করোনা মোকাবিলায় দেশবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর ২২টি অনুরোধ

pm request indians to follow these 22 steps

লকডাউন মেনে চলাটাই এখন একমাত্র প্রতিরোধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেহেতু করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন এখনও অবধি আবিষ্কৃত হয়নি। তাই আমাদের নিজেদেরকেই সচেতন ভাবে চলাফেরা করতে হবে। মেনে চলতে হবে লকডাউনের যাবতীয় বিধি নিষেধ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজী প্রথমে ১৪ই এপ্রিল অবধি লকডাউনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন কিন্তু তারপর এই সময়সীমা তিনি আবার বাড়িয়ে দেন জণগণের মঙ্গলের কথা মাথায় রেখে সাথে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন।

১) নিজেদের স্বার্থে, নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখতে ৩রা মে পর্যন্ত লকডাউনের যাবতীয় নিয়মকানুন মেনে চলতে চেষ্টা করুন। একমাত্র লকডাউনের সাহায্যেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।

২) ঘরে থাকুন। ভীষন প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোবেন না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলুন। বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে বেরোলে অবশ্যই মাস্ক পড়ুন। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন। এই সব যাবতীয় নিয়মগুলি নিষ্ঠাভরে পালন করুন।

৩) দেশের এই দুর্দিনে যারা নিষ্ঠার সঙ্গে সেবার কাজে রত যেমন চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী সকলকে সম্মান করুন।‌ উনাদের জন্য গর্ব অনুভব করুন।

৪) এই সংকটের মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী ছোট উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলছেন, তারা যেন এই দুঃসময়ে কাউকে চাকরি থেকে বরখাস্ত না করেন।

৫) এই লকডাউনে সবথেকে খারাপ অবস্থা গরিবদের। তাই তিনি বলেছেন সকলেই যেন যথাসম্ভব গরীব পরিবারের পাশে দাঁড়ান। অবলা অসহায় পশুদের একটু দেখভাল করতে হবে।

৬) করোনাভাইরাসের মোকাবিলা করার জন্য তিনি আরোগ্য সেতু মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করার কথা বলেছেন।

৭) শরীরে প্রতিরোধ বা ইমিউনিটি শক্তিকে বাড়িয়ে তুলতে হবে। কারণ যাদের ইমিউনিটি শক্তি বেশি এই ভাইরাস তাদের কাবু করতে পারবে না। তাই শরীরে ইমিউনিটি বাড়াতে মানুষ যেন আয়ুষ মন্ত্রকের নির্দেশিকাগুলি মেনে চলেন।

৮) সীতা মায়ের করা ভুল যেন আমরা আবার না করি। আমরা সকলে যেন সোশ্যাল ডিসট্যান্স মেনে চলি সব জায়গায়।

৯) বয়স্ক মানুষদের, বাচ্চা শিশুদের ইমিউনিটি পাওয়ার কম হয় তাই এদের সংক্রমণ বেশি হ‌ওয়ার সম্ভাবনা। তাই এদের বিশেষ খেয়াল রাখুন‌।বিশেষত তাদের হার্ট দুর্বল বা সুগার ইত্যাদি আছে।

১০) দেশের সকল মানুষদের সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন তিনি।

১১) করোনার ভ্যাকসিন বানানোর জন্য গবেষকদের আহ্বান করেছেন।ভারতের যুব বিজ্ঞানীদের তিনি অনুরোধ করেছেন এই যুদ্ধের শরিক হতে।

১২) আমাদের দেশে কোভিড-১৯ মোকাবিলা করার জন্য ৬০০ টির বেশি হাসপাতাল রয়েছে। এই হাসপাতালের সংখ্যা আরও বাড়তে হবে।

১৩) ২০ই এপ্রিল থেকে তিনি চলাফেরা চালুর সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

১৪) দেশে ওষুধ – খাদ্যশস্য‌ সবকিছুই পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। চিন্তার কোনো কারণ নেই।

১৫) এই সংকটের মুহূর্তে কৃষকদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তাদেরকে কিছু ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

১৬) এখন রবিশষ্য কাটার মরশুম তাই এই বিষয়টিও চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে। দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করতে বলা হচ্ছে।

১৭) দিনমজুর মানুষদের কথা ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে।বুধবার এই বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করে বলা হবে।

১৮) করোনার হটস্পট এলাকাগুলি থেকে যাতে কেউ বাইরে না বেরোয় এই বিষয়টি কড়া ভাবে দেখতে হবে। যদি নতুন কোনো এলাকা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয় তাহলে সেক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যাবে আরও বেশি। আরই কঠোর হতে হবে। কঠোরভাবে সব নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সেখানে আরও বেশি করে পরীক্ষা করতে হবে। হটস্পট এলাকাগুলিতে মোটকথা তীক্ষ্ণভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

১৯) করোনাতে মৃত্যু হলে আমাদের উদ্বেগ অনেক বেড়ে যায় তাই দয়া করে আমার অনুরোধ ৩ মে অবধি আপনারা ঘরেই থাকুন। সারা বিশ্ব লকডাউনের বিষয়ে একমত হয়েছে। এমনকি সব রাজ্যও এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই দেশের আর্থিক
ক্ষতির মাত্রা বেড়ে যাবে জেনেও দেশের মানুষের জীবনের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২০) ভারতের অনেক উৎসব যেমন ১লা বৈশাখ ও ভারতবাসী পালন করছেন ঘরে বসে। ভারত সকলের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। এটা এমন রোগ যা সব দেশেই মৃত্যু হার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আমাদের এটা মাথায় রেখে চলতে হবে। যদিও আমাদের ভারত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সবরকম চেষ্টা করে চলেছে।

২১) করোনা সংক্রমিত দেশ থেকে আসা মানুষদের পরীক্ষা করা আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। সেই সকল মানুষদের কোয়রান্টিনে রাখা হয়েছে।

২২) দেশের স্বার্থে অনেকেই ঘরে ফিরছেন না। অনেকেই ঘর পরিবার থেকে দূরে থাকছেন। এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক সৈনিকের ত্যাগ ও সংযমের জন্যই ক্ষতি অনেকটা সামাল দেওয়া গেছে।