হাতে আর ৩দিন, বন্ধের মুখে সিরিয়ালের সম্প্রচার, ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত টলিউড

করোনাকালে বারংবার নানান বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে বিনোদন জগতকে। করোনার প্রথম পর্যায়ে দীর্ঘ প্রায় আট মাস ধরে বন্ধ ছিল টলিপাড়া। তারপর যদিও বা কাজ শুরু হলো, টলিউড ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরতে শুরু করলো, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে আবারও সব বন্ধ হওয়ার মুখে! গত বছর থেকে শিক্ষা নিয়ে অবশ্য দিনরাত পরিশ্রম করে বেশ কিছুদিনের পর্ব আগাম ব্যাকআপ হিসেবে রেখে দিয়েছিল চ্যানেল কর্তৃপক্ষ।

সেই দিয়েই আপাতত কোনওরকমে ধারাবাহিক সম্প্রচারের কাজ চলছে। কিন্তু সেই সঞ্চয়ও তো শেষ হয়ে আসছে। এই যেমন স্টার জলসার “শ্রীময়ী” ধারাবাহিকটি ২রা জুন পর্যন্ত সম্প্রচার করা যাবে। “মোহর” ১লা জুন পর্যন্ত, “খড়কুটো” ৪ ঠা জুন পর্যন্ত এবং “দেশের মাটি” ধারাবাহিকটি আগামী ২রা জুন পর্যন্তই সম্প্রচার করা যাবে। তারপরেই বন্ধ হয়ে যাবে ধারাবাহিকের সম্প্রচার। শুট ফ্রম হোম চালু না হলে অন্য উপায় কী হবে?

গত বছরের মতো এই বছরেও বাড়ি থেকেই ধারাবাহিকের জন্য শুটিং শুরু করার ভাবনাচিন্তা চালিয়েছিল আর্টিস্ট ফোরাম। বেশ কিছু ধারাবাহিকের প্রযোজক এবং পরিচালকেরা সেই মতো কাজও শুরু করে দিয়েছিলেন। তবে বাধ সেধেছে ফেডারেশন। বাড়ি থেকে শুটিং করতে দিতে তারা মোটেই রাজি নয়। অতএব আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশন এখন ধারাবাহিকের শুটিং নিয়ে কার্যত দ্বিধা-বিভক্ত। আর এই দোটানার মধ্যেই আটকে রয়েছে ধারাবাহিকের শুটিং।

Bengali TV Serials

কেন বাধা দিচ্ছে ফেডারেশন? আসলে ফেডারেশনের দাবি, যদি বাড়ি থেকে শুটিং করা হয় সেক্ষেত্রে মেকআপ আর্টিস্ট, টেকনিশিয়ানদের কোনও প্রয়োজনই পড়বে না। সেক্ষেত্রে অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং প্রোডিউসারসদের উপার্জন বন্ধ হবে না ঠিকই, কিন্তু অন্যান্য কলাকুশলীদের উপার্জন বন্ধ হয়ে যাবে। তাই তারা বাড়ি থেকে শুটিং পদ্ধতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন।

আরও পড়ুন : সর্বকালের সেরা ১৩ বাংলা সিরিয়াল, যা কোনওদিনও ভুলবেন না দর্শকরা

ফেডারেশনের এমন আশঙ্কা কার্যত উড়িয়েই দিচ্ছে আর্টিস্ট ফোরাম। মঙ্গলবার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন প্রোডিউসর্স (ডব্লিউএটিপি)-এর তরফ থেকে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে, বাড়ি থেকে শুটিং করা এপিসোডগুলি সম্প্রচার করা হলে সে ক্ষেত্রে ধারাবাহিকের সঙ্গে জড়িত সকল কলাকুশলীও তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবেন। ধারাবাহিকের সম্প্রচার যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ইউনিটের সব সদস্যই দৈনিক ১০ ঘণ্টা কাজের ভিত্তিতে পারিশ্রমিক পাবেন।

Bengali TV Serials

এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে যে শুট ফ্রম হোম বাধাপ্রাপ্ত হলে সে ক্ষেত্রে যদি ধারাবাহিকের সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায় তাহলে ইউনিট মেম্বারদের পারিশ্রমিক দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়া হবে না। আর্টিস্ট ফোরামের একাংশই এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত পোষণ করছেন। “খড়কুটো” ধারাবাহিকের “পটকা” তথা অম্বরিশ ভট্টাচার্য্য বললেন, “বহু মানুষ এই ধারাবাহিকগুলোর অপেক্ষায় বসে থাকেন। তাই সব মতানৈক্য ভুলে একটা সিদ্ধান্তে এলে আবার কাজ শুরু করা যাবে”।

আরও পড়ুন : “দেশের মাটি”র “এসিপি সাহেব” আসলে কে, রইলো তার আসল পরিচয়

Bengali TV Serials

আরও পড়ুন : রূপে লক্ষ্মী গুণে সরস্বতী, অভিনেতা টোটার স্ত্রী সৌন্দর্যে হার মানাবে যেকোনও টলিউড নায়িকাদের

প্রোডিউসর্স গিল্ডের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সকল কলাকুশলীদের রুটি-রুজির জোগাড় করতে এবং দর্শকদের বিনোদন জোগাতে শুটিং ফ্রম হোম, একমাত্র উপায়। তবে ফেডারেশন তেমনটা মনে করে না। বাড়ি থেকে শুটিং বন্ধ করার দাবি তুলে ইতিমধ্যেই ধারাবাহিকের প্রযোজকদের কাছে কড়া চিঠি পাঠিয়েছে ফেডারেশন। মঙ্গলবারের বিজ্ঞপ্তির পর ফেডারেশন সংগঠনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস জানালেন, ফোরামের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে খুব শীঘ্রই একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ আগামী দিনে ধারাবাহিকগুলির ভবিষ্যৎ কার্যত দোলাচলেই থেকে গেল।