনদের তিনি বলেন, তিনি আশঙ্কা করছেন তার বাড়িতে ডাকাত পড়েছে! যদিও পরে অবশ্য দরজা খুলে দিতে বাধ্য হন পরী। তদন্ত চালানোর পর পরীমনির বাড়ি থেকে ‘আইস’, ‘এলএসডি’র মতো মাদক উদ্ধার করা হয়েছিল। নিষিদ্ধ ওষুধ সংগ্রহে রাখার অপরাধে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। একের পর এক বাংলাদেশী সুন্দরী পুলিশের জালে জড়িয়ে যাচ্ছেন। স্বভাবতই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ঢালিউড।

বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার ঢাকাই সিনেমার আলোচিত ও রহস্যময়ী নায়িকা পরীমনি চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। জিজ্ঞাসাবাদে পরীমনির কাছ থেকে বেশকিছু ব্যাপক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।পরীমনি চলচ্চিত্রের আড়ালে খারাপ ব্যবসা করতেন তিনি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া অন্ধকার পথে কিছু তথাকথিত মডেলদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন মানুষকে মনোরঞ্জন করাতেন বলেও জানা  যাচ্ছে ।

পরীমনির আসল নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। তবে বাংলাদেশের চলচিত্র জগতে তিনি পরীমনি বলেই খ্যাত। তার জন্ম বাংলাদেশের খুলনার সাতক্ষীরায়। ১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর তার জন্ম হয়। খুব ছোট বয়সেই বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন তিনি। এরপর পিরোজপুরে দাদু শামসুল হকের কাছেই বড় হয়েছেন পরী। সেখানেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বাংলায় অনার্স নিয়ে কলেজে পড়তে শুরু করেন তিনি।

কলেজে থাকাকালীনই ঢাকায় চলে আসেন পরী। পড়তে পড়তেই অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন তিনি। ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি ফিল্ম জগতে আসেন। অভিনেত্রী ছাড়াও তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত মডেল। ঢালিউডে খুব দ্রুত উত্তরণ হচ্ছিল তার। ১ বছরের মধ্যেই ২০টি ছবির কাজের স্বাক্ষর করেছিলেন তিনি। আর এরপর থেকেই কার্যত তার বিরুদ্ধে বহু গুঞ্জন রটতে থাকে ইন্ডাস্ট্রিতে।

ব্যক্তিগত জীবনে বরাবর বিতর্কের শীর্ষে অবস্থান করেছেন পরীমনি। ২০১৯ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি অবশ্য তামিম হাসানের সঙ্গে তার বাগদান হয়ে গিয়েছিল। তবে পরে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর ২০২০ সালের ৯ মার্চ পরিচালক কামরুজ্জামান রনির সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় পরীর। যদিও বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। শহরের বহু অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে তার ওঠাবসা ছিল। ঢাকা শহরের বহু পাঁচতারা হোটেলেও নাকি পরীর যাতায়াত ছিল বলে গুঞ্জন ওঠে।

এরপর পরীর বিরুদ্ধে বাড়িতে মিনিবার চালানোর অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের তদন্ত করার স্বার্থে বুধবার দুপুরে পরীর বাড়িতে তদন্ত চালাতে যান র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের তথা র‌্যাবের সদস্যরা। তার বাড়িতে তদন্ত চালিয়ে র‌্যাবের সদস্যরা রাশিয়ান ভদকা সহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করেছেন। এরমধ্যে এলএসডি এবং আইসের মতো বিষাক্ত মাদকও উদ্ধার করা হয়েছে। পরিমনীর সঙ্গেই বুধবার রাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার নজরুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রাজের সঙ্গে পর্ন ফিল্মের যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ পুলিশের। বিত্তবান ব্যবসায়ী ও উচ্চবিত্ত ঘরের সন্তানদের ভিডিও তৈরি করে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে রাজের বিরুদ্ধে। যদি সেই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে রাজ এবং পরীমনির বিরুদ্ধে বড়োসড়ো মামলা দায়ের হতে পারে বলে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঢাকার এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং খুনের প্রচেষ্টার অভিযোগ তুলেছিলেন পরীমনি। এই প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্য দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এবার পুলিসের জালে জড়িয়ে পড়েছেন খোদ পরীমনি।