এক ক্লিকেই বাড়িতে আসবে গঙ্গাসাগরের জল, জানুন Online -এ পুন্যস্নানের পদ্ধতি

মহর্ষি কপিল দেবের সাধনার পীঠস্থান ছিল গঙ্গাসাগর সংগম। শোনা যায় কপিল দেবের অভিশাপে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল সাগর রাজার ষাট হাজার পুত্র। সাগর রাজার দৌহিত্র ভগীরথ তাদের খুঁজতে এলে কপিল মুনি তাকে বলেন, সাগর রাজার ষাট পুত্রকে মুক্ত করতে হলে নিয়ে আসতে হবে গঙ্গাকে।ভগীরথ গঙ্গাকে নিয়ে আসার পর মুক্তি পেলেন সাগর রাজার পুত্ররা। তারপর থেকেই গঙ্গাসাগর হয়ে উঠেছেন বিখ্যাত হিন্দু পিঠস্থানের মধ্যে একটি।

Source

প্রত্যেক বছর গঙ্গাসাগর মেলা ঘিরে সাধুসন্ত এবং ভক্তদের ভিড় জমে। উচ্ছসিত ভক্তরা আসেন দূরদূরান্ত থেকে। তাদের বিশ্বাস গঙ্গাসাগরের জলে স্নান করলে ধুয়ে যায় পাপ। ভক্তদের ভিড় সামলাতে হাঁপিয়ে ওঠেন জেলা প্রশাসন। বহু ভক্তরা সরাসরি এসে সামিল হলেও বাড়িতে বসে আশাহত হন অনেকে। বিভিন্ন কারনে যাদের গঙ্গাসাগরে এসে ওঠা হয়না এবার তাদের জন্য খুশির খবর দিলেন দক্ষিন ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসন। ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় এবার বাড়ি বসেই গঙ্গাসাগরের জল মাথায় ঢেলে পুণ্য অর্জন করতে পারেন। শুধু গঙ্গাজল নয় সাথে মিলবে কপিলমুনির মন্দিরের প্রসাদ ও সিঁদুর।

শুক্রবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে দক্ষিন ২৪ পরগনার জেলাশাসক পি উলগানাথন জানান,অনেকেই ইচ্ছে থাকলেও ভিড় ঠেলে গঙ্গাসাগরে আসতে পারেন না। তাদের কথাও ভেবেছেন জেলা প্রশাসন। আগামী ১৫ই জানুয়ারি, বুধবার দুপুর ১ টা থেকে ৩ টে পর্যন্ত থাকবে মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্ন। প্রযুক্তির উন্নতিতে মকর সংক্রান্তির দিন বাড়ি বসেই মাথায় পবিত্র গঙ্গাজল ঢালতে পারবেন পুন্যার্থীরা।

অনলাইনে অর্ডার করার পর কেবলমাত্র কুরিয়ার সার্ভিসের খরচ দিলেই এবার পুণ্যার্থীরা বাড়িতে বসে পেয়ে যাবেন গঙ্গা সাগরের জল, কপিলমুনি মন্দিরের সিঁদুর ও প্রসাদ। গঙ্গাসাগরের মেলাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসন নতুন নতুন পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। আর এবারও তার অন্যথা না হয়ে এই অনলাইন অর্ডারের অভিনব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অনলাইনে গঙ্গাসাগরের জল ও প্রসাদ অর্ডার করার জন্য www.gangasagar.in ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে রয়েছে ‘e snan’ নামে একটি অপশন। সেখানে ক্লিক করার পর নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার দেওয়ার পর শর্ততে ক্লিক করে অনলাইনে দেওয়া যাবে অর্ডার গঙ্গাজল ও প্রসাদের। ডেলিভারি চার্জ ও প্যাকিং খরচ হিসাবে নেওয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা।

Source

শুক্রবার একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে এই ওয়েবসাইটের বিষয়ে বিস্তারিত জানান দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জেলাশাসক পি উলগানাথন। বেশ কয়েকটি কুরিয়ার সার্ভিসের সাথে যোগাযোগ করে তাঁদের বিশ্বাস সঠিক সময়ে পুণ্যার্থীরা গঙ্গাসাগরের জল ও প্রসাদ পেয়ে যাবেন, সুযোগ পাবেন অনলাইনে বাড়িতে বসে পুণ্য স্নানের।

আরও পড়ুন : মকর সংক্রান্তির এই পূণ্যলগ্নে স্নান করলেই দূর হবে অমঙ্গল

প্রত্যেক বছরই গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রকম পরিকল্পনা থাকে দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের। এই বছর গঙ্গাকে দূষণ মুক্ত রাখতে প্লাস্টিক ব্যাবহার নিষিদ্ধ করেছেন তারা। মূল দ্বার দিয়ে ঢোকার সময় ভক্তদের হাতে প্লাস্টিক দেখতে পেলে নিয়ে নেওয়া হচ্ছে, ব্যাবহার করা যাবে কাগজের ঠোঙা। এমনকি অনলাইন গঙ্গার জল পিতলের পাত্রে পাঠানো হচ্ছে বাড়ি বাড়ি। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে পূন্যার্থীদের গঙ্গাসাগর প্রাঙ্গন পরিষ্কার রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। নিয়োগ করা হয়েছে প্রায় পাঁচশো মহিলা ও পুরুষ সাফাইকর্মী। গঙ্গাসাগর তীরের প্রাঙ্গনে রাখা হয়েছে দুহাজারের উপর আবর্জনা ফেলার ভ্যাট।